ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে আসামের বিধান সভায় অসমিয়া ভাষাকে আসামের একমাত্র দাপ্তরিক ভাষা করার প্রস্তাব উত্থাপিত হলে সেখানকার বিপুল সংখ্যক বাংলা ভাষাভাষী এর বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। তারা বাংলাকেও অসমিয়া ভাষার সাথে অন্যতম দাপ্তরিক ভাষা করার দাবি করে। আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে হরতাল চলাকালে শিলচর এলাকায় সাধারণ মানুষের মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে এগারো জন প্রাণ হারায়।
- ক)(1)
কোন আইনের মাধ্যমে ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারত ও পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করে?
- খ)(2)
লাহোর প্রস্তাব কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত আন্দোলনের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের যে আন্দোলনের মিল রয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
“উক্ত আন্দোলন বর্তমানে জাতীয়তার গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত” –উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৪৭ সালের 'ভারত স্বাধীনতা আইন' (Indian Independence Act 1947)-এর মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এ. কে. ফজলুল হক যে ঐতিহাসিক প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তা লাহোর প্রস্তাব নামে পরিচিত।
এই প্রস্তাবে বলা হয়, ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী সংলগ্ন স্থানগুলোকে অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোকে নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ গঠন করতে হবে এবং এসব স্বাধীন রাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলো হবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম। এটি পরবর্তীতে পাকিস্তান আন্দোলনের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত আন্দোলনের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ১৯৬০ সালে ভারতের আসামে সংখ্যাগরিষ্ঠ অসমিয়া ভাষাকে একমাত্র দাপ্তরিক ভাষা করার উদ্যোগ নিলে বিপুল সংখ্যক বাংলাভাষী মানুষ মাতৃভাষার মর্যাদার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে এবং মিছিলে পুলিশের গুলিতে ১১ জন শহীদ হন।
অনুরূপভাবে, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্র করে। এর প্রতিবাদে পূর্ব বাংলার ছাত্র-জনতা বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষার দাবিতে ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল বের করা হলে পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। রক্তের বিনিময়ে বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা লাভ করে। সুতরাং, উভয় আন্দোলনই মাতৃভাষার অধিকার রক্ষা ও ভাষার জন্য আত্মত্যাগের দিক থেকে অভিন্ন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উক্ত আন্দোলন বর্তমানে জাতীয়তার গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত” — উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ।
উদ্দীপকের সাথে সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন কেবল বাঙালি জাতির ভাষার দাবি আদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি ছিল অন্যায়, বৈষম্য ও ঔপনিবেশিক মানসিকতার বিরুদ্ধে প্রথম সফল প্রতিরোধ। এই আন্দোলনের পথ ধরেই বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতা সংগ্রামের সূত্রপাত ঘটে।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বুকের রক্ত দিয়ে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার এ ঘটনা ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে এক অনন্য ও নজিরবিহীন আত্মত্যাগ। এই অনন্য আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো (UNESCO) ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। ২০০০ সাল থেকে বিশ্বের ১৯০টিরও বেশি দেশে দিবসটি জাতিসংঘের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এর ফলে বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন বিশ্বের সমস্ত বিপন্ন ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও সুরক্ষার এক বৈশ্বিক প্রতীক হয়ে উঠেছে।
সুতরাং বলা যায়, ভাষা আন্দোলন কেবল বাঙালির আত্মপরিচয়ের প্রতীক নয়, বরং এটি বিশ্বের প্রতিটি ভাষার অধিকার রক্ষার সার্বজনীন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও