‍ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২১

‍ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন

ইসলাম-পূর্ব আরবে সর্বদাই মারামারি কাটাকাটি লেগে থাকত। মহানবি (সা.) গোত্রে গোত্রে এই অন্যায় বিরোধ থেকে আরববাসীকে রক্ষা করার জন্য একটি শান্তি সংঘ প্রতিষ্ঠা করেন। সংগঠনটির নাম 'হিলফুল ফুজুল'।

  1. ক)

    কত সালে ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    উইড্রো উইলসনের দুটি দফা ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সংঘের সাথে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী কোন সংগঠনটির মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    ইউরোপে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সংগঠনটি কি সহায়ক হয়েছিল? মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৭৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন ১৯১৮ সালের ৮ জানুয়ারি তাঁর বিখ্যাত '১৪ দফা' কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ দফা হলো:
    ১. উন্মুক্ত কূটনীতি: কোনো গোপন আন্তর্জাতিক চুক্তি করা যাবে না এবং আন্তর্জাতিক কার্যকলাপ প্রকাশ্যে ও সবার অবগতির মাধ্যমে পরিচালিত হতে হবে।
    ২. লিগ অব নেশনস গঠন: ক্ষুদ্র-বৃহৎ সব রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার পারস্পরিক নিশ্চয়তা বিধানের লক্ষ্যে একটি সর্বজনীন জাতিপুঞ্জ বা আন্তর্জাতিক সংস্থা গড়ে তোলা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের শান্তি সংঘ 'হিলফুল ফুজুল'-এর সাথে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী আন্তর্জাতিক সংগঠন 'লিগ অব নেশনস' (জাতিপুঞ্জ)-এর মিল পাওয়া যায়।

    ইসলাম-পূর্ব আরবে 'ফুজ্জারের যুদ্ধ'-এর ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ দেখে হযরত মুহাম্মদ (সা.) শান্তিপ্রিয় যুবকদের নিয়ে আর্তপীড়িত মানুষের সেবা এবং গোত্রীয় সংঘাত বন্ধে 'হিলফুল ফুজুল' গঠন করেছিলেন। একইভাবে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ রক্তক্ষয় ও ধ্বংসযজ্ঞের পর ভবিষ্যতে যুদ্ধ প্রতিরোধ এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে ১৯২০ সালের ১০ জানুয়ারি 'লিগ অব নেশনস' প্রতিষ্ঠিত হয়।

    উদ্দীপকের হিলফুল ফুজুলের মূল লক্ষ্য যেমন ছিল বিরোধ নিরসন ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, তেমনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে গঠিত লিগ অব নেশনসের প্রধান উদ্দেশ্যও ছিল বিশ্বশান্তি রক্ষা করা এবং আগ্রাসন বন্ধ করা। ফলে উদ্দেশ্যের দিক থেকে হিলফুল ফুজুলের সাথে লিগ অব নেশনসের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ইউরোপে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় 'লিগ অব নেশনস' সামগ্রিকভাবে সফল বা স্থায়ী সহায়ক হতে পারেনি। নিচে এ বিষয়ে মতামত তুলে ধরা হলো:

    প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও ভবিষ্যৎ যুদ্ধ প্রতিরোধের মূল অঙ্গীকার নিয়ে লিগ অব নেশনস যাত্রা শুরু করেছিল। সূচনালগ্নে সংস্থাটি সুইডেন-ফিনল্যান্ডের মধ্যকার অল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ সংকট সমাধান, গ্রিস-বুলগেরিয়া সীমান্ত সংঘর্ষ নিবারণ এবং কিছু সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় সাফল্য দেখায়।

    কিন্তু ইউরোপ তথা বিশ্বে স্থায়ী শান্তি রক্ষায় এটি চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়। এর পেছনে প্রধান কারণগুলো ছিল:
    ১. নিজস্ব স্থায়ী সামরিক বাহিনী না থাকা: কোনো আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে লিগের নিজস্ব কোনো সেনাবাহিনী ছিল না।
    ২. পরাশক্তিদের অসদুপায় ও নির্লিপ্ততা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই সংস্থার প্রস্তাবক হলেও কংগ্রেসের বিরোধিতার কারণে এতে যোগ দেয়নি। ব্রিটেন ও ফ্রান্স নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় তোষণ নীতি গ্রহণ করে।
    ৩. আগ্রাসন প্রতিরোধে ব্যর্থতা: ১৯৩১ সালে জাপানের মাঞ্চুরিয়া আক্রমণ, ১৯৩৫ সালে ইতালির আবিসিনিয়া (ইথিওপিয়া) দখল এবং হিটলার কর্তৃক ভার্সাই চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে একের পর এক ইউরোপীয় অঞ্চল দখল করা লিগ কার্যকরভাবে ঠেকাতে পারেনি।

    পরিশেষে বলা যায়, পরাশক্তিদের স্বার্থান্ধতা ও দুর্বল কাঠামোর কারণে লিগ অব নেশনস ইউরোপে দীর্ঘমেয়াদী বা স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, যার চরম পরিণতি ছিল ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন