ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
বাদশা সরফরাজ খান ছিলেন একজন সরলমনা ও প্রজাবৎসল, শাসক। তিনি সবসময় অহেতুক রক্তপাত এড়িয়ে যেতেন। তার এই সরলতার সুযোগ নিয়ে একদল বিপথগামী জনতা তার বিরুদ্ধে কতিপয় অভিযোগ এনে বিদ্রোহ শুরু করে। তিনি এ বিদ্রোহ কঠোর হস্তে দমন না। করায় আস্তে আস্তে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়তে থাকে।
- ক)(1)
মহানবি (স) কাকে 'সাইফুল্লাহ' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন?
- খ)(2)
হযরত আবুজর গিফারি (রা)-কে নির্বাসন দেওয়া হয়েছিল কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের বাদশাহর সাথে ইসলামের কোন খলিফার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত খলিফার ওপর আনীত অভিযোগ সম্পর্কে তোমার মতামত যুক্তির আলোকে তুলে ধরো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মহানবি (স.) হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.)-কে 'সাইফুল্লাহ' (আল্লাহর তরবারি) উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হযরত আবুজর গিফারি (রা.) অত্যন্ত দুনিয়াবিমুখ ও কঠোর জাহিদ স্বভাবের সাহাবি ছিলেন। তিনি ধনী সাহাবি ও উমাইয়া নেতাদের অতিরিক্ত সম্পদ পুঞ্জীভূত করার তীব্র সমালোচনা করতেন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধছিল। রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত রাখা এবং ফেতনা প্রতিরোধ করার স্বার্থে খলিফা হযরত ওসমান (রা.) তাঁকে মদিনার নিকটবর্তী 'রাবযা' নামক স্থানে বসবাসের নির্দেশ (নির্বাসন) দিয়েছিলেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বাদশাহ সরফরাজ খানের সাথে ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রা.)-এর সাদৃশ্য রয়েছে।
হযরত ওসমান (রা.) ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, দয়ালু, কোমল হৃদয়ের ও প্রজাবৎসল শাসক। তাঁর শাসনামলের শেষভাগে একদল ষড়যন্ত্রকারী ও বিদ্রোহী তাঁর বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও অপশাসনের নানা মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করে মদিনা অবরোধ করে। কিন্তু তিনি মদিনার পবিত্রতা রক্ষা এবং কোনো মুসলমানের রক্ত যাতে না ঝরে, সেজন্য কঠোর পদক্ষেপ বা বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করা থেকে বিরত থাকেন। উদ্দীপকের সরফরাজ খানের মতো খলিফা ওসমানের এই অতিরিক্ত কোমলতা ও অহেতুক রক্তপাত এড়ানোর মনোভাবের সুযোগ নিয়ে বিদ্রোহীরা শেষ পর্যন্ত তাঁকে নির্মমভাবে শহীদ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খলিফা হযরত ওসমান (রা.)-এর ওপর আনীত অভিযোগসমূহ ছিল মূলত ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। নিচে যুক্তির আলোকে তা তুলে ধরা হলো:
১. স্বজনপ্রীতির অভিযোগ: বিদ্রোহীদের অভিযোগ ছিল তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে উমাইয়া বংশের লোকজনকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি মেধার ভিত্তিতে যোগ্য ব্যক্তিদেরই দায়িত্ব দিয়েছিলেন এবং তাঁদের অনেকেই পূর্ববর্তী খলিফাদের আমলেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
২. কোরআন পোড়ানোর অভিযোগ: আঞ্চলিক উপভাষার কারণে কোরআনের পাঠে বিভ্রান্তি দেখা দিলে তিনি প্রামাণ্য প্রতিলিপি তৈরি করে বাকি ভিন্ন পাঠগুলো পুড়িয়ে দেন। এটি ছিল মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের জন্য একটি যুগান্তকারী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ।
৩. বায়তুল মালের অপব্যবহার: হযরত ওসমান (রা.) ইসলাম গ্রহণের পূর্ব থেকেই আরবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধনী ব্যক্তি ছিলেন এবং নিজের সম্পদ খেলাফত ও জনগণের কল্যাণে অকাতরে দান করতেন। রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ তাঁর ক্ষেত্রে অবান্তর ও অযৌক্তিক।পরিশেষে বলা যায়, আবদুল্লাহ ইবনে সাবার নেতৃত্বাধীন চরমপন্থী ও বিশৃঙ্খলাকারী গোষ্ঠী খলিফার কোমল স্বভাবের সুযোগ নিয়ে খেলাফতকে অস্থিতিশীল করতেই এসব মিথ্যা অভিযোগ তুলেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও