বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
তুমি কি এখন দেখিছ স্বপন আমারে, আমারে, আমারেখোলা এলোচুল মুখের দু'পাশে ছড়ায়েতুমি ঘুমায়ে আছো কীমোর দেওয়া সেই ঝরা মালা বুকে জড়ায়েস্বপনে দিলে কি ভুলিয়াস্মৃতির দুয়ার খুলিয়াআবার কী তারে ফিরে চাও তুমি ফিরায়ে দিয়াছ যাহারে।
- ক)(1)
কল্যাণীর পিতার নাম কী?
- খ)(2)
"এই তো আমি জায়গা পাইয়াছি"-ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে 'অপরিচিতা' গল্পের সাদৃশ্য বিচার কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ভাবের সাথে 'অপরিচিতা' গল্পের নায়কের প্রেমবোধ বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কল্যাণীর পিতার নাম শম্ভুনাথ সেন (বা শম্ভুনাথ বাবু)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"এই তো আমি জায়গা পাইয়াছি"—অনুপমের এই উক্তিটির দ্বারা কল্যাণীর অন্তরে বা তার কর্মময় জীবনের কাছাকাছি নিজের অবস্থান খুঁজে পাওয়ার মানসিক পরিতৃপ্তিকে বোঝানো হয়েছে।
বিয়ের আসর থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর অনুপম কল্যাণীকে ভুলতে পারেনি। পরবর্তীতে রেলভ্রমণের সময় কল্যাণীর সাক্ষাৎ পেয়ে এবং দেশসেবায় তার আত্মনিয়োগ দেখে অনুপম মুগ্ধ হয়। কল্যাণী বিয়ে না করার সংকল্প জানালেও অনুপম তার আশপাশে থাকার সুযোগ পায় এবং তার কাজের সঙ্গী হতে চায়। সমাজের চোখে বিয়ের সম্বন্ধ ভেঙে যাওয়ার কারণে অনুপম কল্যাণীর সংসারে জায়গা না পেলেও, তার স্মৃতি ও সান্নিধ্যের ভেতর নিজের জীবনের সার্থকতা ও স্থায়ী ঠিকানা খুঁজে পেয়েছে—এই উপলব্ধি থেকেই অনুপম কথাটি বলেছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে 'অপরিচিতা' গল্পের নায়ক অনুপমের হারানো প্রেমকে ঘিরে মনের অবিরত স্মৃতিচারণ ও বিরহ অনুভূতির গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, যাকে একদা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, স্মৃতির দুয়ার খুলে সে ফিরে আসছে কি না এবং ফেলে যাওয়া সেই ভালোবাসার স্মৃতিতে সে জেগে আছে কি না—এমন এক অতৃপ্ত ও বিরহী আকুতি প্রকাশ পেয়েছে।
'অপরিচিতা' গল্পেও দেখা যায়, অনুপমের বিয়ের আসর ভেঙে যাওয়ার পর কল্যাণী তার জীবনের ধ্রুবতারা হয়ে থাকে। অনুপম প্রতিক্ষণ কল্যাণীর স্মৃতি মনে বয়ে বেড়ায়। ট্রেনে কল্যাণীর কণ্ঠস্বর শুনে তার হৃদয় আলোড়িত হয়। যাকে একসময় ভাগ্যের পরিহাসে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল (বিয়ে ভেঙে গিয়েছিল), পরবর্তীতে তাকেই অনুপম নিজের সারা মন দিয়ে পেতে চায় এবং তার ভালোবাসার স্মৃতির মালা বুকে জড়িয়ে বেঁচে থাকে। উদ্দীপকের এই হারানো প্রেমকে পাওয়ার তৃষ্ণা ও স্মৃতিমন্থনের সাথে গল্পের অনুপমের হৃদয়ের অনুভূতির স্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ভাবের সাথে 'অপরিচিতা' গল্পের নায়ক অনুপমের প্রেমবোধ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অনুপমের প্রেম কেবল বাহ্যিক কামনামূলক নয়, বরং তা স্মৃতিময়, ভক্তিমূলক এবং আত্মনিবেদিত এক গভীর প্রেমবোধ।
উদ্দীপকের কবিতাংশে দেখা যায়, এক বিরহী হৃদয় তার প্রিয়ার স্মৃতিচারণ করছে। ফেলে আসা ভালোবাসার মালাবুকে জড়িয়ে প্রিয়া তাকে স্বপ্নে দেখে কি না বা ফিরে পেতে চায় কি না—এই অতৃপ্ত বিরহবেদনা ও পুনর্মিলনের আকুতি এখানে প্রধান সুর।
'অপরিচিতা' গল্পে অনুপমের প্রেমবোধের ক্রমবিকাশ ঘটেছে। শুরুতে কল্যাণীর রূপের বর্ণনা শুনে সে মুগ্ধ হলেও বিয়ের আসরে মামার যৌতুকলোভী আচরণের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারেনি। কিন্তু বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর অনুপমের হৃদয়ে কল্যাণী চিরস্থায়ী আসন লাভ করে। পরবর্তীতে কল্যাণীর তেজস্বী রূপ ও স্বাধীনচেতা ব্যক্তিত্ব দেখে অনুপমের প্রেম আরো পরিণত ও গভীর রূপ নেয়। কল্যাণী যখন দেশমাতৃকার সেবায় নিজেকে সঁপে দিয়ে বিয়ে না করার ব্রত গ্রহণ করে, তখন অনুপম জোর জবরদস্তি না করে দূর থেকেই তাকে ভালোবেসে গেছে।
উদ্দীপকের মতো অনুপমও কল্যাণীর স্মৃতির সুবাস বুকে ধারণ করে দিন কাটিয়েছে। তবে অনুপমের প্রেম কেবল পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা কল্যাণীর সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা জানিয়ে দূর থেকে নিজেকে নিবেদনের এক শুচিশুভ্র আত্মত্যাগে রূপান্তরিত হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের বিরহভাবের সাথে অনুপমের প্রেমবোধের গভীর মিল রয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত এক নিঃস্বার্থ ভক্তিতে পরিণত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও