সমাজকর্ম ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০২১

সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    জাতিসংঘ কখন প্রতিষ্ঠিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    আন্তর্জাতিক সংস্থা বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের চিত্রের সংস্থাটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের উন্নয়নে উক্ত সংস্থার ভূমিকা মূল্যায়ন করা।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতিসংঘ ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আন্তর্জাতিক সংস্থা বলতে বিশ্বের একাধিক স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত এমন সংগঠনকে বোঝায়, যা নির্দিষ্ট লক্ষ্য, নিয়মকানুন ও কাঠামোর ভিত্তিতে বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা, আর্থসামাজিক উন্নয়ন বা মানবতার কল্যাণে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কাজ করে। উদাহরণস্বরূপ— জাতিসংঘ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), ইউনিসেফ (UNICEF) ইত্যাদি।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্রে জাতিসংঘ শিশু তহবিল বা ইউনিসেফ (UNICEF)-এর প্রতীক বা লোগো নির্দেশ করা হয়েছে।

    ইউনিসেফের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. শিশুদের সার্বিক কল্যাণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং শিশু অধিকার সনদ বাস্তবায়ন করা।
    ২. যুদ্ধ, সংঘাত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের তাৎক্ষণিক জরুরি সহায়তা, খাদ্য এবং চিকিৎসা প্রদান করা।
    ৩. শিশু ও প্রসূতি মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টিমান উন্নয়ন এবং সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা।
    ৪. প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং বিশেষত কন্যাশিশুদের বিদ্যালয়মুখী করা।
    ৫. বিশুদ্ধ নিরাপদ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শিশুশ্রম, নির্যাতন ও পাচার রোধ করে তাদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত সংস্থাটি হলো ইউনিসেফ (UNICEF)। বাংলাদেশের শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের সামগ্রিক উন্নয়নে ইউনিসেফের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রশংসনীয়।

    ১. শিক্ষাক্ষেত্রে ভূমিকা: ইউনিসেফ বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বজনীন ও বাধ্যতামূলক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশুদের বিদ্যালয়ে আনা, মীনা কার্টুনের মাধ্যমে কন্যাশিশুদের শিক্ষায় উৎসাহিত করা, আনন্দ পাঠশালা এবং দুর্যোগকালীন শিক্ষা কর্মসূচি পরিচালনা করায় দেশে শিশু সাক্ষরতার হার দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

    ২. স্বাস্থ্যসেবায় ভূমিকা: শিশু মৃত্যুর হার হ্রাসে ইউনিসেফ সরকারের সাথে মিলে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। পোলিও, ধনুষ্টঙ্কার, হামসহ মারাত্মক রোগ প্রতিরোধে বিনামূল্যে টিকা প্রদান এবং ডায়রিয়া প্রতিরোধে ওরস্যালাইন তৈরি ও বিতরণে সংস্থাটির অবদান অনস্বীকার্য।

    ৩. পুষ্টি নিশ্চিতকরণে ভূমিকা: শিশুদের অপুষ্টি দূরীকরণে ইউনিসেফ ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন, মাতৃদুগ্ধ পানে সচেতনতা সৃষ্টি, প্রসূতি মায়েদের জন্য পুষ্টিকর খাদ্যের ব্যবস্থা এবং আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহারে দেশজুড়ে কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।

    ৪. স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ: প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল ও উপকূলীয় অঞ্চলে আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ নলকূপ স্থাপন এবং শতভাগ স্যানিটেশন অর্জনে ইউনিসেফ প্রত্যক্ষ সহায়তা প্রদান করেছে।

    ৫. শিশু অধিকার ও সুরক্ষায় ভূমিকা: বাল্যবিয়ে রোধ, শিশুশ্রম বন্ধ এবং বিপদাপন্ন পথশিশুদের পুনর্বাসনে ইউনিসেফ কাজ করে যাচ্ছে।

    পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশে শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণে ইউনিসেফের অবদান অনন্য ও প্রশংসনীয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন