ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

তিনদিকে সমুদ্রবেষ্টিত কোরিয়া উপদ্বীপ একটি অনূর্বর অঞ্চল। একসময় শহরের কিছু লোকজন ব্যবসা-বাণিজ্য করলেও গ্রামের লোকদের পশুপালন বা মাছ শিকার ছাড়া অন্য কোনো কাজের উপায় ছিল না। জীবন-জীবিকার জন্য তারা চুরি, ডাকাতি, প্রতারণা ও লুটতরাজ করতে বাধ্য হতো।

  1. ক)

    'জাজিরাতুল আরব' অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    উটকে 'মরুভূমির জাহাজ' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত কোরিয়া উপদ্বীপের সাথে তোমার পঠিত কোন অঞ্চলের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে উক্ত অঞ্চলের অধিবাসীদের ওপর ভৌগোলিক অবস্থার প্রভাব মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'জাজিরাতুল আরব' কথাটির অর্থ হলো 'আরব উপদ্বীপ'।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মরুভূমির তীব্র প্রতিকূল পরিবেশে উট সবচেয়ে কার্যকর ও উপযোগী বাহন হওয়ায় একে 'মরুভূমির জাহাজ' বলা হয়।

    মরুভূমির উত্তপ্ত বালুর ওপর দিয়ে উট সহজে চলাচল করতে পারে, কারণ এর পায়ের পাতা চওড়া ও নরম। এছাড়া উট দেহে প্রচুর পানি ও চর্বি সঞ্চয় করে রাখতে পারে, যার ফলে খাদ্য ও পানি ছাড়া দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে পারে। আরবদের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে উটের ভূমিকা সমুদ্রের জাহাজের মতো হওয়ায় উটকে 'মরুভূমির জাহাজ' বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত কোরিয়া উপদ্বীপের সাথে আমার পঠিত আরব উপদ্বীপের সাদৃশ্য রয়েছে।

    আরব দেশটিও তিন দিকে জলভাগ (লোহিত সাগর, ভারত মহাসাগর ও পারস্য উপসাগর) এবং এক দিকে স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত একটি উপদ্বীপ। আরবের অধিকাংশ ভূখণ্ডই শুষ্ক, বালুকাময় ও অনূর্বর। প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কারণে আরবের যাযাবর বা বেদুইন শ্রেণির মানুষ পশুপালন করত এবং শহরের একাংশ ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ছিল। জীবিকার তাগিদে মরুভূমির যাযাবররা প্রায়শই লুটতরাজ ও সংঘাতে লিপ্ত হতো।

    উদ্দীপকের কোরিয়া উপদ্বীপের তিন দিকে সমুদ্রবেষ্টিত হওয়া, অনূর্বরতা, পশুপালন বা মাছ শিকার এবং জীবিকার তাগিদে লুটতরাজ ও ডাকাতিতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি প্রাক-ইসলামি আরব উপদ্বীপের ভৌগোলিক ও জীবনযাত্রার সাথে হুবহু মিলে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে উক্ত অঞ্চলের অর্থাৎ আরবের অধিবাসীদের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির ওপর ভৌগোলিক অবস্থার সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিদ্যমান ছিল।

    ভৌগোলিক পরিবেশ মানুষের চরিত্র, জীবিকা এবং সংস্কৃতি নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। প্রাক-ইসলামি যুগে আরবের অনুর্বর ও মরুভূমির প্রাকৃতিক পরিবেশ আরবের অধিবাসীদের মূলত দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত করেছিল— স্থায়ী নগরবাসী এবং যাযাবর বেদুইন। কৃষিকাজের সুযোগ না থাকায় মরুবাসী বেদুইনদের প্রধান জীবিকা ছিল পশুপালন। মরুর চরম খাদ্যসংকট ও রুক্ষ আবহাওয়ার কারণে তারা জীবনধারণের তাগিদে কাফেলা আক্রমণ ও লুটতরাজকে ('গাজওয়া') সাধারণ পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছিল।

    ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা ও প্রতিকূলতার কারণেই তাদের মধ্যে গোত্রপ্রীতি, সাহস, কষ্টসহিষ্ণুতা এবং যুদ্ধপ্রিয় মনোভাব গড়ে উঠেছিল। অন্যদিকে উপকূলীয় ও উর্বর অঞ্চলে বসবাসরত নগরবাসীরা ব্যবসা-বাণিজ্য করে জীবন নির্বাহ করত। সুতরাং, উদ্দীপকে কোরিয়া উপদ্বীপের পরিস্থিতির মতোই আরব উপদ্বীপের রুক্ষ ভৌগোলিক অবস্থা সেখানকার মানুষের পেশা, স্বভাব এবং জীবনধারণের রীতিকে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন