ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২১
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
আক্বাশ আলী তার এলাকার পথভ্রষ্টকারী মানুষের অত্যাচারের। কারণে আপন লোকজন নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। বেশ কিছুদিন পরে প্রতিষ্ঠিত হয়ে তারা নিজ এলাকায় ফিরে আসতে চাইলে তাঁর এলাকার সমাজপতিরা গতিরোধ করে দাঁড়ায়। ফলে তাদের সঙ্গে একটি চুত্তি। স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির ফলশ্রুতিতে আক্কাশ আলী নিজেকে আবার। নিজ এলাকার নেতারূপে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- ক)(1)
'ফাতহুম মুবিন' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
'মেরাজ' কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে যে চুক্তির কথা বলা হয়েছে তার সাথে ইসলামের। ইতিহাসের কোন চুক্তির মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উত্ত চুক্তি 'ইসলামের সুস্পষ্ট বিজয়'- তোমার মতামত ব্যক্ত করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ফাতহুম মুবিন' শব্দের অর্থ প্রকাশ্য বিজয় বা সুস্পষ্ট বিজয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'মেরাজ' শব্দের অর্থ ঊর্ধ্বারোহণ। ইসলামি পরিভাষায় নবুয়তের দশম বর্ষে রজব মাসে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কর্তৃক সশরীরে জাগ্রত অবস্থায় রাতের বেলা মক্কা থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস এবং সেখান থেকে ঊর্ধ্বাকাশ ভ্রমণ করে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করাকে 'মেরাজ' বলা হয়।
মেরাজের মাধ্যমেই উম্মতে মুহাম্মাদীর ওপর দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয় এবং বিশ্বনবী (সা.) আল্লাহর সৃষ্টিজগতের নানাবিধ নিদর্শনাদি অবলোকন করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত চুক্তির সাথে ইসলামের ইতিহাসের ঐতিহাসিক 'হুদায়বিয়ার চুক্তি'র (৬২৮ খ্রি.) মিল পাওয়া যায়।
৬২৮ খ্রিস্টাব্দে মহানবী (সা.) ১,৪০০ সাহাবিকে নিয়ে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কার দিকে রওনা হলে কুরাইশরা মক্কার অদূরে হুদায়বিয়া নামক স্থানে তাঁদের গতিরোধ করে। সেখানে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হলেও মহানবী (সা.) শান্তির স্বার্থে কুরাইশদের সাথে আপাতদৃষ্টিতে এক অসম ও শর্তযুক্ত সন্ধি স্বাক্ষর করেন, যা 'হুদায়বিয়ার সন্ধি' নামে পরিচিত।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আক্বাশ আলী অত্যাচারিত হয়ে নিজ এলাকা ছেড়ে যান এবং পরবর্তীতে ফিরে আসতে চাইলে বিরোধীরা তাঁর গতিরোধ করে, যার ফলে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই ঘটনাটি হুদায়বিয়ায় মুসলিমদের পথরোধ করা এবং চুক্তি স্বাক্ষরের ঐতিহাসিক পটভূমির অনুরূপ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হুদায়বিয়ার চুক্তি প্রকৃতপক্ষে ছিল 'ইসলামের সুস্পষ্ট বিজয়'— এ উক্তিটি সর্বতোভাবে সত্য ও যুক্তিযুক্ত। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ এ চুক্তিকেই 'ফাতহুম মুবিন' বা সুস্পষ্ট বিজয় হিসেবে ঘোষণা করেছেন (সূরা আল-ফাতহ: ১)।
প্রথমত, এই চুক্তির মাধ্যমে কুরাইশরা প্রথমবারের মতো মদিনা ইসলামি রাষ্ট্র এবং হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে একটি স্বাধীন রাজনৈতিক শক্তির মর্যাদা দিতে বাধ্য হয়।
দ্বিতীয়ত, চুক্তির ফলে আরবে দশ বছরের জন্য যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে মুসলিমরা নির্বিঘ্নে আরবের বিভিন্ন স্থানে ইসলামের শান্তির বার্তা প্রচারের সুযোগ পান। এ সময় রাজনৈতিক স্থিরতার কারণে খালিদ বিন ওয়ালিদ ও আমর ইবনুল আসের মতো শ্রেষ্ঠ বীর ও নেতৃবৃন্দ ইসলাম গ্রহণ করেন।
তৃতীয়ত, সন্ধির পরবর্তী মাত্র দুই বছরের মধ্যে ইসলাম গ্রহণকারীর সংখ্যা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এর ধারাবাহিকতাতেই রক্তপাতহীনভাবে ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে ঐতিহাসিক মক্কা বিজয় সম্পন্ন হয়।
সুতরাং, বাহ্যিকভাবে হুদায়বিয়ার সন্ধির শর্তাবলি মুসলিমদের স্বার্থবিরোধী মনে হলেও দূরদর্শী দৃষ্টিতে তা ছিল ইসলামের দ্রুত বিস্তার ও চূড়ান্ত বিজয়ের সুগম পথ, তাই একে 'সুস্পষ্ট বিজয়' বলা যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও