গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • ভিকারুননিসা নূন কলেজ • ভিকারুননিসা নূন কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
করিম মিয়া একজন রিকশাচালক। তার বয়স ১৮ ১৮ এবং ওজন ৬৩ ৬৩ কেজি। তার দৈহিক চাহিদা অনুযায়ী যে খাবার খাওয়া প্রয়োজন তা সে খান না। দিন দিন সে নিজেকে দুর্বল অনুভব করছে। তাছাড়া তার শরীরের শক্তিও হ্রাস পাচ্ছে। এই সমস্যার সমাধানে পুষ্টিবিদ তাকে ছোট মাছ, দুধ ও ডিম খাওয়ার পাশাপাশি তার শরীরের চাহিদা অনুযায়ী ক্যালরি গ্রহণ করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন- "কোনো ব্যক্তির শক্তি চাহিদা নির্ণয়ে কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখতে হয়।"
- ক)(1)
মৌল বিপাক হার কাকে বলে?
- খ)(2)
"স্বাস্থ্য রক্ষায় খাদ্য ও পুষ্টি শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।" ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
করিম মিয়ার শক্তি চাহিদা নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
পুষ্টিবিদের বলা উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সম্পূর্ণ শারীরিক ও মানসিক বিশ্রামে থাকা অবস্থায় শরীরের অত্যাবশ্যকীয় অভ্যন্তরীণ কাজগুলো (যেমন—হৃৎস্পন্দন, শ্বসন, রক্তসঞ্চালন ইত্যাদি) সচল রাখার জন্য যে ন্যূনতম শক্তির প্রয়োজন হয়, তার হারকে মৌল বিপাক হার (BMR) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বাস্থ্য রক্ষায় খাদ্য ও পুষ্টি শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং পুষ্টি সম্পর্কিত জ্ঞান ব্যতীত সুস্থ জীবন বজায় রাখা অসম্ভব।
পুষ্টি শিক্ষার মাধ্যমে জানা যায় কোন বয়সে, কী ধরনের শারীরিক পরিশ্রমে এবং কোন অবস্থায় শরীরের কী পরিমাণ ক্যালরি ও পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন। সুষম খাদ্য নির্বাচন, খাদ্যের অপচয় রোধ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণের সঠিক নিয়ম এবং অপুষ্টিজনিত রোগ প্রতিরোধে পুষ্টি শিক্ষা সরাসরি সহায়তা করে। তাই শরীরকে রোগমুক্ত, কর্মক্ষম ও সুস্থ রাখতে খাদ্য ও পুষ্টি জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী করিম মিয়ার শক্তি চাহিদা নির্ণয় করা হলো:
করিম মিয়ার বয়স: ১৮ বছর
ওজন: ৬৩ কেজি
পেশা: রিকশাচালক (যা ভারী বা কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের আওতাভুক্ত)।১. মৌল বিপাকীয় শক্তি চাহিদা (BMR নির্ণয়):
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের ক্ষেত্রে প্রতি ঘণ্টায় প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১ কিলোক্যালরি শক্তির প্রয়োজন হয়।
অতএব, ২৪ ঘণ্টায় মৌলিক শক্তি চাহিদা = ওজন (কেজি) × ১ × ২৪
= ৬৩ × ১ × ২৪ = ১,৫১২ কিলোক্যালরি।২. দৈহিক পরিশ্রম অনুযায়ী অতিরিক্ত শক্তি চাহিদা:
রিকশা চালানো একটি অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রমের কাজ। ভারী শারীরিক পরিশ্রমের ক্ষেত্রে মৌল বিপাকীয় শক্তির প্রায় ৭৫% থেকে ১০০% বা প্রতি কেজি দৈহিক ওজনে দৈনিক প্রায় ৫০–৫৫ কিলোক্যালরি শক্তির প্রয়োজন হয়।পুষ্টিবিজ্ঞানের সাধারণ মানদণ্ড অনুযায়ী, একজন ভারী পরিশ্রমী পুরুষের দৈনিক শক্তি চাহিদা প্রতি কেজি ওজনে গড়ে ৫০ কিলোক্যালরি।
সুতরাং, করিম মিয়ার দৈনিক মোট শক্তি চাহিদা = ৬৩ × ৫০ = ৩,১৫০ কিলোক্যালরি (বা পরিশ্রমের তীব্রতাভেদে প্রায় ৩,১০০ - ৩,৩০০ কিলোক্যালরি)।অতএব, করিম মিয়ার দৈনিক শক্তি চাহিদা প্রায় ৩,১৫০ কিলোক্যালরি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পুষ্টিবিদের "কোনো ব্যক্তির শক্তি চাহিদা নির্ণয়ে কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখতে হয়" উক্তিটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও যথার্থ।
মানুষের শক্তির চাহিদা নির্দিষ্ট বা সবার জন্য সমান নয়। এটি ব্যক্তিভেদে পরিবর্তিত হয় এবং একাধিক নিয়ামক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। শক্তি চাহিদা নির্ণয়ে প্রধান বিবেচ্য বিষয়গুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. দৈহিক পরিশ্রম: শক্তির চাহিদার ক্ষেত্রে প্রধান নিয়ামক হলো ব্যক্তির শারীরিক শ্রমের ধরন। একজন উপবিষ্ট ব্যক্তির (অফিসকর্মী) চেয়ে করিম মিয়ার মতো রিকশাচালক বা দিনমজুরের (কঠোর পরিশ্রমী) অনেক বেশি শক্তি বা ক্যালরি প্রয়োজন।
২. বয়স: বৃদ্ধির সময়ে (যেমন—কৈশোর বা তরুণ বয়সে) কোষ গঠন ও বিকাশের কারণে বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়। করিম মিয়ার বয়স ১৮ বছর হওয়ায় তার বৃদ্ধি ও শক্তির চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বেশি।
৩. দেহের ওজন ও উচ্চতা: দেহের আকার ও ওজনের ওপর মৌল বিপাক এবং শক্তি ব্যয় নির্ভর করে। বেশি ওজনের ব্যক্তির কাজ সম্পাদনে তুলনামূলক বেশি ক্যালরি খরচ হয়।
৪. লিঙ্গভেদ: সাধারণত পুরুষদের শরীরে পেশিবহুল টিস্যুর অনুপাত নারীদের তুলনায় বেশি থাকায় মৌল বিপাক হার বেশি হয়, ফলে তাদের শক্তি চাহিদাও বেশি থাকে।
৫. শারীরবৃত্তীয় অবস্থা ও জলবায়ু: অসুস্থতা, সুস্থ হয়ে ওঠার সময় কিংবা ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখতে শক্তি চাহিদা বাড়ে।উদ্দীপকে করিম মিয়া ভারী কাজ করা সত্ত্বেও চাহিদামাফিক ক্যালরি গ্রহণ না করায় দুর্বল হয়ে পড়েছে। পুষ্টিবিদ যথার্থই উপলব্ধি করেছেন যে, তার বয়স ও পেশাগত পরিশ্রম বিবেচনা করেই শক্তির সঠিক চাহিদা নির্ধারণ ও সেই অনুযায়ী খাদ্য নির্বাচন করা অপরিহার্য। অতএব, পুষ্টিবিদের উক্তিটি যুক্তিযুক্ত ও যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও