গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৩

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

নাম বয়স
সাকিব ২ সপ্তাহ - ২ বছর
সুমন ২ বছর - ৬ বছর

  1. ক)

    প্রাক-শৈশবকাল কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ‘বিকাশ গতিশীল’— বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে সাকিব বিকাশের যে পর্যায়ে অবস্থান করছে, তার দৈহিক বিকাশ ব্যাখ্যা করো。

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের তথ্য থেকে সাকিব ও সুমনের সামাজিক বিকাশের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো。

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানব বিকাশের যে পর্যায়টি সাধারণত ২ বছর বয়স থেকে শুরু হয়ে ৬ বছর বয়স পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে, তাকে প্রাক-শৈশবকাল বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'বিকাশ গতিশীল' বলতে বোঝায়—বিকাশ কোনো স্থির বা থেমে থাকা অবস্থা নয়, বরং গর্ভধারণ থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এটি একটি নিরবচ্ছিন্ন ও পরিবর্তনশীল প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় ব্যক্তির শারীরিক, মানসিক, আবেগিক এবং সামাজিক পরিবর্তন একটি নির্দিষ্ট ধারাবাহিক নিয়ম মেনে ক্রমাগত অগ্রসর হতে থাকে। এক পর্যায়ের বিকাশ পরবর্তী পর্যায়ের বিকাশের ভিত্তি তৈরি করে বলেই বিকাশ একটি পরিবর্তনমুখী গতিশীল প্রক্রিয়া।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সাকিবের বয়স ২ সপ্তাহ থেকে ২ বছর, যা মানব বিকাশের 'বেবিহুড' বা 'শৈশবকাল' (Infancy/Babyhood)-এর পর্যায়কে নির্দেশ করে। এই পর্যায়ে শিশুর দৈহিক বিকাশ অত্যন্ত দ্রুত ঘটে।

    ১. উচ্চতা ও ওজন বৃদ্ধি: জন্মের পর থেকে দুই বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর শারীরিক ওজন ও উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। প্রথম এক বছরে শিশুর ওজন জন্মের ওজনের প্রায় তিন গুণ হয়।
    ২. শারীরিক অনুপাত ও দাঁত ওঠা: এ সময়ে শিশুর মাথা শরীরের তুলনায় বড় থাকে, তবে ধীরে ধীরে হাত ও পা লম্বা হতে থাকে। সাধারণত ৬-৮ মাস থেকে দুধের দাঁত ওঠা শুরু হয় এবং দুই বছরের মধ্যে প্রায় ২০টি দুধদাঁত গজায়।
    ৩. পেশির নিয়ন্ত্রণ ও নড়াচড়া: এ বয়সে শিশু ঘাড় সোজা করা, উপুড় হওয়া, হামাগুড়ি দেওয়া, বসতে শেখা, দাঁড়ানো এবং পরবর্তীতে স্বাধীনভাবে হাঁটতে ও দৌড়াতে শেখে। সুতরাং, সাকিবের বয়সটি দ্রুততম দৈহিক বৃদ্ধি ও পেশীয় সমন্বয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সাকিব অবস্থান করছে শৈশবাবস্থায় (২ সপ্তাহ - ২ বছর) এবং সুমন অবস্থান করছে প্রাক-শৈশবকালে (২ বছর - ৬ বছর)। এই দুই বয়সের শিশুর সামাজিক বিকাশে বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে:

    ১. সম্পর্কের পরিধি: সাকিবের সামাজিক জগৎ মূলত তার মা এবং পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সে মূলত পরিচিত মুখের প্রতি সামাজিক হাসি দেয় এবং অপরিচিতদের দেখলে ভয় পায়। অপরদিকে, সুমনের সামাজিক পরিধি বিস্তৃত হয়ে খেলার সাথী, প্রতিবেশী এবং বিদ্যালয়ের বন্ধুদের পর্যন্ত পৌঁছায়।
    ২. খেলার ধরন: সাকিব সাধারণত একাকী খেলে (Solitary play) এবং তার খেলনা অন্য কারো সাথে ভাগাভাগি করতে চায় না। পক্ষান্তরে, সুমন সমবয়সীদের সাথে দলবদ্ধভাবে বা সহযোগিতামূলক খেলা (Cooperative play)-য় অংশ নেয় এবং সামাজিক নিয়মের সাথে মানিয়ে নিতে শেখে।
    ৩. যোগাযোগের মাধ্যম ও আচরণ: সাকিব সামাজিক অনুভূতি মূলত কান্নাকাটি, অঙ্গভঙ্গি ও আধো-আধো কথার মাধ্যমে প্রকাশ করে। অন্যদিকে সুমন সুস্পষ্ট ভাষার মাধ্যমে অনুভূতি ব্যক্ত করে, অন্যের মনোভাব বুঝতে পারে এবং সহানুভূতি বা সহমর্মিতা প্রদর্শন করতে শেখে।

    সুতরাং, দেখা যায় সাকিবের সামাজিক বিকাশ পরিবারকেন্দ্রিক ও প্রাথমিক পর্যায়ের, কিন্তু সুমনের সামাজিক বিকাশ অনেক বেশি বহুমাত্রিক, স্বাবলম্বী এবং সামাজিক মিথস্ক্রিয়াভিত্তিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন