Combined Board বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২১
44টি প্রশ্ন
- 1.
ভারতীয় উপমহাদেশে আগমনকারী ব্রিটিশ শাসকবর্গের মধ্যে বেশ কয়েকজন শাসক উন্নয়নমূলক ও জনহিতকর অনেক কাজ করে ভারতীয়দের মনে স্থান করে নিয়েছেন। জনৈক শাসক Vernacular Press Act, Hunter Commission, Municipal Act. প্রণয়ন করার মধ্য দিয়ে ভারতীয়দের মধ্যে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
- 2.
সর্বোত্তম অনুমানভিত্তিক উত্তর — আনুষ্ঠানিক উত্তর নয়: মূল তথ্য বা উত্তরে অস্পষ্টতা/অসম্পূর্ণতা রয়েছে। প্রদত্ত উত্তরটি নিশ্চিত নয়; যাচাই করে ব্যবহার করো।
বৃহত্তর উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলা নিয়ে রাজশাহী বিভাগ। একটি প্রশাসনিক ইউনিটের অধীনে রেখে এত বড় বিভাগে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত গ্রহণ করে ৮টি জেলা নিয়ে আলাদা বিভাগ গঠন করার। এরই ধারাবাহিকতায় রংপুর বিভাগ নামে নতুন একটি বিভাগ গঠিত হয়। ফলে ঐ অঞ্চলের জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়।
- 3.
মোহনপুর একটি বৃহত্তর ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নে বসবাসকারী হিন্দু- মুসলমান নানা কারণে একে অপরের সাথে ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হয়। ফলে অধিকাংশ সময় ইউনিয়নে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকে। বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরে রফিক সাহেব উভয় সম্প্রদায়ের জন্য একটি প্রস্তাব পেশ করেন। তার এ প্রস্তাবের সূত্র ধরে পরবর্তীতে ধর্মের ভিত্তিতে ইউনিয়নটি বিভক্ত হয়ে দুটি আলাদা ইউনিয়নে পরিণত হয় ।
- 4.
'X' রাষ্ট্রে বিভিন্ন ধর্ম ও গোত্রের মানুষের বসবাস। একদা ঐ রাষ্ট্রে শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ হলে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোত্রকে দায়ী করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অনগ্রসর গোত্রের কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তি অবস্থার ভয়াবহতা বুঝতে পেরে তাদের মধ্যে ঐক্যের ডাক দেন ও সরকারের সাথে সহযোগিতার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তাদের কার্যসিন্ধির জন্য বহুবিধ সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। এ সংগঠনসমূহই পরবর্তীতে উক্ত ধর্মীয় গোত্রের মাঝে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও সচেতনতা বুদ্ধিতে সহায়তা করে।
- 5.
স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার ? ভয় কি বন্ধু, আমার এখনো চার কোটি পরিবার, খাড়া রয়েছি তো। যে ভিত কখনো কোনো রাজন্য পারেনি ভাঙতে।
- 6.
আমেরিকার ১৩টি রাজ্য ছিল ব্রিটিশ উপনিবেশ। এ রাজ্যগুলোর জন্য আইন করা হতো ব্রিটিশ পার্লামেন্টে, যেখানে আমেরিকার কোন প্রতিনিধি ছিল না। এজন্য আমেরিকানরা অসন্তুষ্ট ছিল। কিন্তু ইংল্যান্ডের সংকটের সময় কোয়ারিন্টাইন অ্যাক্ট বা সৈন্যদের ভরণপোষণ আইন, মোলাসেস অ্যাক্ট বা আখ আমদানিসংক্রান্ত আইন, স্ট্যাম্প অ্যাক্ট ইত্যাদি কিছু নতুন আইন প্রণয়ন করায় অসন্তোষ আন্দোলনে পরিণত হয় এবং পরবর্তীতে স্বাধীনতা আন্দোলনে রূপ নেয়।
- 7.
আফ্রিকা মহাদেশের একটি দেশের জাতিগোষ্ঠীর নাম জুলু জাতি। এ জাতি তাদের ভাষা ও সংস্কৃতির জন্য ঔপনিবেশিক শাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যায়। দীর্ঘ এ সংগ্রামে অনেকের হতাহতের ঘটনা ঘটে। অবশেষে ঔপনিবেশিক শাসকবর্গ তাদের ভাষাসংস্কৃতির দাবিটিকে মেনে নিতে বাধ্য হয়। শুধু তাই নয়, তাদের এ অধিকার ও আন্দোলন আন্তর্জাতিক সংস্থার স্বীকৃতিও লাভ করে।
- 8.
রতনপুর গ্রামের চেয়ারম্যান রফিক সাহেব একজন স্বৈরশাসক। তাঁর স্বৈরাচারী কার্যকলাপে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী। ঐ গ্রামের প্রতিবাদী যুবক রায়হান, নানা আন্দোলন সংগ্রামে তার ভূমিকা অপরিসীম। চেয়ারম্যানের শাসন- শোষণের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণের পক্ষে রায়হান বেশ কয়েকটি দাবি সংবলিত একটি দাবিনামা পেশ করেন। এ দাবিনামা রতনপুরবাসীর মধ্যে অভূতপূর্ব জাগরণ সৃষ্টি করে। জনগণও দাবি আদায়ে সোচ্চার হয়।
- 9.
রহমত তার চাচার সাথে আম বাগানে আম খেতে খেতে চাচাকে জিজ্ঞেস এ আম বাগান কে বানিয়েছে। চাচা উত্তর দিলেন এ আম বাগান আমার দাদা বানিয়েছেন। চাচা রহমতকে আরও বলল- তুমি কি জান এদেশের একটি আম বাগানের সাথে বাঙালির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস জড়িয়ে আছে?
- 10.
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মায়ানমার ছিল একটি সামরিক শাসিত দেশ। দীর্ঘদিন সেখানে অংসান সূচির নেতৃত্বে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন গড়ে ওঠে। সামরিক সরকার আন্দোলন দমনের জন্য নির্যাতন যত বাড়িয়েছে আন্দোলন ততই জোরদার হয়েছে। এক সময় সামরিক শাসক দেশটিতে নির্বাচন দিতে বাধ্য হয় এবং এতে সূচি'র দল বিপুলভাবে জয়লাভ করে।
- 11.
বর্ণবাদী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ মার্টিন লুথার কিং। ১৯৬৩ সালে ওয়াশিংটনে প্রায় আড়াই লক্ষ নিগ্রোদের উপস্থিতে তার বিখ্যাত বক্তৃতা ' I have a dream' তুলে ধরেন। তার সতোর মিনিটের বক্তৃতা নিগ্রোদের অধিকার আদায়ে উদ্বুদ্ধ করেছিল। শুধু তাই নয় আমেরিকার ইতিহাসে এটি ছিল শ্রেষ্ঠ বক্তৃতা।
- 12.
কোনো একটি বিপ্লব সংঘটিত হওয়ার পিছনে থাকে বহুবিধ কারণ। আর অধিকারভোগী শ্রেণির সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার কোনো এক বিপ্লবের মাধ্যমে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। পরিশেষে বুর্জোয়া শ্রেণির নেতৃত্বে পুরাতনকে ভেঙে নতুন সমাজব্যবস্থা গঠনে তৎপর হয়।
- 13.
তমদ্দুন মজলিস ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে তাদের লেখালেখির মাধ্যমে বেগবান করে। তাই বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা' করার দাবি তুলে ধরে ভাষা আন্দোলনের মনস্তাত্ত্বিক পটভূমি সৃষ্টিতে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। তবে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক বৈষম্য ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও ভাষা আন্দোলনে পরোক্ষ ভূমিকা রাখে।
- 14.
শেরশাহ শুধু সাহসী বীর ও সময় কুশলী নেতাই ছিলেন না, শাসক হিসেবেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ। শাসন কাজের সুবিধার জন্য সারা দেশকে ৪৭টি ভাগে ভাগ করেন। এছাড়া জনগণের কল্যাণের জন্য তিনি অর্থনৈতিক, ধর্মীয়, শিক্ষা, যাতায়াত ইত্যাদি প্রতিটি বিষয়ে নজর দেন। মহান এই শাসক নিজ গোলাবারুদে আগুন লেগে মৃত্যুবরণ করেন।
- 15.
বিশ্বে নতুন নতুন যন্ত্রপাতি আবিষ্কার হলে উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। উৎপাদিত পণ্যের বাজার দখলের প্রতিযোগিতায় ইউরোপের শক্তিশালী দেশগুলোর মধ্যে উপনিবেশবাদের উত্থান ঘটে। একপর্যায়ে একটি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সমগ্র বিশ্ব এক ভয়ংকর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
- 16.
শ্যামপুর উপজেলার দুটো গ্রামের সংঘটিত সংঘর্ষের পর তাদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়। সংঘর্ষে বিজয়ী শক্তি পরাজিত শক্তিকে এ সন্ধি স্বাক্ষরে বাধ্য করে। পরাজিত শক্তির জন্য এ সন্ধির শর্তাবলি ছিল খুবই অমানবিক ও অবমাননাকর।
- 17.
ইসলাম-পূর্ব আরবে সর্বদাই মারামারি কাটাকাটি লেগে থাকত। মহানবি (সা.) গোত্রে গোত্রে এই অন্যায় বিরোধ থেকে আরববাসীকে রক্ষা করার জন্য একটি শান্তি সংঘ প্রতিষ্ঠা করেন। সংগঠনটির নাম 'হিলফুল ফুজুল'।
- 18.
মি. কলিন শিক্ষকতা দিয়ে জীবন শুরু করলেও পরে ভাগ্যান্বেষণে অন্য দেশে যান। সেখানে তিনি বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লে ঐ দেশ থেকে বিতাড়িত হন। পরবর্তীতে তিনি দেশে ফিরে কর্মহীন শ্রমিক, বেকার যুবক, ভবঘুরে, মাস্তান, অপরাধী এবং ধনী বুর্জোয়াদের সমর্থন নিয়ে শক্তিশালী দল গঠন করে দেশে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।
- 19.
ঈদি আমিন চরম স্বৈরাচারী শাসক হিসেবে কুখ্যাত ছিলেন। সামান্য সৈনিক হিসেবে জীবন শুরু করে একদা উগান্ডার ক্ষমতা দখল করেন। দেশে হত্যা, গুম, হুমকি সন্ত্রাস নিত্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। তার অত্যাচারে ভিন্নমত পোষণকারীরা উগাণ্ডা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
- 20.
ইউরোপের একটি রাষ্ট্র বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে উগ্র জাতীয়তাবাদ ও স্বৈরাচারী মনোভাবের কারণে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের দানানল সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে রাষ্ট্রটি পরাজিত শক্তি হিসেবে শাস্তি পায়। রাষ্ট্রটিকে দুভাগে ভাগ করে শক্তি খর্ব করা হয়।
- 21.
একটাই বিশ্ব, সবার জন্য' এ স্লোগানকে সামনে রেখে শান্তিকামী মানুষ শান্তির বার্তা নিয়ে বিশ্বের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত পর্যন্ত নিরলস কাজ করছে। তবুও এ শান্তি বারবার ব্যাহত হয়েছে। মাত্র দুই দশক সময়ের ব্যবধানে দুটি মানবসভ্যতা বিধ্বংসী যুদ্ধ মানুষের মনে গভীরভাবে রেখাপাত করে। ফলে বিশ্বনেতৃবৃন্দ একত্রে মিলিত হয়ে একটি আন্তর্জাতিক শান্তি সংগঠন গড়ে তোলেন।
- 22.
'X' ও 'Y' রাষ্ট্র দুটির সীমান্তবর্তী নদীর মোহনায় নতুন একটি দ্বীপ জেগে উঠলে উভয় দেশই এর মালিকানা দাবি করে। দ্বীপটি মালিকানার দ্বন্দ্বে দেশ দুটির মধ্যে যুদ্ধ বাঁধার উপক্রম হয়। তখন 'X' দেশটি শান্তিসংঘের মাধ্যমে এর সমাধান চাওয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে।
- 23.
জয়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল মান্নান সরদারের মৃত্যুর পর ইউনিয়নবাসী জনাব শরিফুল ইসলাম সাহেবকে চেয়ারম্যান। নিযুক্ত করেন। শরিফুল সাহেব চেয়ারম্যান হয়ে অনেক সমস্যা ও বাধা- বিপত্তির সম্মুখীন হন। এ সময় কিছু ভন্ড পির ও ইউনিয়নের কর দিতে অস্বীকারকারীগণ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটান। কিন্তু চেয়ারম্যান শরিফুল সাহেব অত্যন্ত সাহস ও দৃঢ়তার সাথে এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন।
- 24.
সম্রাট হুমায়ুন ছিলেন একজন সরলমনা ও প্রজাবৎসল শাসক। তিনি সবসময় রক্তপাত এড়িয়ে যেতেন। তার এই সরলতার সুযোগ নিয়ে একদল বিপথগামী জনতা তার বিরুদ্ধে কতিপয় অভিযোগ এনে বিদ্রোহ শুরু করে। তিনি এ বিদ্রোহ কঠোরহস্তে দমন না করায় তা। ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। অবশেষে বিদ্রোহীদের হাতেই তিনি নির্মমভাবে নিহত হন।
- 25.
আয়াতুল্লাহ আলী খোমিনী ইরানে ইসলামি আদর্শ প্রচার শুরু করলে শাসকগোষ্ঠী তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। তাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন। শুরু হয়। অতঃপর খোমিনী মাতৃভূমি ইরান ত্যাগ করে পার্শ্ববর্তী দেশে গমন করেন। সেখান থেকেই তিনি তার প্রচারকার্য চালাতে থাকেন। অবশেষে ১৯৭৯ সালে তিনি দেশে ফিরে স্বৈরাচারী শাসক রেজা শাহের পতন ঘটিয়ে ইসলামি শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেন এবং তিনি কোনো প্রতিশোধ না নিয়ে সকলকে ক্ষমা করে দেন।
- 26.
আফগানিস্তান মধ্য এশিয়ার যুদ্ধকবলিত একটি দেশ।এদেশটি বিভিন্ন উপজাতি সমন্বয়ে গঠিত। উপজাতি' গোত্রগুলোর মধ্যে গিলজাই, মুহাম্মদ, সাদোজাই প্রভৃতি খুব প্রভাবশালী। উপজাতিগুলো নিজ। গোত্রের স্বাধীনতা, সম্মান, প্রভাব-প্রতিপত্তি রক্ষার ক্ষেত্রে যতটা আন্তরিক, অন্য গোত্রের প্রতি ততটা শত্রুভাবাপন্ন। তারা জাতীয় স্বার্থের পরিবর্তে গোত্রীয় স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে। গোত্রীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা বা অন্য কোনো 'তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ হয়। একবার সংঘর্ষ শুরু হলে তা গৃহযুদ্ধে রূপ নেয় এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়।
- 27.
মহামতি সুলাইমান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী ছিলেন। তিনি তাঁর সাম্রাজ্য সম্প্রসারণ করে পূর্বে কৃষ্ণসাগর থেকে পশ্চিমে। তিউনিসিয়া এবং উত্তরে ভিয়েনা থেকে দক্ষিণে আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত করেন। তিনি সাম্রাজ্যে আইদের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেন। দুর্নীতির দায়ে তার জামাতাকেও তিনি শান্তি দিতে দ্বিধাবোধ করেননি। তিনি অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দিতেন।
- 28.
আক্বাশ আলী তার এলাকার পথভ্রষ্টকারী মানুষের অত্যাচারের। কারণে আপন লোকজন নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। বেশ কিছুদিন পরে প্রতিষ্ঠিত হয়ে তারা নিজ এলাকায় ফিরে আসতে চাইলে তাঁর এলাকার সমাজপতিরা গতিরোধ করে দাঁড়ায়। ফলে তাদের সঙ্গে একটি চুত্তি। স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির ফলশ্রুতিতে আক্কাশ আলী নিজেকে আবার। নিজ এলাকার নেতারূপে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- 29.
গোমতী নদীর তীরবর্তী রাস্তা আনক উঁচু এবং প্রশস্ত। এর কারণ হলো পূর্বে বর্ষাকালে গোমতী নদীতে পানি বেড়ে গিয়ে আশেপাশের এলাকায় প্লাবণ সৃষ্টি করত। এতে চাষাবাদের সমস্যা হতো এবং ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়ে যেত। অনেক সময় দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করত। তাই সরকার নদীর তীরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে এলাকাবাসীর দুর্দশা লাঘব ও কৃষির উন্নয়নের ব্যবস্থা করেছেন। কুমিল্লা শুধু কৃষির জন্যই নয়, বাণিজ্যের জন্যও বিখ্যাত। কুমিল্লার খাদি দেশে-বিদেশে পরিচিত। কুটির শিল্প, মৃৎ শিল্পাসহ ছোট ছোট অনেক কলকারখানাও এখানে রয়েছে।
- 30.
স্বাধীনতা লাভের পর মালয়েশিয়ার সরকারপ্রধান রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একটি সংবিধান প্রণয়ন করেন। নাগরিকদের সামাজিক, রাজনৈতিক, দলীয় ও অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষা এবং সকল রাজনৈতিক দল তথা সম্প্রদায়কে একটি স্বাভাবিক পরিবেশে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে রাষ্ট্রের অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি লিখিত সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। ফলে নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সুদ্ধ রাজনৈতিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
- 31.
জনাব রশিদ হক ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে রাজ্যের শান্তি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য পূর্বের শাসকের নিযুক্ত প্রাদেশিক গভর্নরদের বরখাস্ত করেন। সুলেমান খান নামক গভর্নর ব্যতীত সকল গভর্নর তার নির্দেশের প্রতি সম্মান দেখান। তাছাড়া গভর্নর সুলেমান খান পূর্বের শাসন কর্তার সময়ে যেসব সরকারি সম্পত্তির মালিক হয়েছিলেন নতুন শাসনকর্তা রশিদ হক তা রাজকোষে ফিরিয়ে দিলে উক্ত শাসনকর্তা ও গভর্নর সুলেমান খানের মধ্যে এক সংঘর্ষ শুরু হয়।
- 32.
অটোমান সুলতান বায়েজিদ আঙ্কারার প্রান্তরে তৈমুর লঙ্গের। বিরুদ্ধে যুদ্ধ মোকাবিলা করেন। যুদ্ধে বায়েজিদের অনেক সৈন্য বিশ্বাসঘাতকতা করে এবং কিছু সৈন্য গনিমতের প্রতি লোলুপ দৃষ্টি দেওয়ায় তৈমুরীয় বাহিনীর কাছে বায়েজিদ পরাজিত হন। তৈমুরীয় বাহিনী বিজয় অর্জন করলেও তারা স্থায়ী কোনো শাসন এশিয়া মাইনরে প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি এবং তা অটোমান তুর্কিদেরকেই চরম শিক্ষাদান করেছে, যা তাদের ভবিষ্যতে সচেতন করে তুলেছিল।
- 33.
তিনদিকে সমুদ্রবেষ্টিত কোরিয়া উপদ্বীপ একটি অনূর্বর অঞ্চল। একসময় শহরের কিছু লোকজন ব্যবসা-বাণিজ্য করলেও গ্রামের লোকদের পশুপালন বা মাছ শিকার ছাড়া অন্য কোনো কাজের উপায় ছিল না। জীবন-জীবিকার জন্য তারা চুরি, ডাকাতি, প্রতারণা ও লুটতরাজ করতে বাধ্য হতো।
- 34.
মহিষখলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরকার থেকে প্রাপ্ত বরাদ্দের বেশিরভাগ অর্থ তার নিজ এলাকার উন্নয়নে ব্যয় করেন। ফলে ইউনিয়নের উন্নয়ন বঞ্চিত অঞ্চলের লোকজন ক্ষুদ্ধ হয়ে সুজাউদ্দিনের নেতৃত্বে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলেন। এ ন্যায্য আন্দোলন বন্ধ করার জন্য চেয়ারম্যান সাহেব সুজাউদ্দিনের - বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করে তাকে গ্রেফতার করান। কিন্তু পরবর্তীতে জনগণের আন্দোলনে বাধ্য হয়ে চেয়ারম্যান তার মামলা প্রত্যাহার করে তাকে মুক্তির ব্যবস্থা করেন।
- 35.

- 36.
ছাতক ও ভোলাগঞ্জে চলাচলকারী পাথরবাহী নৌকাগুলো ডাকুয়াবিল এলাকায় প্রায়ই ডাকাতদের দ্বারা লুন্ঠিত হয়। এতে ছাতকের পাথর ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হলে ছাতক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ডাকুয়াবিল এলাকার চেয়ারম্যানের কাছে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন। কিন্তু তিনি এর কোনো প্রতিকার না পেয়ে শাস্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে পুলিশের সহায়তায় ডাকাতদের আক্রমণ করেন। ফলে উভয়পক্ষের সংঘর্ষে ডাকাত প্রধান নিহত হয় এবং তার অনুসারীরা • পালিয়ে যায়। উক্ত অভিযান ডাকুয়াবিল এলাকার মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।
- 37.
সুন্দরবনের বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী বাকুড়া ও হিজলডাঙ্গার। অধিবাসীদের মধ্যে শত্রুতা, দীর্ঘদিনের। বাকুড়ায় হঠাৎ মহিম নামে এক সাহসী যোদ্ধার আবির্ভাব হয়। তার নেতৃত্বে বাকুড়াবাসী হিজলডাঙ্গায় অসংখ্যবার আক্রমণ চালায় এবং প্রত্যেকবারই হিজলডাঙ্গাবাসীকে পরাজিত করে ব্যাপক লুটতরাজ চালিয়ে প্রচুর ধন-সম্পদ হস্তগত করে। লুন্ঠিত সম্পদ দিয়ে মহিম বাকুড়াকে সুন্দর করে গড়ে তোলে।
- 38.
১৯৫৬ সালের ১ জানুয়ারি সুদান ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। ভৌগোলিকভাবে সুদান উত্তর ও দক্ষিণ এ দু'ভাগে বিভক্ত। গোটা সুদানের খনিজ তেলের শতকরা ৭৫ ভাগই দক্ষিণ সুদানে অবস্থিত। সুদানের রাজস্বের ৯৮ ভাগ আসে দক্ষিণ সুদানের এই খনিজ তেলের অর্থ থেকে। সুদানের ভূখণ্ডের উত্তর অংশের বেশির ভাগ এলাকা। মরুভূমি। কিন্তু দক্ষিণ সুদান অনেক উর্বর ও প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর।। অথচ এই প্রাকৃতিক ও কৃষিজাত সম্পদ থেকে অর্জিত আয়ের বৃহৎ অংশ উত্তর সুদানের উন্নয়নে ব্যয় হয়। এছাড়াও সামরিক ও প্রশাসনিক বৈষম্যের ফলে দুই অঞ্চলের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বাধে। পরবর্তীতে ২০১১ সালের ৯ জুলাই সুদান ভেঙে 'গণতান্ত্রিক দক্ষিণ সুদান' নামে আরেকটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
- 39.
মনীষা নাসির উদ্দীন ইউসুফ পরিচালিত গেরিলা চলচ্চিত্রটি দেখছিল। মুভিটিতে সে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে বাঙালিদের ওপর পাক-বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞ দেখে বিস্মিত হয়। সিনেমায় দেখানো হচ্ছিল কীভাবে নিরপরাধ বাঙালিদের ধরে হত্যা করছে পাক-বাহিনী। তাছাড়া বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা যুবসমাজকে কীভাবে আত্মত্যাগে উজ্জীবিত করেছিল তা খুব সাবলীলভাবে মুভিতে ফুটিয়ে তুলেছেন এর শিল্পীরা।
- 40.
খসরুশাহ সিনাই রাজ্যের সিংহাসনে আরোহণ করে উত্তরের হেলমান্দ রাজ্যে বেশ কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করে প্রত্যেকবারই ব্যর্থ হন। পরে তিনি রাজ্যজয়ের নেশায় দক্ষিণের হিরাত সাম্রাজ্য আক্রমণ করে প্রথমবার পরাজিত হন। কিন্তু দ্বিতীয়বার অভিযান পরিচালনা করে হিরাত সাম্রাজ্যের সম্রাট বিজয় সিংহকে পরাজিত ও নিহত করে হিব্রাত অধিকার করে সেখানে শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- 41.
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাসরত বাঙালিরা প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে একটি বিশেষ দিন উদযাপন করেন। তারা দিনের শুরুতে 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানটি পরিবেশনের মাধ্যমে দিবসের কার্যক্রমের সূচনা করেন। তারপর তারা খালি পায়ে প্রভাত ফেরি করে একটি বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। অপরাহ্নে তারা মাতৃভাষার চেতনায় দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সকল শোষণ-বঞ্চণার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার শপথের মাধ্যমে দিবসের কার্যক্রমের সমাপ্তি করেন।
- 42.
নেলসন ম্যান্ডেলা তার জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠায় আপসহীন একজন ব্যক্তি ছিলেন। বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের কারণে তাকে। ১৯৬৩-১৯৯০ সাল পর্যন্ত ২৭ বছর জেলে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশেও এরূপ একজন মহান নেতার জন্ম হয়েছিল যাকে এদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবনের বেশিরভাগ সময় জেলে কাটাতে হয়েছে। তিনি পাকিস্তান সামরিক সরকারের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক। বৈষম্য থেকে বাংলার মানুষের মুক্তির জন্য একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব পেশ। করেন, যা ইতিহাসে বাঙালির মুক্তির সনদ নামে পরিচিত।
- 43.
ভারতের জাতীয় নির্বাচনে জোটবদ্ধ রাজনীতির সূচনা হয় ১৯৭৭ সালে মষ্ঠ সাধারণ নির্বাচনে। এ নির্বাচনে ভারতীয় জনসংখ ভারতীয় লোকদল, সংগঠন কংগ্রেস ও সংযুক্ত সোশ্যালিস্ট পার্টিকে নিয়ে জনতা পার্টি গঠিত হয়েছিল। উত্ত নির্বাচনে মোরারজি দেশাইয়ের নেতৃত্বে সংযুক্ত জোট 'জনতা পার্টি' ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রসকে পরাজিত করে। কংগ্রেসের জনবিচ্ছিন্নতা ও জনতা পার্টির গ্রামীণ উন্নয়ন নীতি নির্বাচনে তাদের বিজয়ের প্রধান কারণ বলে ধারণা করা হয়।
- 44.
"এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রামএবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।"