গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৩
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
A | B | C
বাদামি | সবুজ | হলুদ
বাদাম, ডিম, ডাল, মাংস | লেবু, আমলকি, পেয়ারা | গাজর, মিষ্টিকুমড়া, ছোটমাছ
- ক)(1)
লেশ মৌল কী?
- খ)(2)
“সকল বয়সের ব্যক্তির সূর্যের আলো প্রয়োজন”— ব্যাখ্যা করো。
- গ)(3)
উদ্দীপকে ছক 'A' তে নির্দেশিত খাদ্যের প্রধান পুষ্টি উপাদানের কাজগুলো ব্যাখ্যা করো。
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে 'B' ও 'C' তে নির্দেশিত পুষ্টি উপাদানের অভাবজনিত অবস্থা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর— বিশ্লেষণ করো。
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব খনিজ লবণ মানবদেহে অত্যন্ত অল্প বা সামান্য পরিমাণে (দৈনিক ১০০ মিলিগ্রামের কম) প্রয়োজন হয়, সেগুলোকে লেশ মৌল বা ট্রেস এলিমেন্ট (Trace element) বলে; যেমন— লৌহ, আয়োডিন, দস্তা ইত্যাদি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভিটামিন 'ডি'-এর প্রধান ও প্রাকৃতিক উৎস হলো সূর্যের আলো। ত্বকের নিচে থাকা কোলেস্টেরল (৭-ডিহাইড্রোকোলেস্টেরল) সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির উপস্থিতিতে ভিটামিন 'ডি'-তে রূপান্তরিত হয়।
ভিটামিন 'ডি' দেহে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে এবং অস্থি ও দাঁতের গঠনে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি রিকেটস প্রতিরোধ করে এবং হাড় মজবুত করে। প্রাপ্তবয়স্ক ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে এটি অস্টিওম্যালাসিয়া এবং হাড়ের ক্ষয়জনিত রোগ (অস্টিওপোরোসিস) প্রতিরোধ করে। তাই হাড় ও দাঁতের সুস্থতা রক্ষার্থে জীবনের সকল বয়সেই সূর্যের আলো প্রয়োজন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ছক 'A'-তে বাদাম, ডিম, ডাল ও মাংসের উল্লেখ রয়েছে। এসব খাদ্যের প্রধান পুষ্টি উপাদান হলো আমিষ বা প্রোটিন (Protein)।
মানবদেহে আমিষের প্রধান কাজগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. দেহের বৃদ্ধি ও গঠন: দেহের নতুন কোষ সৃষ্টি, পেশি, অস্থি, রক্ত ও বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠন ও বৃদ্ধিসাধনে আমিষ প্রধান ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধির জন্য আমিষ অপরিহার্য।
২. ক্ষয়পূরণ ও পুনর্গঠন: মানবদেহের প্রাত্যহিক কার্যকলাপে কোষের যে ক্ষয় ঘটে, তা মেরামত ও পূরণ করার দায়িত্ব আমিষের। ক্ষতস্থান নিরাময়েও এটি সাহায্য করে।
৩. উৎসেচক ও হরমোন সংশ্লেষণ: দেহের অভ্যন্তরীণ বিপাকীয় ক্রিয়া সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সকল উৎসেচক (এনজাইম) এবং বহু হরমোন আমিষ দ্বারা গঠিত।
৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি: দেহে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে ধ্বংস করার জন্য যে অ্যান্টিবডি প্রয়োজন হয়, তা আমিষ দ্বারা তৈরি হয়।
৫. শক্তি উৎপাদন: শর্করা ও ফ্যাটের ঘাটতি দেখা দিলে ১ গ্রাম আমিষ জারিত হয়ে দেহে প্রায় ৪ কিলোক্যালরি শক্তি প্রদান করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছক 'B'-তে রয়েছে লেবু, আমলকি, পেয়ারা— যা ভিটামিন 'সি' (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড)-এর প্রধান উৎস; এবং ছক 'C'-তে রয়েছে গাজর, মিষ্টিকুমড়া ও ছোটমাছ— যা ভিটামিন 'এ'-এর প্রধান উৎস। এ দুটি পুষ্টি উপাদানের অভাব মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
ভিটামিন 'সি'-এর অভাবজনিত ক্ষতিকর প্রভাব:
১. স্কার্ভি রোগ: ভিটামিন 'সি'-এর তীব্র অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়, যার ফলে দাঁতের মাড়ি ফুলে যায়, রক্ত পড়ে এবং দাঁত আলগা হয়ে পড়ে যায়।
২. ক্ষত নিরাময়ে বিলম্ব: এটি কোলাজেন তৈরি ব্যাহত করে, যার ফলে শরীরের কাটা-ছেঁড়া ও ক্ষত সহজে শুকাতে চায় না।
৩. রক্তস্বল্পতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার হ্রাস: ভিটামিন 'সি' অন্ত্রে লৌহ শোষণে সহায়তা করে; এর অভাবে লৌহের ঘাটতিজনিত অ্যানিমিয়া হতে পারে এবং শরীরের সামগ্রিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়।ভিটামিন 'এ'-এর অভাবজনিত ক্ষতিকর প্রভাব:
১. রাতকানা রোগ: ভিটামিন 'এ'-এর অভাবে রেটিনার রড কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে শিশু আবছা বা কম আলোতে দেখতে পায় না, যাকে রাতকানা রোগ বলে।
২. জেরোপথ্যালমিয়া ও অন্ধত্ব: দীর্ঘমেয়াদি অভাবে চোখের কর্নিয়ার স্বচ্ছতা নষ্ট হয়ে শুষ্ক হয়ে যায় (জেরোসিস) এবং একপর্যায়ে কর্নিয়া গলে গিয়ে (কেরাটোম্যালাসিয়া) শিশু চিরতরে অন্ধ হয়ে যায়।
৩. ত্বকের রুক্ষতা ও সংক্রামক ব্যাধি: ভিটামিন 'এ'-এর অভাবে ত্বক খসখসে হয়ে যায় (টড স্কিন) এবং শ্বাসতন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্রের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সহজেই ইনফেকশন দেখা দেয়।সুতরাং, ভিটামিন 'সি' ও ভিটামিন 'এ' মানবদেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা, রক্তসংবহন, দৃষ্টিশক্তি ও শারীরিক সুস্থতার সাথে সরাসরি জড়িত। ফলে এদের অভাবজনিত অবস্থা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ও মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও