গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • ভিকারুননিসা নূন কলেজ • ভিকারুননিসা নূন কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    বংশগতি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    পরিপক্কতা ও শিক্ষণ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে (?) চিহ্নিত স্থানে কী বোঝানো হয়েছে? উক্ত শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার উপায়গুলো ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের প্রক্রিয়াগুলো শিশুর সুস্থতার পরিচায়ক— উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পিতামাতার বৈশিষ্ট্যসমূহ জিন বা ক্রোমোজোমের মাধ্যমে তাদের সন্তান-সন্ততির মধ্যে স্থানান্তরিত হওয়ার জৈবিক প্রক্রিয়াকে বংশগতি (Heredity) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরিপক্কতা ও শিক্ষণ পরস্পরের ওপর ঘনিষ্ঠভাবে নির্ভরশীল। পরিপক্কতা হলো শারীরিক ও মানসিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অভ্যন্তরীণ জৈবিক বৃদ্ধি ও সক্ষমতা অর্জন, যা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটে। অন্যদিকে শিক্ষণ হলো অভিজ্ঞতা ও অনুশীলনের মাধ্যমে আচরণের অপেক্ষাকৃত স্থায়ী পরিবর্তন।
    পরিপক্কতা না এলে কোনো বিষয়ে শিক্ষণ সম্ভব হয় না; যেমন শিশুর পায়ের পেশি ও হাড় উপযুক্ত পরিপক্কতা না পেলে সে হাঁটতে বা দৌড়াতে শিখতে পারে না। আবার পরিপক্কতা আসার পর উপযুক্ত পরিবেশ ও শিক্ষণের সুযোগ না পেলে শিশুর অন্তর্নিহিত সম্ভাবনার বিকাশ ঘটে না। তাই শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে পরিপক্কতা ও শিক্ষণ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে (?) চিহ্নিত স্থানে 'নবজাতক' (বা নবজাতকের শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও প্রতিবর্ত ক্রিয়া)-কে বোঝানো হয়েছে।

    নবজাতক শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার উপায়সমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. সঠিক পুষ্টি ও শালদুধ প্রদান: জন্মের পর যত দ্রুত সম্ভব শিশুকে মায়ের শালদুধ খাওয়াতে হবে। এটি শিশুর প্রথম টিকা হিসেবে কাজ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। প্রথম ছয় মাস শিশুকে কেবল বুকের দুধই দিতে হবে।
    ২. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নাড়ির যত্ন: নবজাতকের নাড়ি সর্বদা শুকনো ও পরিষ্কার রাখতে হবে, যাতে সংক্রমণ না ঘটে। শিশুর পোশাক ও ব্যবহারের কাপড়চোপড় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও নরম হতে হবে।
    ৩. উপযুক্ত উষ্ণতা রক্ষা: নবজাতকের শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমে যেতে পারে। তাই জন্মের পর শিশুকে শুকনো নরম কাপড়ে জড়িয়ে মায়ের বুকের উষ্ণতায় (ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার) রাখতে হবে এবং ঠান্ডা থেকে রক্ষা করতে হবে।
    ৪. পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুম: উদ্দীপক অনুযায়ী নবজাতক দিনে প্রায় ১৮–২০ ঘণ্টা ঘুমায়। শিশুর পর্যাপ্ত ঘুমের উপযোগী শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
    ৫. রোগ প্রতিরোধ ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ: অপরিষ্কার হাতে শিশুকে স্পর্শ করা যাবে না। যথাসময়ে প্রয়োজনীয় টিকাদান সম্পন্ন করতে হবে এবং যেকোনো অসুস্থতায় অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত লক্ষণসমূহ যেমন— হৃদস্পন্দন (১২০-১৪০ বার/মিনিট), ওজন (২.৫-৩.৫ কেজি), উচ্চতা (৫০ সেমি বা ১৯ ইঞ্চি), ঘুম (২০ ঘণ্টা), ত্বক সংবেদনশীলতা, চোখের সংকোচন-প্রসারণ এবং স্বাভাবিকভাবে হাত দিয়ে বস্তু ধরার মতো প্রতিবর্ত ক্রিয়া বা রিফ্লেক্স নবজাতকের স্বাভাবিক বিকাশ ও শারীরিক সুস্থতার পরিচায়ক— উক্তিটি যথার্থ।

    কারণসমূহ নিচে মূল্যায়ন করা হলো:
    ১. শারীরিক পরিমাপ: একজন সুস্থ ও পূর্ণকালীন (Full-term) নবজাতকের জন্মের সময় স্বাভাবিক ওজন হওয়া উচিত ২.৫ থেকে ৩.৫ কেজি এবং উচ্চতা প্রায় ৫০ সেমি। উদ্দীপকের এই পরিমাপগুলো নির্দেশ করে যে শিশুটি গর্ভকালীন সময়ে যথাযথ পুষ্টি পেয়েছে এবং তার শারীরিক গঠন স্বাভাবিক।
    ২. হৃদস্পন্দন: নবজাতকের হৃৎপিণ্ডের স্বাভাবিক স্পন্দন প্রতি মিনিটে ১২০-১৪০ বার, যা তার রক্তসংবহনতন্ত্রের সুষ্ঠু ও কার্যকর কার্যকারিতাকে প্রমাণ করে।
    ৩. সংবেদনশীল ত্বক ও ঘুম: ত্বক সংবেদনশীল হওয়া প্রমাণ করে শিশুর স্নায়ুতন্ত্র বাহ্যিক উদ্দীপনায় সাড়া দিতে সক্ষম। এছাড়া দিনে ১৮-২০ ঘণ্টা স্বাভাবিক ঘুম শিশুর মস্তিষ্ক ও শারীরিক কোষের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।
    ৪. প্রতিবর্ত ক্রিয়া (Reflexes): চোখে আলোর প্রতি প্রতিক্রিয়া (সংকোচন-প্রসারণ) এবং হাতে কিছু স্পর্শ করলে তা আঁকড়ে ধরা (Grasp reflex) নবজাতকের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের সুস্থতা নির্দেশ করে। এসব অনৈচ্ছিক প্রতিক্রিয়া সুস্থ নবজাতকের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য।

    সুতরাং, উদ্দীপকে প্রতিফলিত শারীরিক ও শারীরবৃত্তীয় লক্ষণগুলো পর্যালোচনা করলে নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে প্রক্রিয়াগুলো শিশুর পূর্ণ সুস্থতারই নির্ভরযোগ্য পরিচায়ক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন