ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • প্রাক-ইসলামি আরব • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    পিরামিড কী?

    (1)
  2. খ)

    মিসরকে নীল নদের দান বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের চিত্র কোন সভ্যতার স্বাক্ষর বহন করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত সভ্যতার অবদান মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পিরামিড হলো প্রাচীন মিসরের ফারাওদের মরদেহ বা মমি সংরক্ষণ করার জন্য নির্মিত বিশালাকার পাথুরে সমাধিস্তম্ভ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গ্রিক ইতিহাসবিদ হেরোডোটাস মিসরকে 'নীল নদের দান' বলেছেন। কারণ, নীল নদ না থাকলে মিসর একটি শুষ্ক মরুভূমিতে পরিণত হতো। প্রতি বছর নীল নদের বন্যায় উভয় তীরে উর্বর পলিমাটি জমত, যা কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত সহায়ক ছিল। এ নদের পানি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করেই প্রাচীন মিসরীয় সমৃদ্ধ সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। তাই মিসরকে নীল নদের দান বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্রটি সুমেরীয় সভ্যতার কিউনিফর্ম (Cuneiform) বা কীলকাকার লিখন পদ্ধতির বিবর্তন ও স্বাক্ষর বহন করে।

    মেসোপটেমীয় সভ্যতার অন্যতম ধারক সুমেরীয়রা লিখন পদ্ধতি উদ্ভাবনে যুগান্তকারী অবদান রাখে। উদ্দীপকে প্রদর্শিত চিত্রে দেখা যাচ্ছে যে, বিভিন্ন বস্তুর চিত্রভিত্তিক চিহ্ন (Pictograph) থেকে ক্রমান্বয়ে কোণাকৃতি বা পেরেক আকৃতির কীলকাকার সংকেত (Cuneiform)-এ রূপান্তর ঘটেছে (যেমন- head, hand, barley, bread, water ইত্যাদি শব্দগুলোর বিবর্তন)।

    সুমেরীয়রা ভেজা নরম মাটির ফলকে তীক্ষ্ণ কাঠি বা নলখাগড়া দিয়ে চেপে চেপে লিখে রোদে শুকিয়ে নিত বা আগুনে পুড়িয়ে স্থায়ী করত। তাদের এই প্রতীকমূলক লিখন পদ্ধতিকেই 'কিউনিফর্ম' বলা হয়। অতএব, উদ্দীপকের চিত্রটি সুমেরীয় সভ্যতার লিখন পদ্ধতির স্বাক্ষর বহন করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত সভ্যতাটি হলো মেসোপটেমিয়ার অন্তর্গত সুমেরীয় সভ্যতা। মানব সভ্যতার ইতিহাসে সুমেরীয়দের অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী। নিচে তাদের প্রধান অবদানসমূহ আলোচনা করা হলো:

    ১. লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন: সুমেরীয়দের শ্রেষ্ঠ অবদান হলো 'কিউনিফর্ম' বা কীলকাকার লিখন পদ্ধতির আবিষ্কার। এর মাধ্যমে ভাব প্রকাশ ও লিখিত ইতিহাস রচনার সূচনা ঘটে।

    ২. চাকার আবিষ্কার: সুমেরীয়রাই সর্বপ্রথম পরিবহণ এবং মৃৎশিল্পের কাজে ব্যবহারের জন্য চাকা আবিষ্কার করে, যা মানবজাতির যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী বিপ্লব আনে।

    ৩. বিজ্ঞান ও গণিত: সুমেরীয়রা গণিতে ৬০ ভিত্তিক সংখ্যাপদ্ধতি (Sexagesimal system) উদ্ভাবন করে। তাদের হাত ধরেই বৃত্তকে ৩৬০ ডিগ্রিতে এবং এক ঘণ্টাকে ৬০ মিনিট ও এক মিনিটকে ৬০ সেকেন্ডে বিভক্ত করার নিয়ম চালু হয়। তারা চন্দ্রপঞ্জিকাও আবিষ্কার করে এবং বছরকে ১২ মাস ও দিন-রাতকে ২৪ ঘণ্টায় ভাগ করে।

    ৪. স্থাপত্য ও ধর্ম: তারা রোদে পোড়ানো ইট দিয়ে 'জিগুরাত' নামের বিশাল মন্দির বা উপাসনালয় নির্মাণ করেছিল, যা তৎকালীন স্থাপত্যবিদ্যার অনন্য নিদর্শন।

    ৫. আইন ও সাহিত্য: সুমেরীয়রাই সর্বপ্রথম বিধিবদ্ধ আইন প্রণয়নের ভিত্তি স্থাপন করে। তাদের রচিত 'গিলগামেশের মহাকাব্য' পৃথিবীর প্রাচীনতম সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।

    পরিশেষে বলা যায়, লিখনরীতি, বিজ্ঞানের বিকাশ, চাকা আবিষ্কার ও সুসংহত নগর জীবন গড়ে তোলার মাধ্যমে সুমেরীয় সভ্যতা পরবর্তী বিশ্বের সকল সভ্যতার অগ্রগতিতে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে গেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন