ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২১
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. কলিন শিক্ষকতা দিয়ে জীবন শুরু করলেও পরে ভাগ্যান্বেষণে অন্য দেশে যান। সেখানে তিনি বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লে ঐ দেশ থেকে বিতাড়িত হন। পরবর্তীতে তিনি দেশে ফিরে কর্মহীন শ্রমিক, বেকার যুবক, ভবঘুরে, মাস্তান, অপরাধী এবং ধনী বুর্জোয়াদের সমর্থন নিয়ে শক্তিশালী দল গঠন করে দেশে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।
- ক)(1)
অস্ট্রিয়ার যুবরাজের নাম কী?
- খ)(2)
অক্ষ শক্তি কী? বুঝিয়ে লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকের মি. কলিনের সাথে তোমার পঠিত কোন শাসকের সাদৃশ্য আছে? বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে উক্ত শাসকের উত্থান ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অস্ট্রিয়ার যুবরাজের নাম ছিল আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জার্মানি, ইতালি এবং জাপানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সামরিক ও রাজনৈতিক মৈত্রী জোটকে 'অক্ষশক্তি' (Axis Powers) বলা হয়। ১৯৩৬ সালে রোম-বার্লিন অক্ষ এবং পরবর্তীতে জার্মানি ও জাপানের মধ্যে 'অ্যান্টি-কমিনটার্ন চুক্তি'র মাধ্যমে এই জোটের সূচনা হয়। পরবর্তীকালে ১৯৪০ সালে জার্মানি, ইতালি ও জাপানের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই অক্ষশক্তি চূড়ান্ত রূপ লাভ করে, যার লক্ষ্য ছিল আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তার এবং মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মি. কলিনের সাথে আমার পঠিত ইতালির ফ্যাসিস্ট শাসক বেনিতো মুসোলিনির সাদৃশ্য রয়েছে।
বেনিতো মুসোলিনির জীবনের প্রথমার্ধ ছিল বৈচিত্র্যময়। তিনি পেশা হিসেবে প্রথমে শিক্ষকতা শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে ভাগ্যান্বেষণে সুইজারল্যান্ডে যান এবং সেখানে সমাজতান্ত্রিক ও বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার কারণে সুইস সরকার কর্তৃক বিতাড়িত হয়ে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি সাংবাদিকতা ও রাজনীতি শুরু করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালির চরম অর্থনৈতিক সংকটে বেকার যুবক, কর্মহীন অসন্তুষ্ট সৈনিক, ভবঘুরে এবং কমিউনিস্ট আতঙ্কে থাকা ধনী বুর্জোয়া পুঁজিপতিদের সংগঠিত করে 'ফ্যাসিস্ট দল' প্রতিষ্ঠা করেন। উদ্দীপকের মি. কলিনও একইভাবে শিক্ষকতা ছেড়ে বিদেশে যান, বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের জন্য বিতাড়িত হন এবং পরবর্তীতে বেকার যুবক ও বুর্জোয়াদের নিয়ে দল গঠন করে একনায়কতন্ত্র কায়েম করেন। অতএব, জীবনবৃত্তান্ত ও ক্ষমতায় আরোহণের প্রক্রিয়ার দিক থেকে মি. কলিনের চরিত্রটি মুসোলিনির প্রতিচ্ছবি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মি. কলিনের কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে ইতালির একনায়ক বেনিতো মুসোলিনির উত্থানের প্রক্রিয়াটি সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ী জোটে থেকেও ইতালি প্রত্যাশিত ভূখণ্ড লাভ করতে পারেনি, যা ইতালীয়দের মধ্যে চরম জাতীয়তাবাদী ক্ষোভের জন্ম দেয়। যুদ্ধের পর ইতালিতে তীব্র অর্থনৈতিক মন্দা, ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। ঠিক উদ্দীপকের মতোই মুসোলিনি সমাজে হতাশাগ্রস্ত এই অংশটিকে লক্ষ্যবস্তু বানান। তিনি কর্মহীন যুদ্ধফেরত সৈনিক, বেকার যুবক এবং সমাজবিরোধীদের নিয়ে 'ব্ল্যাক শার্ট' (কালো কুর্তা) নামক আধাসামরিক বাহিনী গঠন করেন।
একই সাথে ইতালিতে কমিউনিস্ট বিপ্লবের ভয়ে আতঙ্কিত শিল্পপতি, ভূস্বামী ও ধনী বুর্জোয়ারা মুসোলিনিকে অর্থনৈতিকভাবে অন্ধ সমর্থন দেয়, কারণ তিনি সমাজতন্ত্র ও শ্রমিক ধর্মঘট দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এই ব্যাপক জনসমর্থন ও গুন্ডাবাহিনীর বলপ্রয়োগের ওপর ভিত্তি করে ১৯২২ সালের অক্টোবরে মুসোলিনি তাঁর বাহিনী নিয়ে রাজধানী রোম অভিমুখে ঐতিহাসিক 'রোম অভিযান' (March on Rome) পরিচালনা করেন। দুর্বল রাজা তৃতীয় ভিক্টর ইমানুয়েল রক্তপাত এড়াতে মুসোলিনিকে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করতে বাধ্য হন। ক্ষমতায় এসে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সমস্ত রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে ইতালিতে একনায়কতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত সামাজিক অস্থিরতা, বেকারদের সমাবেশ ও বুর্জোয়াদের পৃষ্ঠপোষকতা ছিল মুসোলিনির উত্থানের প্রধান ভিত্তি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও