‍ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২১

‍ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন

একটাই বিশ্ব, সবার জন্য' এ স্লোগানকে সামনে রেখে শান্তিকামী মানুষ শান্তির বার্তা নিয়ে বিশ্বের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত পর্যন্ত নিরলস কাজ করছে। তবুও এ শান্তি বারবার ব্যাহত হয়েছে। মাত্র দুই দশক সময়ের ব্যবধানে দুটি মানবসভ্যতা বিধ্বংসী যুদ্ধ মানুষের মনে গভীরভাবে রেখাপাত করে। ফলে বিশ্বনেতৃবৃন্দ একত্রে মিলিত হয়ে একটি আন্তর্জাতিক শান্তি সংগঠন গড়ে তোলেন।

  1. ক)

    হলোকাস্ট কী?

    (1)
  2. খ)

    মেইন ক্যাম্প সম্পর্কে কী জান? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে যে আন্তর্জাতিক সংস্থার কথা বলা হয়েছে তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে তার অঙ্গসংগঠন সম্পর্কে ব্যাখ্যা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় উক্ত বৃহৎ সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে- মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানি কর্তৃক ইউরোপের প্রায় ৬০ লাখ ইহুদি এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত সুপরিকল্পিত ও নারকীয় গণহত্যাকে হলোকাস্ট (Holocaust) বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'মেইন ক্যাম্প' (Mein Kampf) বা 'আমার সংগ্রাম' হলো অ্যাডলফ হিটলারের লেখা একটি আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ। ১৯২৪ সালে ল্যান্ডসবার্গ কারাগারে বন্দি থাকাকালে হিটলার এটি রচনা করেন। এই বইটিতে তিনি তাঁর জীবনের নানা ঘটনা, রাজনৈতিক মতাদর্শ, আর্য জাতির শ্রেষ্ঠত্ব, ইহুদিবিদ্বেষ এবং জার্মানির ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণবাদী পরিকল্পনা বিশদভাবে তুলে ধরেন, যা পরবর্তীকালে নাৎসি পার্টির রাজনৈতিক দর্শন বা বাইবেল হিসেবে পরিগণিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মাত্র দুই দশকের ব্যবধানে দুটি বিধ্বংসী বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে গঠিত আন্তর্জাতিক শান্তি সংস্থা 'জাতিসংঘ' (United Nations)-এর কথা বলা হয়েছে। ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘের প্রধান ছয়টি অঙ্গসংগঠন রয়েছে:
    ১. সাধারণ পরিষদ (General Assembly): সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমন্বয়ে গঠিত জাতিসংঘের মূল নীতি-নির্ধারণী বিতর্কসভা।
    ২. নিরাপত্তা পরিষদ (Security Council): আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য গঠিত সর্বোচ্চ কার্যকরী অঙ্গ, যার ১৫টি সদস্য রয়েছে।
    ৩. অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ECOSOC): সদস্য দেশগুলোর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে।
    ৪. অছি পরিষদ (Trusteeship Council): ঔপনিবেশিক বা পরাধীন অঞ্চলের প্রশাসনিক তদারকির জন্য গঠিত হয়েছিল (বর্তমানে এর কার্যক্রম স্থগিত)।
    ৫. আন্তর্জাতিক বিচারালয় (ICJ): হেগ-এ অবস্থিত এই সংস্থা সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মধ্যকার আন্তর্জাতিক আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি করে।
    ৬. সচিবালয় (Secretariat): জাতিসংঘের প্রশাসনিক কাজ পরিচালনার জন্য মহাসচিবের নেতৃত্বে পরিচালিত দপ্তর।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে আসছে। এই বক্তব্যের স্বপক্ষে মতামত নিচে তুলে ধরা হলো:
    ১. বিশ্বযুদ্ধ প্রতিরোধ: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পারমাণবিক শক্তির উত্থান এবং স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন জাতিসংঘ প্রত্যক্ষ কোনো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হতে দেয়নি।
    ২. শান্তি মিশন ও সংঘাত নিরসন: জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী বিশ্বের বহু সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে (যেমন আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ইত্যাদি) গৃহযুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক বিরোধ প্রশমিত করতে নিরবচ্ছিন্ন কাজ করছে।
    ৩. নিরস্ত্রীকরণ: পারমাণবিক ও বিধ্বংসী অস্ত্রের বিস্তার রোধে জাতিসংঘ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি (যেমন NPT, CTBT) সম্পাদনে নেতৃত্ব দিয়েছে।
    ৪. মানবাধিকার ও উদ্বাস্তু সুরক্ষা: ১৯৪৮ সালে মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র প্রণয়ন এবং শরণার্থী সংস্থা UNHCR-এর মাধ্যমে বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবন রক্ষা করছে।
    যদিও নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কিছু পরাশক্তির স্বেচ্ছাচারিতা সংস্থাটির কার্যকারিতাকে সীমাবদ্ধ করে, তবুও বিশ্বশান্তির একমাত্র বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে জাতিসংঘের ভূমিকা অপরিসীম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন