ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২১
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
বিশ্বে নতুন নতুন যন্ত্রপাতি আবিষ্কার হলে উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। উৎপাদিত পণ্যের বাজার দখলের প্রতিযোগিতায় ইউরোপের শক্তিশালী দেশগুলোর মধ্যে উপনিবেশবাদের উত্থান ঘটে। একপর্যায়ে একটি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সমগ্র বিশ্ব এক ভয়ংকর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
- ক)(1)
নাৎসিদের পোশাকের রং কেমন ছিল?
- খ)(2)
ত্রিশক্তি আঁতাত কী? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন যুদ্ধের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের উত্থান ছিল এ যুদ্ধের অন্যতম কারণ'- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নাৎসিদের পোশাকের রং ছিল বাদামি (Brown)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ত্রিশক্তি আঁতাত (Triple Entente) হলো বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ইউরোপের তিনটি প্রধান পরাশক্তি—ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং রাশিয়ার মধ্যে গঠিত একটি সামরিক ও কূটনৈতিক মৈত্রী জোট।
জার্মানির নেতৃত্বে গঠিত ত্রিশক্তি চুক্তি (Triple Alliance)-র প্রভাব মোকাবিলা এবং ইউরোপে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৯০৭ সালে এ আঁতাত গড়ে ওঠে। এই জোটের ফলে ইউরোপ দুটি পরস্পরবিরোধী শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে, যা পরবর্তীতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ক্ষেত্র তৈরি করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (১৯১৪-১৯১৮) ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
শিল্প বিপ্লবের পর উৎপাদিত পণ্যের বাজার ও কাঁচামাল সংগ্রহের জন্য ইউরোপীয় পরাশক্তিগুলোর মধ্যে উপনিবেশ দখলের তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়। উদ্দীপকে উল্লেখিত "একটি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সমগ্র বিশ্ব এক ভয়ংকর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে" বক্তব্যটি দ্বারা অস্ট্রিয়ার যুবরাজ আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দ এবং তাঁর স্ত্রীর বসনিয়ার রাজধানী সারায়েভোতে হত্যাকাণ্ডকে বোঝানো হয়েছে।
১৯১৪ সালের ২৮ জুন সংঘটিত এই সারায়েভো হত্যাকাণ্ডের জের ধরেই অস্ট্রিয়া সার্বিয়া আক্রমণ করে এবং প্রধান ইউরোপীয় জোটগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা করে। সুতরাং উদ্দীপকের ঘটনাটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের উত্থানই ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম প্রধান কারণ—মন্তব্যটি যথার্থ।
শিল্প বিপ্লবের ফলে ইউরোপে যন্ত্রের ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এই অতিরিক্ত পণ্যের বাজার সৃষ্টি এবং শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহের জন্য ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি প্রভৃতি দেশ এশিয়া ও আফ্রিকায় উপনিবেশ স্থাপনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। এ প্রতিযোগিতা দ্রুতই সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বে রূপ নেয়।
দেরিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় জার্মানি উপনিবেশ বিস্তারে অন্যান্য পরাশক্তির চেয়ে পিছিয়ে পড়ে এবং তীব্র ঔপনিবেশিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করতে থাকে। ফলে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সাথে জার্মানির জাতীয় ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সংঘাত অনিবার্য হয়ে ওঠে। পরাশক্তিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস, নৌ ও সামরিক শক্তির প্রতিযোগিতা এবং ভূরাজনৈতিক আধিপত্যের লড়াই শেষ পর্যন্ত ১৯১৪ সালে বিশ্বকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়। অতএব, সাম্রাজ্যবাদী ও ঔপনিবেশিক স্বার্থের দ্বন্দ্বই যুদ্ধের পটভূমি তৈরিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও