সমাজকর্ম ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০২১

সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন

ছেলেবেলায় বাবা মারা যাওয়ার পর চাচার সহযোগিতায় অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে লেখাপড়া শেষ করে রাইতুল ইসলাম প্রথম শ্রেণীর চাকরিতে কর্মরত। মায়ের ইচ্ছায় পারিবারিক সম্মতিতে সমাজ স্বীকৃত পন্থায় ও ধর্মীয় বিধি অনুসারে নাফিসাকে তিনি জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করেন। এখন তিনি মা, দুই সন্তানসহ সবাইকে নিয়ে ভালো আছেন।

  1. ক)

    পরিবার কি?

    (1)
  2. খ)

    সামাজিক প্রতিষ্ঠান বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের রাইসুল ইসলাম ও নাফিসার সামাজিক সম্পর্কের ভিত্তি কি? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    "মানব সমাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখায় উক্ত সামাজিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা বহুমুখী" - উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরিবার হলো বিবাহ ও রক্ত বা দত্তক সূত্রের ভিত্তিতে গঠিত এমন একটি মৌলিক সামাজিক প্রতিষ্ঠান, যার সদস্যরা সাধারণত একই ছাদের নিচে বসবাস করে একটি যৌথ সত্তা হিসেবে জীবনযাপন করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সামাজিক প্রতিষ্ঠান হলো সমাজস্বীকৃত এমন কিছু স্থায়ী নিয়ম-কানুন, প্রথা, আচার ও কাঠামোর সমষ্টি, যা মানুষের মৌলিক সামাজিক প্রয়োজন পূরণ এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠে। বিবাহ, পরিবার, ধর্ম, শিক্ষা, অর্থনীতি ও রাষ্ট্র ইত্যাদি সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এগুলোর মাধ্যমে সমাজের সদস্যদের আচরণ নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের রাইসুল ইসলাম ও নাফিসার সামাজিক সম্পর্কের ভিত্তি হলো 'বিবাহ'।

    বিবাহ হলো নারী ও পুরুষের মধ্যে সমাজ ও আইনস্বীকৃত এক স্থায়ী বন্ধন, যার মাধ্যমে তারা একটি পরিবার গঠন করে এবং তাদের যৌন সম্পর্ক ও সন্তান উৎপাদন বৈধতা লাভ করে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, রাইসুল ইসলাম মায়ের ইচ্ছায় পারিবারিক সম্মতিতে এবং সমাজস্বীকৃত ও ধর্মীয় বিধি অনুসারে নাফিসাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করেছেন। ধর্মীয় রীতি ও সমাজস্বীকৃত পন্থায় জীবনসঙ্গী নির্বাচনের এই প্রক্রিয়াই হলো বিবাহ। বিবাহের মাধ্যমেই তাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ও বৈধ সামাজিক সম্পর্কের সূচনা হয়েছে, যা পরবর্তীতে পরিবার গঠনের ভিত্তি স্থাপন করেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানব সমাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখায় বিবাহ নামক সামাজিক প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা বহুমুখী—উক্তিটি যথার্থ।

    বিবাহ কেবল দুটি ব্যক্তির মিলন নয়, বরং এটি সমাজ গঠনের ভিত্তিপ্রস্তর ও সমাজের অস্তিত্ব রক্ষার প্রধান মাধ্যম। উদ্দীপকে রাইসুল ইসলাম ও নাফিসা বিবাহের মাধ্যমে যে দাম্পত্য সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন, তা মানবজাতির টিকে থাকার মৌলিক শর্ত হিসেবে কাজ করে।

    বিবাহের মাধ্যমে সমাজের নিম্নলিখিত বহুমুখী ভূমিকা পালিত হয়:
    ১. জৈবিক চাহিদা পূরণ ও বৈধতা: বিবাহ নারী ও পুরুষের জৈবিক চাহিদার বৈধ ও সুশৃঙ্খল পথ তৈরি করে এবং সমাজকে অনাচার থেকে মুক্ত রাখে।
    ২. বংশবৃদ্ধি ও সমাজ রক্ষা: সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে বিবাহ মানব প্রজন্মের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে। সন্তান ছাড়া সমাজ ধ্বংসের মুখে পতিত হতো।
    ৩. সন্তানের বৈধতা ও পরিচয়: বিবাহের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া সন্তানের সামাজিক পরিচয় ও বৈধতা প্রতিষ্ঠিত হয়।
    ৪. পরিবার গঠন ও সামাজিকীকরণ: বিবাহের মাধ্যমেই পরিবার গড়ে ওঠে, যেখানে নতুন প্রজন্মকে সমাজের রীতিনীতি ও মূল্যবোধ শিক্ষা দেওয়া হয়।
    ৫. সামাজিক ও অর্থনৈতিক দায়িত্ব বণ্টন: বিবাহ নারী-পুরুষের মধ্যে পারস্পরিক কর্তব্য ও দায়িত্ববোধ তৈরি করে, যা সমাজ কাঠামোর ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে।

    অতএব, দেখা যায় যে বিবাহের মাধ্যমেই পরিবার, আত্মীয়তা ও সমাজের শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ণ থাকে। তাই মানব সমাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এ প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অনন্য ও বহুমুখী।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন