সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০২১
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
মমতাকে 'সমাজবিজ্ঞান সমীক্ষণ' গ্রন্থটি পড়তে দেখে তার পিতা বললেন, “তুমি কি জানো, এই গ্রন্থের লেখকের অক্লান্ত পরিশ্রমেই বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের সরব পথ চলা শুরু হয়েছিল?" মমতা বলল, “বাবা, একথাও মনে রাখতে হবে যে, বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের বিদ্বান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রচেষ্টায় সমাজবিজ্ঞান সমৃদ্ধ হয়েছে।"
- ক)(1)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম অধ্যক্ষ কে ছিলেন?
- খ)(2)
‘সমাজবিজ্ঞান একটা মূল্যবোধ নিরপেক্ষ বিজ্ঞান' বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান বিকাশে উদ্দীপকে উল্লেখিত গ্রন্থের লেখকের ভূমিকা ও অবদান বর্ণনা করো ।
- ঘ)(4)
তুমি কি মমতার মতামতের সাথে একমত? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপনসহ বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের বিকাশধারা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম অধ্যক্ষ (বিভাগীয় প্রধান) ছিলেন ফরাসি নৃবিজ্ঞানী ড. পিয়ের বেসায়নি (Pierre Bessaignet)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘সমাজবিজ্ঞান একটি মূল্যবোধ নিরপেক্ষ বিজ্ঞান’ বলতে বোঝায় যে, সমাজবিজ্ঞান সমাজকে যেমন আছে ঠিক সেভাবেই বস্তুনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে, কোনো ঘটনা ভালো কি মন্দ, কাঙ্ক্ষিত কি অনাকাঙ্ক্ষিত—সে বিষয়ে নিজের নৈতিক মতামত বা পক্ষপাত আরোপ করে না। অর্থাৎ সমাজবিজ্ঞানী ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, আবেগ কিংবা সামাজিক পূর্বসংস্কার পরিহার করে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'সমাজবিজ্ঞান সমীক্ষণ' গ্রন্থের লেখক হলেন অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. নাজমুল করিম। বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপন ও প্রসারে তাঁর অবদান অবিসংবাদিত।
ড. এ. কে. এম. নাজমুল করিমকে বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের জনক বলা হয়। ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি পিয়ের বেসায়নির সাথে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি দীর্ঘ সময় এ বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন এবং গবেষণার পরিবেশ তৈরি করেন। তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থসমূহ, যেমন—'Changing Society in India and Pakistan' এবং 'সমাজবিজ্ঞান সমীক্ষণ' বাংলাদেশের সমাজকাঠামো ও শ্রেণি রূপান্তরের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মমতার মতামতের সাথে সম্পূর্ণ একমত। অধ্যাপক এ. কে. এম. নাজমুল করিমের পাশাপাশি বিভিন্ন বিদ্বান ব্যক্তি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান সমৃদ্ধ হয়েছে।
১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান চালুর পর ১৯৬৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ খোলা হয়। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। এছাড়া বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (BARD), বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (BIDS) এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজতাত্ত্বিক গবেষণাও সমাজবিজ্ঞান চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ড. পিয়ের বেসায়নি, ড. রঙ্গলাল সেন, ড. মো. বদরুল আনামসহ অসংখ্য শিক্ষাবিদ সমাজবিজ্ঞানের বিকাশ ও সম্প্রসারণে ব্যাপক অবদান রেখেছেন। সুতরাং কেবল একজন ব্যক্তির নয়, বরং বহু মনীষী ও প্রতিষ্ঠানের অবদানেই বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের সুদৃঢ় ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও