অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২২

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

'A' দেশ তার সম্পদকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবা নিজ দেশের মধ্যে বিনিময় করে। 'B' দেশ তার উৎপাদিত পণ্য ও সেবা নিজ দেশ ও প্রতিবেশী দেশসমূহের মধ্যে বিনিময় করে থাকে। এতে 'B' দেশ তার সম্পদের উত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে উদ্বৃত্ত পণ্য রপ্তানি করতে পারে এবং অনুৎপাদিত পণ্য আমদানি করতে পারে। ফলে দেশটি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়।

  1. ক)

    বিশ্বায়ন কী?

    (1)
  2. খ)

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ফলে একচেটিয়া প্রভাব হ্রাস পায়- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'A' ও 'B' দেশে কোন ধরনের বাণিজ্য বিদ্যমান? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে 'B' দেশের বাণিজ্যের গুরুত্ব আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিশ্বায়ন (Globalization) হলো তথ্যপ্রযুক্তি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সংস্কৃতির বিনিময়ের মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি এবং একটি একক বৈশ্বিক গ্রামে (Global Village) রূপান্তরের প্রক্রিয়া।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে একটি দেশের বাজারে বিদেশি উৎপাদক ও পণ্য প্রবেশের সুযোগ পায়। ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে কোনো একক দেশীয় প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করার সুযোগ হ্রাস পায়। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার কারণে উৎপাদকরা পণ্যের অতিরিক্ত দাম ধার্য করতে পারে না এবং পণ্যের মান উন্নত রাখতে বাধ্য হয়। এভাবে মুক্ত বাণিজ্যের ফলে বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পেয়ে একচেটিয়া প্রভাব খর্ব হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'A' দেশে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য এবং 'B' দেশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিদ্যমান।

    একটি দেশের ভৌগোলিক সীমানার অভ্যন্তরে বিভিন্ন ব্যক্তি বা অঞ্চলের মধ্যে সম্পাদিত পণ্য ও সেবার ক্রয়-বিক্রয়কে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য (Internal Trade) বলে। অন্যদিকে, দুই বা ততোধিক স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের মধ্যে সংগঠিত পণ্য ও সেবার লেনদেনকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য (International Trade) বলে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, 'A' দেশ তার সম্পদকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবা নিজ দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যেই বিনিময় করে, যা অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের বৈশিষ্ট্য। অপরদিকে, 'B' দেশ তার উৎপাদিত পণ্য ও সেবা নিজ দেশের সীমানা পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশসমূহের সাথে আমদানি-রপ্তানি করে থাকে। অর্থাৎ একাধিক স্বাধীন দেশের মধ্যে এ লেনদেন সংঘটিত হওয়ায় 'B' দেশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে 'B' দেশের বাণিজ্য অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে এ সংক্রান্ত গুরুত্ব আলোচনা করা হলো:

    ১. সম্পদের কাম্য ব্যবহার: তুলনামূলক ব্যয় সুবিধার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালিত হওয়ায় বাংলাদেশ উদ্বৃত্ত শ্রমঘন শিল্পে (যেমন: তৈরি পোশাক) বিশেষায়ন অর্জন করে সম্পদের কাম্য ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে।
    ২. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: পাট, চা, হিমায়িত খাদ্য ও তৈরি পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে, যা অর্থনৈতিক ভিত্তিকে মজবুত করে।
    ৩. মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি: একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে দ্রুত শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি ও শিল্পের কাঁচামাল বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমেই বিদেশ থেকে আমদানি করতে সক্ষম হয়।
    ৪. কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয় বৃদ্ধি: রপ্তানিমুখী শিল্প গড়ে ওঠার মাধ্যমে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়, যা দারিদ্র্য বিমোচন ও জনগণের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
    ৫. জরুরি সংকট মোকাবিলা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: খাদ্যঘাটতি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য দেশকে অনাহারের হাত থেকে রক্ষা করে এবং পণ্যের অভ্যন্তরীণ মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।

    সুতরাং, বাংলাদেশের দ্রুত শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য একটি শক্তিশালী চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন