ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত কৃষ্ণাঙ্গ নেতা ছিলেন নেলসন ম্যান্ডেলা। রাজপরিবারে জন্ম হলেও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন- সংগ্রামের কারণে তিনি দীর্ঘ আটাশ বছর কারাবাস ছিলেন। ছাত্রজীবনে বর্ণবাদী আচরণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হন। তার আদর্শে গড়া দল এএনসি (আফ্রিকান খোশনাল কংগ্রেস)-কে এক পর্যায়ে নিষিদ্ধ করা হলে শ্বেতাঙ্গ সরকারের। বিরদ্ধে তিনি সশস্ত্র সংগ্রামের ডাক দেন। ১৯৬২ সালে তাকে বন্দি করে। বিশ্বমে পাঁচ বছর ও পরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। সত্তরের প্রথকে 'ব্ল্যাক কনসাসনেস মুভমেন্ট' নামে জঙ্গি আন্দোলন শুরু হয়। কারাগারে স্টিভ বিকো নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নেলসন। কান্ডেলাসহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে গণআন্দোলন শুরু হয়। পরিশেষে বর্ণবাদী সরকার ১৯৯০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আলোচনায় বসে। এবং ১১ ফেব্রুয়ারি ম্যান্ডেলাকে মুক্তি দেয়। লাখো জনতার উদ্দেশ্যে কেপটাউনের টাউন হলের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে তিনি ভাষণ দেন। ১৯৯৪ সালের গণতান্ত্রিক নির্বাচনে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
- ক)(1)
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে কোন দল বিজয়ী হয়?
- খ)(2)
আগরতলা মামলা (১৯৬৮ খ্রি.) কেন করা হয়েছিল? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে সংঘটিত গণআন্দোলনের সাথে তোমার পঠিত বইয়ের কোন ঘটনার মিল খুঁজে পাও? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত আন্দোলনের ফলাফল পাঠ্যবইয়ের আলোকে মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন 'বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ' নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন এবং বিশেষ করে ১৯৬৬ সালের ছয় দফাভিত্তিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে চিরতরে নস্যাৎ করার উদ্দেশ্যে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ১৯৬৮ সালে 'আগরতলা মামলা' (রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য) দায়ের করে।
ছয় দফা দাবির মাধ্যমে বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা তীব্র হয়ে উঠলে আইয়ুব খানের সামরিক সরকার শঙ্কিত হয়ে পড়ে। পূর্ব পাকিস্তানকে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন করার ষড়যন্ত্রের মিথ্যা অভিযোগ তুলে শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে মোট ৩৫ জন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই দেশদ্রোহিতার মামলা সাজানো হয়েছিল। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসি দিয়ে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন স্তব্ধ করা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে সংঘটিত গণআন্দোলনের সাথে আমার পঠিত বাংলাদেশের ইতিহাসের '১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান'-এর সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী শাসনের বিরুদ্ধে নেলসন ম্যান্ডেলাকে দীর্ঘকাল কারারুদ্ধ রাখা হয় এবং কারাগারে স্টিভ বিকোর মৃত্যুর পর সকল রাজবন্দির মুক্তির দাবিতে এক প্রবল গণআন্দোলন গড়ে ওঠে, যার মুখে সরকার নতি স্বীকার করে ম্যান্ডেলাকে মুক্তি দেয়।
অনুরূপভাবে, পাকিস্তান সরকার যখন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় শেখ মুজিবুর রহমানসহ রাজনৈতিক নেতাদের বন্দি করে এবং কারাগারে সার্জেন্ট জহুরুল হক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামসুজ্জোহাকে নির্মমভাবে হত্যা করে, তখন বাংলার ছাত্র-জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ১১ দফা আন্দোলনের ভিত্তিতে ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে আসে এবং 'আগরতলা মামলার প্রত্যাহার ও বঙ্গবন্ধুর মুক্তিসহ সকল রাজবন্দির মুক্তির দাবিতে' ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করে। অতএব, উদ্দীপকের রাজবন্দিদের মুক্তির গণআন্দোলন ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলাফল ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও তাৎপর্যপূর্ণ। নিচে পাঠ্যবইয়ের আলোকে তা মূল্যায়ন করা হলো:
১. স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পতন: এই তীব্র গণঅভ্যুত্থানের মুখে টিকতে না পেরে স্বৈরশাসক ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান দীর্ঘ এক দশকের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
২. আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার ও রাজবন্দিদের মুক্তি: তীব্র আন্দোলনের চাপে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করে এবং শেখ মুজিবুর রহমানসহ সব রাজবন্দিকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
৩. 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত: কারামুক্তির পরদিন অর্থাৎ ২৩ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানকে বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করা হয়, যা তাঁকে অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত করে।
৪. ১৯৭০ সালের নির্বাচন ও স্বাধীনতা অর্জন: এই আন্দোলনের ফলেই ইয়াহিয়া খান প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন দিতে বাধ্য হন, যেখানে বাঙালি জাতি আওয়ামী লীগকে বিপুল বিজয় এনে দেয় এবং যা শেষ পর্যন্ত ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম দেয়।
সুতরাং বলা যায়, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পথকে চূড়ান্তভাবে উন্মুক্ত করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও