বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
সাধু সুন্দরলাল সাঁওতালদের কাছে দেবতাতুল্য। তবে সে নিরীহ সাঁওতালদের বিশ্বাসের সাথে খেলা করে। করম দেবতা ও শিং বোঙ্গার ভয় দেখায়। দেবতার কোপে মড়ক লেগে সবাই মরে যাবে এমন কথায় ভয় পেয়ে সবাই তার কাছেই সাহায্য চায়। এই সুযোগে সুন্দরলাল তাদের আসামের চা বাগানে কুলির কাজ করতে পাঠিয়ে দেয়। মনে মনে হিসেব করে কতজন পাঠালো আর কমিশন কত টাকা পাবে।
- ক)(1)
মজিদকে দেখে প্রথমে জমিলার কী মনে হয়?
- খ)(2)
“শস্যের চেয়ে টুপি বেশি ধর্মের আগাছা বেশি’’-উক্তিটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের কোন প্রসঙ্গে সাদৃশ্য পাওয়া যায়? আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসের সমাজবাস্তবতা অভিন্ন বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মজিদকে দেখে প্রথমে জমিলার মনে হয়েছিল সে যেন তার এক দূর সম্পর্কের মামা বা তালুইয়ের মতো দেখতে এক বুড়ো মানুষ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“শস্যের চেয়ে টুপি বেশি ধর্মের আগাছা বেশি”—উক্তিটি দ্বারা ধর্মপ্রাণ মানুষের জীবিকার তুলনায় ধর্মের বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠান এবং অজ্ঞতাপ্রসূত কুসংস্কারের আধিক্যকে বোঝানো হয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসের সূচনাতেই মজিদের অতীত অঞ্চলের বর্ণনা দিতে গিয়ে লেখক এই মন্তব্য করেন। সেখানকার মানুষের জীবনে ক্ষুধার চেয়ে ধর্মের আনুষ্ঠানিক প্রদর্শন ছিল প্রকট। ধর্মীয় অনুশাসন ও ভণ্ডামির জাঁতাকলে মানুষের সত্যিকারের মানসিক উন্নতি বাধাগ্রস্ত হতো এবং অভাবের তাড়নায় ধর্মের সঠিক উপলব্ধির চেয়ে কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস আগাছার মতো দ্রুত বিস্তার লাভ করত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের ধর্মের নামে সাধারণ মানুষের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে নিজের স্বার্থসিদ্ধি ও শোষণের দিকটিতে সাদৃশ্য পাওয়া যায়।
'লালসালু' উপন্যাসে দেখা যায়, স্বার্থান্বেষী মজিদ মহব্বতনগর গ্রামে গিয়ে একটি অজ্ঞাত কবরকে মোদাচ্ছের পীরের মাজার বানিয়ে ভণ্ডামির জাল বিস্তার করে। গ্রামের সরল ও অজ্ঞ মানুষদের পরকালের ভয় ও খোদার গজের ভয় দেখিয়ে সে নিজের রুটি-রুজির সংস্থান ও সামাজিক প্রতিপত্তি কায়েম করে।
উদ্দীপকের সাধু সুন্দরলালও অনুরূপ এক প্রতারক। সে নিরীহ সাঁওতালদের ধর্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে করম দেবতা ও শিং বোঙ্গার কোপের ভয় দেখায়। পরে মড়কের ভয়ে ভীত সাঁওতালদের সাহায্য করার নামে আসামের চা বাগানে কুলির কাজে পাঠিয়ে নিজের কমিশন গুনে নেয়। অর্থাৎ উভয় ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের সরল ধর্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে ব্যক্তিগত স্বার্থ ও সুবিধা আদায়ের অপকৌশল লক্ষ্য করা যায়। তাই স্বার্থান্বেষী ধর্মব্যবসা ও শোষণের দিক থেকে উদ্দীপকটি 'লালসালু' উপন্যাসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসের পটভূমি ভিন্ন হলেও উভয় ক্ষেত্রে প্রতিফলিত সমাজবাস্তবতা অভিন্ন—মন্তব্যটি যথার্থ।
'লালসালু' উপন্যাসের পটভূমি গ্রামীণ মুসলিম সমাজ। সেখানে সাধারণ মানুষ অশিক্ষিত ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন হওয়ায় মজিদের মতো সুবিধাবাদী ব্যক্তিরা ধর্মের দোহাই দিয়ে তাদের সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। মজিদ নিজের আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে মানুষের ভয় ও পাপবোধকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে ধর্মের মুখোশ পরা শোষণের নির্মম সমাজবাস্তবতা উন্মোচিত হয়েছে।
উদ্দীপকেও সাঁওতাল সমাজের একই শোষণের বাস্তবতা ফুটে উঠেছে। সেখানে সাধু সুন্দরলাল দেবতাদের ভয় দেখিয়ে নিরীহ মানুষদের দুর্বল মানসিকতার সুযোগ নেয় এবং তাদের শ্রম বেচে কমিশন লাভ করে। সাঁওতালদের আদিম সারল্য এবং অন্ধবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে সুন্দরলাল তাদের শোষণ করে নিঃস্ব করে।
অতএব স্পষ্ট যে, সমাজ মুসলিম হোক বা সাঁওতাল, সাধারণ মানুষের অসচেতনতা, কুসংস্কার এবং অন্ধবিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে সুযোগসন্ধানী শ্রেণি সর্বদা শোষণ চালিয়ে যায়। উভয় সমাজেই বিশ্বাসকে পুঁজি করে প্রতারণা ও শোষণের চালচিত্র এক ও অভিন্ন। তাই বলা যায়, উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসের সমাজবাস্তবতা প্রকৃতপক্ষে অভিন্ন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও