ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমী খিলাফত (৯০৯-১১৭১ খ্রি.) • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

'ক' রাজ্যের ধর্মীয় নেতা মি. এন্থনি যখন জনসমক্ষে আসেন তখন সবাই অবাক। তিনিও তো তাদের মতো একজন সাধারণ মানুষ। অথচ একদল পুরোহিত বলে আসছিল যে তিনি মানুষ নন, বরং দেবতা। পুরোহিতদের বলা এসব কাহিনি যখন ধর্মীয় নেতার গোচরে আসে তখন তিনি তাদের কঠোর শাস্তি দেন। অতঃপর জনগণকে সাথে নিয়েই তিনি 'ক' রাজ্য প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখেন ।

  1. ক)

    আল-আজহার মসজিদ নির্মাণ করেন কে?

    (1)
  2. খ)

    দারুল হিকমা কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত মি. এন্থনি'র সাথে কোন ফাতেমীয় ধর্মীয় নেতার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠায় উক্ত ধর্মীয় নেতার অবদান মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ফাতেমীয় সেনাপতি জওহর আল-সিকিল্লি (খলিফা আল-মুইজের নির্দেশে) আল-আজহার মসজিদ নির্মাণ করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দারুল হিকমা (জ্ঞানের গৃহ) হলো ১০০৫ খ্রিস্টাব্দে ফাতেমীয় খলিফা আল-হাকিম কর্তৃক মিশরের কায়রোতে প্রতিষ্ঠিত একটি বিখ্যাত উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণাকেন্দ্র। এটি ছিল শিয়া মতবাদ প্রচার, দর্শন, বিজ্ঞান ও বিভিন্ন শাস্ত্রীয় অধ্যয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এবং সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ধর্মীয় নেতা মি. এন্থনির সাথে ফাতেমীয় খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা আবু মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ আল-মাহদির সাদৃশ্য রয়েছে।

    আবু মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ আল-মাহদি উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমীয় রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর বিশ্বস্ত প্রচারক আবু আব্দুল্লাহ আশ-শিয়া ও কতিপয় সমর্থক তাঁকে অতিপ্রাকৃতিক ক্ষমতাধর বা ঈশ্বরের অবতার হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ওবায়দুল্লাহ আল-মাহদি প্রকাশ্য জনসম্মুখে এসে ঘোষণা করেন যে তিনি কোনো ঐশ্বরিক বা অবতার নন, বরং রক্ত-মাংসের একজন সাধারণ মানুষ এবং মহানবী (সা.)-এর বংশধর। যারা বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালিয়েছিল, তিনি তাদের কঠিন শাস্তি দেন এবং আবু আব্দুল্লাহর মতো ব্যক্তিদের ষড়যন্ত্র দমন করেন। উদ্দীপকের মি. এন্থনির কর্মকাণ্ডে এই ঐতিহাসিক ঘটনারই হুবহু প্রতিফলন ঘটেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠায় ওবায়দুল্লাহ আল-মাহদির অবদান ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও দূরদর্শী।

    ১. রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা: খলিফা ওবায়দুল্লাহ আল-মাহদি ৯০৯ খ্রিস্টাব্দে উত্তর আফ্রিকার আগলাবী বংশের পতন ঘটিয়ে তিউনিসিয়ার কায়রোয়ান দখল করেন এবং স্বাধীন ফাতেমীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেন।
    ২. অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও শাসনব্যবস্থা: সিংহাসনে আরোহণের পর তিনি প্রশাসনে শৃঙ্খলা আনেন। আবু আব্দুল্লাহ আশ-শিয়া ও তাঁর ভাইয়ের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে তিনি নিজেকে সার্বভৌম শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
    ৩. মাহদিয়া নগরী নির্মাণ: উত্তর আফ্রিকায় রাজধানী হিসেবে ৯১৬–৯২১ খ্রিস্টাব্দে ভূমধ্যসাগরের উপকূলে 'আল-মাহদিয়া' নামের এক সুরক্ষিত ও প্রাচীরঘেরা নৌঘাঁটি ও নগর প্রতিষ্ঠা করেন, যা রাজ্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে।
    ৪. নৌবাহিনীর শক্তিবৃদ্ধি: তিনি শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ে তোলেন এবং ভূমধ্যসাগরে মুসলিম প্রাধান্য বিস্তার করেন।

    তাঁর অটল মনোবল, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার ফলে ফাতেমীয় রাজবংশ একটি স্থায়ী ও শক্তিশালী সাম্রাজ্যের রূপ লাভ করে। সুতরাং উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠায় ওবায়দুল্লাহ আল-মাহদির অবদান ছিল অনস্বীকার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন