ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
'ক' ও 'খ' বাবার সাথে রায়ের বাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ ঘুরতে যায়। সেখানে ২৫ মার্চের কালরাতের পৈচাশিক নিষ্ঠুরতা, মুক্তিযুদ্ধকালীন হানাদার পাকবাহিনীর বর্বরতা, বিজয়ের ঊষালগ্নে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামস বাহিনী কর্তৃক দেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকাণ্ডের কাহিনি শুনে তারা ভীষণভাবে বিচলিত ও মর্মাহত হয়। তবে বীর বাঙালির প্রতিরোধ যুদ্ধের গল্প শুনে তারা খুশি হয়।
- ক)(1)
মুজিবনগর কোন জেলায় অবস্থিত?
- খ)(2)
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার পটভূমি ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নিষ্ঠুরতা ও বর্বরতা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
“উক্ত নিষ্ঠুরতা ও বর্বরতার কারণে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে ত্বরান্বিত করেছিল – তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুজিবনগর মেহেরপুর জেলায় অবস্থিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে। এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে পূর্ব পাকিস্তানে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণ করে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট'-এর মাধ্যমে নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত বাঙালিদের ওপর নৃশংস গণহত্যা শুরু করে। এই হত্যাযজ্ঞ ও নারকীয় হামলার মুখে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ'-এর শোনা রায়ের বাজার বধ্যভূমির কাহিনির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নারকীয় হত্যাযজ্ঞ ও চরম বর্বরতার চিত্র ফুটে উঠেছে।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে 'অপারেশন সার্চলাইট' পরিচালনার মাধ্যমে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এদেশের নিরীহ জনগণের ওপর পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ চালায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, পিলখানাসহ বিভিন্ন স্থানে তারা ট্যাংক, কামান ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে লাখ লাখ নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করে। পুরো মুক্তিযুদ্ধ জুড়ে তারা গ্রাম ও শহরের পর শহর জ্বালিয়ে দেয়, নারীদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায় এবং প্রায় ত্রিশ লক্ষ মানুষকে হত্যা করে। বিজয়ের প্রাক্কালে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার হীন উদ্দেশ্যে তাদের দোসর রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামসদের সহযোগিতায় শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, প্রকৌশলীসহ বহু বুদ্ধিজীবীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে রায়ের বাজারসহ বিভিন্ন বধ্যভূমিতে ফেলে রাখে। উদ্দীপকে উল্লেখিত পাকবাহিনীর এই নৃশংসতাই মুক্তিযুদ্ধকালীন বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উক্ত নিষ্ঠুরতা ও বর্বরতার কারণে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে ত্বরান্বিত করেছিল” — মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।
দীর্ঘ চব্বিশ বছর ধরে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের ওপর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শোষণ ও বৈষম্য চালিয়ে আসছিল। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের গণরায়কে অস্বীকার করে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরীহ ও নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর পৈশাচিক গণহত্যা শুরু করলে বাঙালিদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ বারুদের মতো জ্বলে ওঠে।
হানাদারদের এই নির্মম নির্যাতন ও গণহত্যার ফলে বাঙালিদের আত্মরক্ষার আর কোনো পথ খোলা ছিল না। জীবন বাঁচাতে ও দেশকে মুক্ত করতে দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, পুলিশ, সেনা ও আনসার সদস্যসহ সমগ্র বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পাকবাহিনীর নিষ্ঠুর বর্বরতা বাঙালিকে নতজানু করতে পারেনি, বরং তাদের তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিশোধস্পৃহাকে বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধে রূপান্তরিত করে। এর ফলেই মাত্র নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজয় ছিনিয়ে আনে। সুতরাং, পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত নির্যাতনই বাঙালির পুঞ্জীভূত ক্ষোভকে বিস্ফোরণে রূপ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে বেগবান ও ত্বরান্বিত করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও