ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

United Nations General Assembly ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার সনদ ঘোষণা করে। এ সনদে উল্লেখিত ধারাসমূহে বিশ্বের প্রতিটি মানুষের সহজাত মর্যাদা, সমান অধিকার ও সমতা রক্ষার। কথা বলা হয়। এছাড়া এ সনদে বিশেষভাবে বিশ্বের সকল মানুষের। মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ এবং সকল বর্ণ ও ধর্মের মানুষের সমমর্যাদার কথা বলা হয়েছে, যা বিশ্বমানবের সকলকে একই সূত্রে গ্রথিত করে। এভবে এ সনদ বিশ্বমানবতার মুক্তির ম্যাগনাকার্টা হিসেবে বিশ্ববিবেককে। সচেতন করে তোলে।

  1. ক)

    'হিজরত' শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    মুহাজির ও আনসার কারা? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত সনদের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন সনদের সাদৃশ্য আছে? বিশ্লেষণ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উত্ত সনদে পৃথিবীর সকল ধর্মের মানুষের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'হিজরত' শব্দের আভিধানিক অর্থ দেশত্যাগ করা, প্রবাস গমন করা বা এক স্থান ত্যাগ করে অন্য স্থানে চলে যাওয়া।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ইসলামের ইতিহাসে মক্কা থেকে মদিনায় স্থানান্তরিত মুসলিমদের 'মুহাজির' এবং মদিনার যেসব মুসলিম তাঁদের আশ্রয় ও সাহায্য প্রদান করেছিলেন তাঁদের 'আনসার' বলা হয়।

    ইসলাম প্রচারের জন্য কাফিরদের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে মহানবী (সা.)-এর নির্দেশে এবং তাঁর সাথে মক্কার যেসকল মুসলমান নিজ জন্মভূমি ও সহায়-সম্পদ ত্যাগ করে মদিনায় হিজরত করেছিলেন, তাঁদের মুহাজির বলা হয়। আর মদিনার যেসব স্থানীয় মুসলমান এই নিঃস্ব মুহাজিরদের সাদরে গ্রহণ করে বাসস্থান, খাদ্য ও সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে ভ্রাতৃত্বের অনন্য নজির স্থাপন করেছিলেন, তাঁদের আনসার বা সাহায্যকারী বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত মানবাধিকার সনদের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ঐতিহাসিক 'মদিনা সনদ'-এর সাদৃশ্য রয়েছে।

    ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মহানবী (সা.) মদিনায় হিজরত করার পর সেখানকার আনসার, মুহাজির, ইহুদি ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ৪৭টি ধারাসম্বলিত একটি লিখিত চুক্তি প্রণয়ন করেন, যা 'মদিনা সনদ' নামে পরিচিত। এটি পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধান হিসেবে স্বীকৃত।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, জাতিসংঘের ১৯৪৮ সালের মানবাধিকার সনদে মানুষের সহজাত মর্যাদা, সমতা, মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ এবং সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সহাবস্থানের কথা বলা হয়েছে। একইভাবে মদিনা সনদেও সকল ধর্মাবলম্বীদের পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা, রক্তপাত নিষিদ্ধকরণ, নাগরিক নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক নিশ্চিত করা হয়েছিল। উভয় সনদই বিশ্বমানবতার মুক্তি ও অধিকারের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। তাই উদ্দীপকে বর্ণিত সনদের সাথে মহানবী (সা.) প্রণীত মদিনা সনদের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মদিনা সনদে পৃথিবীর সকল ধর্মের মানুষের মৌলিক ও ধর্মীয় অধিকার সংরক্ষণের সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।

    হিজরতের পর মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনা রাষ্ট্রের সকল সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঐতিহাসিক মদিনা সনদ প্রণয়ন করেন। এই সনদে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয় যে, মদিনায় বসবাসরত ইহুদি, পৌত্তলিক ও মুসলমান সবাই মিলে একটি সাধারণ রাজনৈতিক উম্মাহ বা সম্প্রদায় গঠন করবে।

    সনদের গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলোতে সকল ধর্মের মানুষের অধিকার সংরক্ষণের স্পষ্ট বিধান রাখা হয়েছিল। যেমন:
    ১. ধর্মীয় স্বাধীনতা: ইহুদি ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা মুসলমানদের মতো পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবে; কারও ধর্মে কেউ হস্তক্ষেপ করবে না।
    ২. জীবনের নিরাপত্তা: কোনো সম্প্রদায়ের ওপর অন্যায় অবিচার করা যাবে না এবং অপরাধীকে এককভাবে দায়ী করা হবে, পুরো জাতিকে নয়।
    ৩. সম্পত্তির অধিকার: কোনো নাগরিকের ধন-সম্পদের ওপর অন্যায় হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ করা হয়।
    ৪. পারস্পরিক সহযোগিতা ও প্রতিরক্ষা: বহিরাগত শত্রু মদিনা আক্রমণ করলে সকল সম্প্রদায় সম্মিলিতভাবে যুদ্ধ করবে এবং সমানভাবে প্রতিরক্ষার দায়িত্ব ও ব্যয়ভার বহন করবে।

    অতএব, মদিনা সনদের মাধ্যমে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক মানবিক ও নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ করে এক অনন্য পরমতসহিষ্ণু ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন