গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৩

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

কনা, মিশু, সুপ্তি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু। তিন বছর পূর্বে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় কনার পা কাটা যায়। মিশু কোনো শব্দ শুনতে পায় না। সুপ্তির বুদ্ধ্যঙ্ক ৪০এর নিচে। তারা তিনজনেই ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাত্রী।

  1. ক)

    বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    শিশুর অটিজম কীভাবে শনাক্ত করা যায়?

    (2)
  3. গ)

    কনার প্রতিবন্ধিতার ধরন ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ‘মিশু ও সুপ্তির জন্য ভিন্ন ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজন’— বিশ্লেষণ করো。

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব শিশুর শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিভিত্তিক, সংবেদনশীল বা আচরণগত বৈশিষ্ট্য সাধারণ শিশুদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন এবং যাদের স্বাভাবিক বিকাশ ও দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিশেষ যত্ন, শিক্ষা বা সেবার প্রয়োজন হয়, তাদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অটিজম হলো একটি স্নায়বিক বা বিকাশজনিত প্রতিবন্ধকতা। শিশুর বয়স ১৮ মাস থেকে ৩ বছরের মধ্যে এর লক্ষণগুলো স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেতে শুরু করে। অটিজম শনাক্ত করার প্রধান লক্ষণসমূহ হলো:
    ১. সামাজিক মিথস্ক্রিয়া ও যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা— যেমন চোখে চোখ না রাখা (eye contact এড়ানো), নিজের নাম ধরে ডাকলে সাড়া না দেওয়া এবং সমবয়সীদের সাথে মেলামেশা করতে না চাওয়া।
    ২. পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ বা একই কাজ বারবার করা এবং পরিবেশ বা দৈনন্দিন রুটিনের পরিবর্তনে চরম অস্বস্তি প্রকাশ করা।
    ৩. ভাষা ও ভাবপ্রকাশে বিলম্ব হওয়া বা অন্যের কথা হুবহু পুনরাবৃত্তি (echolalia) করা। এসব লক্ষণ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে চিকিৎসক ও মনোবিজ্ঞানীরা অটিজম শনাক্ত করে থাকেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত কনার প্রতিবন্ধিতা হলো ‘শারীরিক প্রতিবন্ধিতা’ (Physical Disability)।

    যেসব শিশু শারীরিক গঠনগত ত্রুটি, অঙ্গহানি বা মাংসপেশি ও হাড়ের অসামর্থ্যের কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা বা অঙ্গ সঞ্চালন করতে পারে না, তাদের শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু বলা হয়। এটি জন্মগত হতে পারে অথবা জন্মের পর কোনো রোগ বা দুর্ঘটনার কারণেও হতে পারে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, তিন বছর পূর্বে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় কনার পা কাটা যায়। পা হারানোর ফলে তার স্বাভাবিক চলাফেরা ও শারীরিক গতিশীলতা ব্যাহত হয়েছে। যেহেতু দুর্ঘটনাজনিত কারণে তার অঙ্গহানি ঘটেছে এবং চলাচলের অঙ্গের কার্যকারিতা নষ্ট হয়েছে, তাই কনার এই প্রতিবন্ধিতা অর্জিত শারীরিক প্রতিবন্ধিতার অন্তর্ভুক্ত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মিশু শ্রবণপ্রতিবন্ধী এবং সুপ্তি মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশু। তাদের প্রতিবন্ধিতার ধরন ও চাহিদা সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ায় তাদের জন্য ভিন্ন ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজন— উক্তিটি যথার্থ।

    মিশু কোনো শব্দ শুনতে পায় না, অর্থাৎ সে শ্রবণপ্রতিবন্ধী। শ্রবণপ্রতিবন্ধী শিশুদের বুদ্ধি সাধারণত স্বাভাবিক থাকে, তবে ভাষা অর্জন ও ভাব বিনিময়ের ক্ষেত্রে তারা শব্দের পরিবর্তে দৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। তাদের শিক্ষার জন্য প্রয়োজন:
    ১. ইশারা ভাষা বা সাংকেতিক ভাষা (Sign Language) এবং ওষ্ঠপঠন (Lip-reading) প্রশিক্ষণ।
    ২. দৃশ্যমান শিক্ষা উপকরণ (Visual aids), যেমন চার্ট, ছবি, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ইত্যাদি।
    ৩. শব্দহীন পরিবেশ এবং বিশেষ প্রশিক্ষিত শিক্ষক, অথবা বিশেষায়িত বধির বিদ্যালয়।

    অপরদিকে, সুপ্তির বুদ্ধ্যঙ্ক (IQ) ৪০-এর নিচে, যা তাকে মাঝারি থেকে গুরুতর বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করে। এ ধরনের শিশুদের তাত্ত্বিক বা সাধারণ শিক্ষাক্রম শেখানো অত্যন্ত দুরূহ। তাদের শিক্ষার মূল লক্ষ্য হলো দৈনন্দিন আত্মসহায়ক দক্ষতা অর্জন। এদের জন্য প্রয়োজন:
    ১. বিশেষ শিক্ষাব্যবস্থা (Special Education System)।
    ২. ব্যক্তিগত পরিচর্যা (যেমন— নিজে নিজে খাওয়া, পোশাক পরা, শৌচাগার ব্যবহার) শেখানোর প্রশিক্ষণ।
    ৩. সহজ ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের মাধ্যমে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান।

    সুতরাং, মিশুর স্বাভাবিক বুদ্ধি থাকায় সে ইশারা ভাষার মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষাক্রম অনুসরণ করতে পারে, কিন্তু সুপ্তির ক্ষেত্রে সাধারণ শিক্ষাক্রমের পরিবর্তে বিশেষায়িত ও আচরণিক প্রশিক্ষণ দরকার। তাই তাদের শিক্ষণ পদ্ধতি ও লক্ষ্য এক হতে পারে না; উভয়ের জন্যই পৃথক ও ভিন্ন ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন