জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২২
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
পাঠ্য বইতে প্রাণীজগতের সবচেয়ে বড় পর্বের একটি প্রাণী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এর রয়েছে বিশেষ ধরনের শ্বসনতন্ত্র।
- ক)(1)
স্ক্লেরাইট কী?
- খ)(2)
অসম্পূর্ণ রূপান্তর বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশেষ ধরনের শ্বসনতন্ত্রটি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটি আলোর তারতম্যের ভিত্তিতে ভিন্ন ধরনের প্রতিবিম্ব গঠন করে-বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের (যেমন ঘাসফড়িং) দেহের শক্ত বহিঃকঙ্কালের প্রতিটি খণ্ডককে স্ক্লেরাইট (Sclerite) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে রূপান্তরে ডিম ফুটে সরাসরি অপূর্ণাঙ্গ প্রাণী বের হয় যা গঠন ও স্বভাবের দিক থেকে ক্ষুদ্রাকৃতির পূর্ণাঙ্গ প্রাণীর মতো (শুধু ডানা ও প্রজননতন্ত্র অপূর্ণ থাকে) এবং কয়েকটি নির্মোচনের (moulting) মাধ্যমে ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করে, তাকে অসম্পূর্ণ রূপান্তর (Incomplete metamorphosis) বলে। যেমন—ঘাসফড়িং ও তেলাপোকার রূপান্তর। এতে কোনো পিউপা দশা থাকে না এবং শিশু দশাকে নিম্ফ (Nymph) বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রাণীজগতের সবচেয়ে বড় পর্ব (Arthropoda)-এর আলোচিত প্রাণীটি হলো ঘাসফড়িং এবং এর বিশেষ ধরনের শ্বসনতন্ত্রটি হলো ট্রাকিয়াল তন্ত্র (Tracheal system)।
ঘাসফড়িংয়ের ট্রাকিয়াল তন্ত্র নিম্নোক্ত অংশগুলো নিয়ে গঠিত:
১. শ্বাসরন্ধ্র বা স্পাইরাকল (Spiracles): ঘাসফড়িংয়ের দেহে ১০ জোড়া স্পাইরাকল থাকে (বক্ষীয় অঞ্চলে ২ জোড়া এবং উদরীয় অঞ্চলে ৮ জোড়া), যা কপাটিকাযুক্ত এবং বাইরে উন্মুক্ত।
২. ট্রাকিয়া (Trachea): এগুলো কিউটিকল নির্মিত শাখা-প্রশাখাবিশিষ্ট স্থিতিস্থাপক সূক্ষ্ম নালিকা। এদের ভেতরের প্রাচীরে ইনটিমা ও টিনিডিয়া বলয় থাকে, যা নালীকে চুপসে যেতে দেয় না।
৩. ট্রাকিওল (Tracheoles): ট্রাকিয়ার সূক্ষ্ম শাখাকে ট্রাকিওল বলে। এর প্রাচীরে ইনটিমা বা টিনিডিয়া থাকে না এবং এর ভেতরে ট্রাকিওল রস থাকে। এটি সরাসরি দেহকোষের সংস্পর্শে থাকে।
৪. বায়ুথলি (Air sacs): কিছু কিছু প্রধান ট্রাকিয়া স্ফীত হয়ে পাতলা প্রাচীরবিশিষ্ট বায়ুথলি গঠন করে, যা বাতাস ধরে রাখে এবং শ্বসনে সহায়তা করে।কার্যপদ্ধতি: স্পাইরাকল দিয়ে গৃহীত অক্সিজেন ট্রাকিয়া ও ট্রাকিওলের মাধ্যমে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় সরাসরি দেহকোষে পৌঁছায় এবং একইভাবে কোষ থেকে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইড বাইরে নিষ্ক্রান্ত হয়। এতে রক্তের কোনো ভূমিকা থাকে না।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটি (ঘাসফড়িং) আলোর তীব্রতার পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে পুঞ্জাক্ষির ওমাটিডিয়ামের মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিবিম্ব গঠন করে—১. সুপারপজিশন প্রতিবিম্ব এবং ২. অ্যাপজিশন বা মোজাইক প্রতিবিম্ব।
১. উজ্জ্বল বা তীব্র আলোতে (অ্যাপজিশন প্রতিবিম্ব):
উজ্জ্বল আলোতে আইরিশ পিগমেন্ট আবরণী এবং রেটিনাল পিগমেন্ট আবরণী সম্পূর্ণ প্রসারিত হয়ে প্রতিটি ওমাটিডিয়ামকে সম্পূর্ণভাবে পৃথক করে রাখে। ফলে কেবল লম্বালম্বিভাবে আপতিত আলোক রশ্মিই কর্নিয়া ও ক্রিস্টালাইন কোনের মধ্য দিয়ে রhabdome-এ পৌঁছে। তীর্যকভাবে আপতিত আলোক রশ্মি পিগমেন্ট আবরণী দ্বারা শোষিত হয়। এতে প্রতিটি ওমাটিডিয়ামে বস্তুর বিভিন্ন অংশের আলাদা আলাদা স্বতন্ত্র প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। সব মিলিয়ে বস্তুর একটি সামগ্রিক খণ্ড খণ্ড মোজাইক বা অ্যাপজিশন প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।২. স্তিমিত বা মৃদু আলোতে (সুপারপজিশন প্রতিবিম্ব):
মৃদু বা স্তিমিত আলোতে আইরিশ ও রেটিনাল পিগমেন্ট আবরণী সংকুচিত হয়ে নির্দিষ্ট স্থানে সরে যায়। ফলে ওমাটিডিয়ামগুলোর মধ্যে কোনো পিগমেন্ট প্রাচীর থাকে না। এর ফলে লম্বালম্বি রশ্মির পাশাপাশি পাশের ওমাটিডিয়ামে তীর্যকভাবে আপতিত আলোক রশ্মিও রhabdome-এ প্রবেশ করতে পারে। এতে একটি ওমাটিডিয়ামের আলোক রশ্মি অন্য ওমাটিডিয়ামের র্যাবডোমে উপরিপাতিত (overlap) হয়। ফলে গঠিত প্রতিবিম্বটি অস্পষ্ট, ঝাপসা ও উজ্জ্বল হয়। একে সুপারপজিশন প্রতিবিম্ব বলে।অতএব, দেখা যায় যে আলোর তীব্রতা ও তারতম্যের ওপর ভিত্তি করে ওমাটিডিয়ামের পিগমেন্ট আবরণীর সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে ঘাসফড়িং ভিন্ন ভিন্ন ধরনের প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করে দর্শন সম্পন্ন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও