ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৩

ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

আরিফ ও তুহিন দুই বন্ধু। তারা ইসলামের বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কে আলোচনা করছিল। আরিফ বলল, ইসলামে মানুষের মাঝে সহানুভূতি, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব সৃষ্টির জন্য বিশেষ একটি ইবাদাত আছে, যা পাপ-পুণ্যের মাঝে ঢালস্বরূপ। তুহিন বলল, বন্ধু! মানুষের মাঝে আর্থিক সমতা ও ভারসাম্য আনার জন্যও একটি ইবাদাত আছে, যাকে ইসলামের 'সেতুবন্ধন' বলা হয়েছে।

  1. ক)

    'সালাত' শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    “তোমরা প্রত্যেকে দায়িত্বশীল বা রক্ষক।”- ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত আরিফ কোন ইবাদাতের প্রতি ইঙ্গিত করেছে? তা ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত তুহিন যে ইবাদাতের কথা বলেছে তার অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'সালাত' (صلوة) শব্দের অর্থ দোয়া, প্রার্থনা, ক্ষমা প্রার্থনা ও রহমত কামনা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মহানবী (সা.) বলেছেন, “তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল বা রক্ষক এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।” এই হাদিসটির মর্মার্থ হলো, সমাজে বা পরিবারে প্রতিটি মানুষেরই সুনির্দিষ্ট কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। রাষ্ট্রপ্রধান তাঁর প্রজাদের, পিতা-মাতা পরিবারের সদস্যদের এবং মালিক তাঁর অধীনে কর্মরতদের কল্যাণের জন্য দায়বদ্ধ। পরকালে প্রত্যেককেই তার অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছে কি না সে ব্যাপারে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত আরিফ 'সাওম' বা রোজার প্রতি ইঙ্গিত করেছে।

    সাওম হলো ইসলামের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, যৌন মিলন ও যাবতীয় পাপাচার থেকে বিরত থাকাকে সাওম বলে। হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, 'সাওম হলো ঢালস্বরূপ' (الصَّوْمُ جُنَّةٌ)। ঢাল যেমন যোদ্ধাকে শত্রুর আঘাত থেকে রক্ষা করে, তেমনি সাওম মানুষকে শয়তানের প্ররোচনা, কামনা-বাসনা ও জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করে। এছাড়া সাওমের মাধ্যমে ধনীরা অনাহারী-গরিবদের ক্ষুধার কষ্ট অনুধাবন করতে পারে, যার ফলে পারস্পরিক সহানুভূতি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হয়। উদ্দীপকে আরিফের বর্ণনায় এই বৈশিষ্ট্যগুলোই প্রতিভাত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে তুহিন যে ইবাদাতের কথা বলেছে, তা হলো 'যাকাত'। হাদিসে যাকাতকে ইসলামের সেতুবন্ধন (قَنْطَرَةُ الْإِسْلَامِ) বলা হয়েছে। নিম্নে যাকাতের অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান দূরীকরণ: যাকাত ধনী ব্যক্তিদের উদ্বৃত্ত সম্পদ হতে ধনহীনদের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দেয়। এর ফলে সমাজে সম্পদের অসম বণ্টন হ্রাস পায় এবং শ্রেণিভেদ কমে আসে।
    ২. দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান: উপযুক্তভাবে যাকাত আদায় ও বণ্টন করলে অভাবগ্রস্তদের মৌলিক চাহিদা পূরণ হয় এবং কর্মক্ষম ব্যক্তিদের আত্মকর্মসংস্থানের পুঁজি সরবরাহ করে দীর্ঘমেয়াদে দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব হয়।
    ৩. সম্পদের প্রবাহ ও গতিশীলতা বৃদ্ধি: যাকাত ব্যবস্থার কারণে সম্পদ কেবল ধনীদের হাতে পুঞ্জীভূত হয়ে থাকতে পারে না। অর্থ সমাজে হাতবদল হয়, ফলে সামগ্রিক ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং অর্থনীতির চাকা সচল থাকে।
    ৪. সামাজিক নিরাপত্তা ও ভারসাম্য রক্ষা: যাকাত একটি সামাজিক নিরাপত্তা তহবিল হিসেবে কাজ করে, যা ঋণগ্রস্ত, নিঃস্ব ও এতিমদের সুরক্ষিত রাখে এবং অপরাধপ্রবণতা কমিয়ে সমাজে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনে।

    সুতরাং, যাকাত হলো একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও শোষণমুক্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রধান ভিত্তি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন