ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২১
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
আফগানিস্তান মধ্য এশিয়ার যুদ্ধকবলিত একটি দেশ।এদেশটি বিভিন্ন উপজাতি সমন্বয়ে গঠিত। উপজাতি' গোত্রগুলোর মধ্যে গিলজাই, মুহাম্মদ, সাদোজাই প্রভৃতি খুব প্রভাবশালী। উপজাতিগুলো নিজ। গোত্রের স্বাধীনতা, সম্মান, প্রভাব-প্রতিপত্তি রক্ষার ক্ষেত্রে যতটা আন্তরিক, অন্য গোত্রের প্রতি ততটা শত্রুভাবাপন্ন। তারা জাতীয় স্বার্থের পরিবর্তে গোত্রীয় স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে। গোত্রীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা বা অন্য কোনো 'তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ হয়। একবার সংঘর্ষ শুরু হলে তা গৃহযুদ্ধে রূপ নেয় এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়।
- ক)(1)
হায়ারোগ্লিফিক কী?
- খ)(2)
হানিফ সম্প্রদায় কারা? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ইসলাম-পূর্ব আরবের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত যুগের রাজনৈতিক অবস্থা পর্যালোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হায়ারোগ্লিফিক হলো প্রাচীন মিসরীয়দের উদ্ভাবিত চিত্রলিপি বা পবিত্র লিপি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইসলাম-পূর্ব আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগে আরবে মূর্তিপূজা ও বহু ঈশ্বরবাদের বিপরীতে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর একেশ্বরবাদী ধর্মে বিশ্বাসী সাধক দলকে 'হানিফ সম্প্রদায়' বলা হয়।
'হানিফ' শব্দের অর্থ সত্যনিষ্ঠ বা একনিষ্ঠ। পৌত্তলিকতা ও কুসংস্কারে আচ্ছন্ন তৎকালীন আরব সমাজে এরা মূর্তিপূজা পরিত্যাগ করে এক আল্লাহর উপাসনায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছিলেন। ওরায়েকা বিন নওফেল, জায়েদ বিন আমর প্রমুখ ছিলেন এই হানিফ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইসলাম-পূর্ব আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগের আরবের রাজনৈতিক অবস্থা, বিশেষ করে গোত্রপ্রীতি (আসাবিয়া) ও গোত্রীয় কোন্দলের দিকটি ফুটে উঠেছে।
আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগে আরবে কোনো কেন্দ্রীয় সরকার বা শাসনব্যবস্থা ছিল না। তারা বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোত্রে বিভক্ত ছিল। গোত্রগুলোর প্রধান ভিত্তি ছিল রক্তের সম্পর্ক এবং অন্ধ গোত্রপ্রীতি বা 'আসাবিয়া'। নিজেদের গোত্রের সম্মান ও স্বার্থ রক্ষার জন্য তারা সদা তৎপর থাকত এবং অন্য গোত্রের ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করত।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আফগানিস্তানের বিভিন্ন উপজাতি নিজ নিজ গোত্রের স্বার্থ ও সম্মান রক্ষায় অন্ধ আনুগত্য প্রদর্শন করে এবং পারস্পরিক বিদ্বেষ ও তুচ্ছ কারণে রক্তক্ষয়ী দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এটি প্রাক-ইসলামি আরবের গোত্রপ্রীতি এবং আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগের রক্তাক্ত আন্তঃগোত্রীয় সংঘাতের (যেমন- হারবুল ফিজার, বাসুসের যুদ্ধ) সাথে হুবহু মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগের রাজনৈতিক অবস্থা ছিল চরম অস্থিতিশীল, বিশৃঙ্খল এবং যুদ্ধবিগ্রহে পূর্ণ।
তৎকালীন আরবের কোনো একক বা কেন্দ্রীয় শাসনকর্তা ছিল না। গোটা আরব সমাজ বিভিন্ন স্বাধীন বেদুইন গোত্রে বিভক্ত ছিল। প্রতিটি গোত্র তাদের নির্বাচিত 'শায়খ' বা গোত্রপ্রধান দ্বারা পরিচালিত হতো। তবে শায়খের ক্ষমতাও ছিল সীমিত এবং কোনো গোত্রীয় আইন ভাঙলে তার প্রতিকার হিসেবে রক্তের বদলে রক্ত বা প্রতিশোধের নীতি (কিসাস) প্রচলিত ছিল।
অন্ধ গোত্রীয় চেতনা বা 'আসাবিয়া' ছিল সে যুগের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। নিজের গোত্রের লোক কোনো অপরাধ করলেও গোত্র তাকে নিঃশর্ত সমর্থন দিত। ঘোড়দৌড়, উটের বাছুর হত্যা কিংবা সামান্য চারণভূমির মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বছরের পর বছর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলত, যার অন্যতম উদাহরণ 'বাসুসের যুদ্ধ' (৪০ বছর স্থায়ী) এবং 'ফিজার যুদ্ধ'। এছাড়া লুণ্ঠন ও ডাকাতিকে (গাজওয়া) তারা দোষের মনে করত না।
অতএব, ইসলাম-পূর্ব আরবের রাজনৈতিক জীবন ছিল সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খলাপূর্ণ, শান্তিশূন্য এবং ন্যায়বিচারহীন, যা জাহেলি যুগের অন্ধকার রূপকে স্পষ্ট করে তোলে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও