ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • খুলাফায়ে রাশেদিন (৬৩২-৬৬১ খ্রি.) • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
সমশের উদ্দিন একজন বড় ব্যবসায়ী ও ধনবান ব্যক্তি। তাঁর উদারতার কথা কারো অজানা নয়। তিনি যেমন ভদ্র ও চরিত্রবান। তেমনি পরোপকারীও বটে। যে কোনো সমস্যা বা দুর্যোগের সময় তিনি মানুষের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসেন। তার দয়া-দক্ষিণা উত্তম চরিত্র ও মহত্ত্বের কারণে সকলেই তাকে সম্মান করে। ধর্মীয় ব্যাপারে তিনি যথেষ্ট আনুগত্যশীল। তিনি এলাকাবাসীর অনুরোধে নিজ খরচে একটি মসজিদ নির্মাণ করে দেন। এতে এলাকাবাসী খুবই খুশি হয়।
- ক)(1)
হযরত ওমর (রা)-এর উপাধি কী ছিল?
- খ)(2)
দিওয়ান বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
সমশের সাহেব কোন খলিফাকে অনুসরণ করে মসজিদের সকল ব্যয়ভার বহন করেছিলেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
আর্ত-মানবতার সেবায় সমশের সাহেবের মতো মানুষদের ভূমিকা সমাজে কী ধরনের অবদান রাখবে বলে তুমি মনে কর? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হযরত ওমর (রা.)-এর উপাধি ছিল 'ফারুক' (সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘দিওয়ান’ (Diwan) হলো রাজস্ব বা অর্থ বিভাগ, যা খলিফা হযরত ওমর (রা.) প্রবর্তন করেছিলেন।
ইসলামি সাম্রাজ্য বিস্তারের সাথে সাথে গনিমত ও রাজস্বের আয় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। এ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব সুষ্ঠুভাবে সংরক্ষণ, পরিচালনা এবং মুসলমানদের মধ্যে ভাতা বা পেনশন বণ্টনের উদ্দেশ্যে হযরত ওমর (রা.) একটি কেন্দ্রীয় দপ্তর প্রতিষ্ঠা করেন, যা ‘দিওয়ান’ বা ‘দিওয়ানুল জান্দ’ নামে পরিচিত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমশের সাহেব ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা.)-কে অনুসরণ করে মসজিদের সকল ব্যয়ভার বহন করেছিলেন।
হযরত উসমান (রা.) ছিলেন একজন অত্যন্ত ধনী ও দানশীল ব্যক্তি। ইসলামের প্রয়োজনে তিনি অকাতরে ধনসম্পদ দান করতেন বলে তাঁকে ‘গনি’ উপাধি দেওয়া হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশায় মসজিদে নববী সম্প্রসারণের প্রয়োজন দেখা দিলে হযরত উসমান (রা.) নিজ ব্যয়ে সংলগ্ন জমি ক্রয় করে তা সম্প্রসারিত করেন। এছাড়া দুর্ভিক্ষ ও তাবুক যুদ্ধের সময়েও তিনি বিপুল অর্থ দান করেছিলেন।
উদ্দীপকের সমশের সাহেবও একজন বড় ব্যবসায়ী ও ধনবান ব্যক্তি, যিনি উদার, পরোপকারী এবং ধর্মীয়ভাবে অনুগত। এলাকাবাসীর প্রয়োজনে তিনি নিজ খরচে একটি মসজিদ নির্মাণ করে দেন। তাঁর এই ধর্মপরায়ণতা ও মসজিদে ব্যয়ের দৃষ্টান্ত ইসলামের মহান খলিফা হযরত উসমান (রা.)-এর উদার দানশীলতা ও মসজিদ সম্প্রসারণের মহৎ উদ্যোগের প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আর্ত-মানবতার সেবায় সমশের সাহেবের মতো ধনবান ও উদার মানুষদের ভূমিকা একটি বৈষম্যহীন, কল্যাণমুখী ও শান্তিময় সমাজ বিনির্মাণে অসামান্য অবদান রাখবে।
একটি সমাজে বসবাসকারী সকল মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা সমান থাকে না। সেখানে দরিদ্র, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষ থাকে। বিত্তবান ব্যক্তিরা যদি এগিয়ে আসেন, তবে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। হযরত উসমান (রা.) সহ ইসলামের আদর্শ পুরুষরা নিজেদের সম্পদ সমাজ ও ধর্মের কল্যাণে ব্যয় করে সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করেছিলেন।
উদ্দীপকে সমশের সাহেব যেকোনো দুর্যোগ বা সমস্যায় মানুষের পাশে দাঁড়ান এবং নিজ খরচে মসজিদ নির্মাণ করে এলাকাবাসীর ধর্মীয় চাহিদাও পূরণ করেন। তাঁর মতো ব্যক্তিদের উদ্যোগ সমাজে দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক সংহতি বৃদ্ধি, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের নিঃস্বার্থ সেবামূলক কাজ সমাজে অপরাধ প্রবণতা হ্রাস করে এবং একটি আদর্শ মানবিক সমাজ গড়ে তোলে।
অতএব, সমশের সাহেবের মতো ব্যক্তিদের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড আর্থ-সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সমাজের টেকসই উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও