গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • ভিকারুননিসা নূন কলেজ • ভিকারুননিসা নূন কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের বিষয়গুলো লক্ষ করো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
১। পরিবারের সদস্যদের বিশ্বাসপূর্ণ সম্পর্ক
২। পরিবারের শৃঙ্খলা
৩। পরিবারের সদস্যদের শ্রদ্ধাবোধ
৪। পরিবারের অনুকূল পরিবেশ।
- ক)(1)
প্রজনন স্বাস্থ্যের সংজ্ঞা দাও।
- খ)(2)
"শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য গঠনে পিতা-মাতার স্বাস্থ্যকর দাম্পত্য জীবন অত্যন্ত কার্যকর।" — ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উপস্থাপিত বিষয়গুলো শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য গঠনে স্বাস্থ্যকর গৃহ পরিবেশের কোন দিকটিকে ইঙ্গিত করে- ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উপস্থাপিত বিষয়গুলো কি পরিবেশের সামগ্রিকতা উপস্থাপন করতে পেরেছে? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রজনন স্বাস্থ্য বলতে প্রজননতন্ত্র, এর কার্যাবলি ও প্রজনন প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকাকে বোঝায়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য গঠনে পিতা-মাতার সুস্থ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ দাম্পত্য জীবন অত্যন্ত কার্যকর।
শিশু পরিবার থেকেই মানসিক নিরাপত্তা ও ভালোবাসার প্রাথমিক শিক্ষা পায়। পিতা-মাতার মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা, বিশ্বাস, সম্মান ও সুন্দর বোঝাপড়া থাকলে পারিবারিক পরিবেশ শান্ত ও আনন্দময় থাকে, যা শিশুর মধ্যে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করে। পক্ষান্তরে, পিতা-মাতার মধ্যে কলহ বা তিক্ত সম্পর্ক থাকলে শিশু নিরাপত্তাহীনতা, ভয় ও মানসিক হতাশায় ভোগে, যা তার মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই শিশুর মানসিক সুস্থতার জন্য পিতা-মাতার স্বাস্থ্যকর দাম্পত্য জীবন অপরিহার্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উপস্থাপিত বিষয়গুলো (বিশ্বাসপূর্ণ সম্পর্ক, পারিবারিক শৃঙ্খলা, শ্রদ্ধাবোধ ও অনুকূল পরিবেশ) শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য গঠনে স্বাস্থ্যকর গৃহ পরিবেশের 'মনস্তাত্ত্বিক ও আবেগীয় দিক' (Psychological and Emotional Environment) বা 'পারিবারিক আন্তঃসম্পর্কের দিকটিকে' ইঙ্গিত করে।
একটি শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য গৃহের ভৌত পরিবেশের চেয়েও গৃহের মানসিক ও আবেগীয় পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদ্দীপকের উপাদানগুলো গৃহের এমন এক পরিবেশ গড়ে তোলে যেখানে শিশুর সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত হয়:
১. পারস্পরিক বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা: পরিবারের সদস্যদের মাঝে বিশ্বাস ও শ্রদ্ধাবোধ শিশুর ভেতর নিরাপত্তাবোধ ও আত্মমর্যাদা জাগ্রত করে। শিশু নিজেকে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভাবতে শেখে।
২. পারিবারিক শৃঙ্খলা: একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ শিশুকে নিয়মনিষ্ঠ, সময় সচেতন এবং দায়িত্বশীল করে তোলে।
৩. অনুকূল পরিবেশ: পরিবারের ইতিবাচক পরিবেশ শিশুর ভীতি ও মানসিক চাপ দূর করে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের সুযোগ দেয়।সুতরাং, উল্লিখিত বিষয়গুলো শিশুর মনস্তাত্ত্বিক সুরক্ষা ও সুষম মানসিক স্বাস্থ্য গঠনে সহায়ক পারিবারিক পরিবেশকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
না, উদ্দীপকে উপস্থাপিত বিষয়গুলো একটি স্বাস্থ্যকর গৃহ পরিবেশের সামগ্রিকতা সম্পূর্ণভাবে উপস্থাপন করতে পারেনি।
গৃহ পরিবেশ মূলত দুটি প্রধান দিক নিয়ে গঠিত:
১. মনস্তাত্ত্বিক বা আবেগীয় পরিবেশ (অভ্যন্তরীণ মানবিক সম্পর্ক) এবং
২. ভৌত পরিবেশ (শারীরিক বা প্রাকৃতিক উপাদান)।উদ্দীপকে উল্লেখিত বিষয়সমূহ (সদস্যদের বিশ্বাসপূর্ণ সম্পর্ক, শৃঙ্খলা, শ্রদ্ধাবোধ ও অনুকূল পরিবেশ) মূলত গৃহের মনস্তাত্ত্বিক বা সামাজিক-মানসিক পরিবেশের প্রতিনিধিত্ব করে। এটি শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি হলেও একটি আদর্শ ও স্বাস্থ্যকর গৃহ পরিবেশের জন্য ভৌত পরিবেশের উপস্থিতি অপরিহার্য।
গৃহের সামগ্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিম্নলিখিত ভৌত বা অবকাঠামোগত উপাদানগুলো থাকা আবশ্যক:
১. আলো-বাতাসের সুব্যবস্থা: গৃহে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো ও বিশুদ্ধ বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, যা শিশুর দৈহিক সুস্থতার জন্য জরুরি।
২. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: গৃহ ও গৃহসংলগ্ন এলাকার পরিচ্ছন্নতা এবং পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা রোগবালাই থেকে রক্ষা করে।
৩. শিশুর খেলনা ও পড়াশোনার উপযুক্ত স্থান: শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ও বিনোদনের জন্য পর্যাপ্ত স্থান বা উন্মুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন।
৪. পুষ্টিকর খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি: শারীরিক সুরক্ষায় স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিরাপদ পানি অপরিহার্য।শারীরিক স্বাস্থ্য এবং মানসিক স্বাস্থ্য পরস্পরের পরিপূরক। কেবল মনস্তাত্ত্বিক দিক অনুকূল থাকলেই পরিবেশ সামগ্রিক হয় না, যদি না ভৌত উপাদানগুলো স্বাস্থ্যসম্মত থাকে। অতএব, উদ্দীপকে কেবল মনস্তাত্ত্বিক পরিবেশ তুলে ধরায় তা গৃহ পরিবেশের পূর্ণাঙ্গ বা সামগ্রিক রূপ প্রকাশে অপূর্ণ রয়ে গেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও