ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২২

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন

সিহাব, সাকিব ও শাহানা সমঝোতার ভিত্তিতে একত্রিত হয়ে একটি পোল্ট্রি ফার্ম ব্যবসায় শুরু করলেন। সাকিব পোল্ট্রি চাষে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও পারদর্শী কোনো প্রকার মূলধন প্রদান ছাড়াই সাকিবকে অভিজ্ঞতা পারদর্শিতার ভিত্তিতে ব্যবসায় পরিচালনার কাজে যুক্ত করা হয় সম্প্রতি আদালতের রায়ে শাহানা দেউলিয়া ঘোষিত হয়।

  1. ক)

    অংশীদারি ব্যবসায় কি?

    (1)
  2. খ)

    চুক্তিকে অংশীদারি ব্যবসায়ের মূলভিত্তি বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে জনাব সাকিব কোন ধরনের অংশীদার? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে কর বর্ণিত পরিস্থিতিতে ব্যবসায় সংগঠনটির অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন? বিলোপসাধনের ধরন উল্লেখপূর্বক যুক্তি দেখাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইন অনুসারে, সকলের দ্বারা বা সকলের পক্ষে একজনের দ্বারা পরিচালিত ব্যবসায়ের মুনাফা নিজেদের মধ্যে বণ্টনের উদ্দেশ্যে চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তিবর্গের মধ্যকার সম্পর্ককে অংশীদারি ব্যবসায় বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চুক্তির মাধ্যমেই অংশীদারি ব্যবসায়ের সৃষ্টি, পরিচালনা এবং বিলোপসাধনের যাবতীয় কার্যক্রম নির্ধারিত হয় বলে চুক্তিকে অংশীদারি ব্যবসায়ের মূলভিত্তি বলা হয়।

    অংশীদারি ব্যবসায় সামাজিক মর্যাদা, পারিবারিক উত্তরাধিকার বা জন্মসূত্রে গড়ে ওঠে না; বরং এটি অংশীদারদের মধ্যকার পারস্পরিক সমঝোতা ও চুক্তির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়। অংশীদারদের মূলধন, লাভ-লোকসান বণ্টন, দায়িত্ব ও অধিকারের বিষয়গুলো চুক্তিতে বর্ণিত শর্তাবলি দ্বারা পরিচালিত হয়। চুক্তি ছাড়া কোনো অংশীদারি সম্পর্ক কল্পনা করা যায় না বলেই চুক্তিকে অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে জনাব সাকিব হলেন একজন ‘কর্মী অংশীদার’ (Working Partner)।

    যে অংশীদার অংশীদারি ব্যবসায়ে কোনো মূলধন বিনিয়োগ না করে শুধুমাত্র নিজের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও শ্রম দিয়ে ব্যবসায় পরিচালনায় প্রত্যক্ষ ও পূর্ণকালীন ভূমিকা পালন করেন, তাকে কর্মী অংশীদার বলে। এ ধরনের অংশীদার সাধারণ অংশীদারের মতোই আনুপাতিক হারে ব্যবসায় থেকে মুনাফা ও নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন এবং তৃতীয় পক্ষের নিকট দায়ী থাকেন।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, সাকিব পোল্ট্রি চাষে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও পারদর্শী। তিনি কোনো প্রকার মূলধন ব্যবসায় প্রদান করেননি; বরং তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তাকে ব্যবসাটির সার্বিক পরিচালনার কাজে যুক্ত করা হয়েছে। মূলধন সরবরাহ না করে শুধু শ্রম ও দক্ষতা প্রদান করায় সাকিব একজন কর্মী অংশীদার।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি মনে করি বর্ণিত পরিস্থিতিতে ব্যবসায় সংগঠনটির অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন, কারণ আদালতের রায়ে একজন অংশীদার দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ায় ব্যবসায়টি ‘বাধ্যতামূলক বিলোপসাধন’-এর আওতায় পড়তে পারে।

    ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনের ৩৫ ধারা অনুযায়ী, চুক্তিতে বিপরীত কোনো উল্লেখ না থাকলে কোনো অংশীদার আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত হলে ব্যবসায়ের বিলোপসাধন ঘটে। এছাড়া যদি ব্যবসায়ে অংশীদার সংখ্যা মাত্র দুজন অবশিষ্ট থাকে এবং তাদের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেয়, তবে যৌথ ব্যবসায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে আইনের ৪১(খ) ধারা অনুসারে কোনো ঘটনা ঘটার কারণে ব্যবসায়ের কাজ চালিয়ে যাওয়া বেআইনি হয়ে পড়লে তা বাধ্যতামূলক বিলোপসাধনের আওতায় পড়ে। সাধারণ ক্ষেত্রে অংশীদারের দেউলিয়াত্ব ৩৯ ও ৪২ ধারার অধীনে চুক্তি সাপেক্ষে বিশেষ বিলোপের কারণ হতে পারে, তবে চুক্তিতে সুস্পষ্ট উল্লেখ না থাকলে ফার্মের অস্তিত্ব মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে।

    উদ্দীপকে সিহাব, সাকিব ও শাহানা মিলে পোল্ট্রি ফার্ম গড়ে তোলেন। সম্প্রতি আদালতের রায়ে শাহানা দেউলিয়া ঘোষিত হয়েছেন। যেহেতু একজন অংশীদার দেউলিয়া ঘোষিত হয়েছেন, সেহেতু চুক্তিপত্রে ফার্ম চালু রাখার সুস্পষ্ট পূর্বশর্ত না থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবসায়টির বিলোপসাধন ঘটবে। সাকিব যেহেতু মূলধন জোগান দেননি এবং শাহানা দেউলিয়া, ফলে ব্যবসায়িক দায়দেনা ও অর্থায়নের সমস্ত চাপ সিহাবের ওপর এসে পড়ে, যা অংশীদারি সম্পর্ককে অকার্যকর করে দেয়।

    সুতরাং, আদালতের রায়ে অংশীদার দেউলিয়া হওয়ায় ব্যবসায়টি আইনগতভাবে ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং এর ধারাবাহিক অস্তিত্ব নিশ্চিতভাবেই গভীর সংকটের সম্মুখীন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন