ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২১

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

সুন্দরবনের বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী বাকুড়া ও হিজলডাঙ্গার। অধিবাসীদের মধ্যে শত্রুতা, দীর্ঘদিনের। বাকুড়ায় হঠাৎ মহিম নামে এক সাহসী যোদ্ধার আবির্ভাব হয়। তার নেতৃত্বে বাকুড়াবাসী হিজলডাঙ্গায় অসংখ্যবার আক্রমণ চালায় এবং প্রত্যেকবারই হিজলডাঙ্গাবাসীকে পরাজিত করে ব্যাপক লুটতরাজ চালিয়ে প্রচুর ধন-সম্পদ হস্তগত করে। লুন্ঠিত সম্পদ দিয়ে মহিম বাকুড়াকে সুন্দর করে গড়ে তোলে।

  1. ক)

    'শাহনামা' মহাকাব্যের রচয়িতা কে?

    (1)
  2. খ)

    আলাউদ্দিন হোসেনকে 'জাহানসুজ' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের মহিমের অভিযানের সাথে প্রাক-সালতানাত যুগের কোন শাসকের অভিযানের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সাদৃশ্যপূর্ণ শাসক শুধু অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যেই অভিযান পরিচালনা করেছিলেন- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মহাকাব্য 'শাহনামা'-র রচয়িতা হলেন পারস্যের মহাকবি আবুল কাশেম ফেরদৌসী।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ঘোরের শাসক আলাউদ্দিন হোসেন গজনী নগরী জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ভস্মীভূত করেছিলেন বলে তাঁকে 'জাহানসুজ' বা 'জগৎ দাহক' (World Burner) বলা হয়। তাঁর ভাই কুতুবউদ্দিন মুহাম্মদ এবং সাইফুদ্দিন সুরিকে গজনীর সুলতান বাহরাম শাহ নির্মমভাবে হত্যা করেছিলেন। এর প্রতিশোধ নিতে ১১৫৫ খ্রিস্টাব্দে আলাউদ্দিন হোসেন গজনী আক্রমণ করে সুলতান বাহরাম শাহকে পরাজিত করেন এবং বিখ্যাত ও সুন্দর গজনী নগরীতে সাত দিন ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে অগ্নিকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞ চালান। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের জন্যই তিনি 'জাহানসুজ' উপাধি পান।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মহিমের অভিযানের সাথে প্রাক-সালতানাত যুগের গজনীর সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের সাদৃশ্য রয়েছে।

    সুলতান মাহমুদ ১০০০ থেকে ১০২৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ভারতে মোট সতেরো বার সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি প্রায় প্রতিটি অভিযানেই জয়লাভ করেন এবং ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও মন্দির থেকে বিপুল পরিমাণ ধন-সম্পদ লাভ করে তা তাঁর রাজধানী গজনীতে নিয়ে যান। সেই লুণ্ঠিত সম্পদ দিয়ে তিনি গজনীকে একটি সুরম্য, সমৃদ্ধিশালী ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিণত করেছিলেন।

    উদ্দীপকের মহিমও হিজলডাঙ্গায় বারবার আক্রমণ চালিয়ে প্রতিবারই তাদের পরাজিত করে প্রচুর ধন-সম্পদ হস্তগত করে এবং তা দিয়ে নিজের এলাকা বাকুড়াকে সুন্দর করে গড়ে তোলে। এই বৈশিষ্ট্য সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের সাথে হুবহু মিলে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানগুলোর পেছনে অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য প্রধান হলেও তা 'শুধু' অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হয়েছিল—এ কথা পুরোপুরি সঠিক নয়; বরং এর পেছনে রাজনৈতিক ও সামরিক কৌশলগত কারণও বিদ্যমান ছিল।

    অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য: সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের একটি প্রধান উদ্দেশ্য ছিল নিঃসন্দেহে অর্থনৈতিক। তৎকালীন ভারতের মন্দিরগুলোতে অফুরন্ত সোনা, রূপা ও রত্নভাণ্ডার সঞ্চিত ছিল। সুলতান মাহমুদ এই বিপুল সম্পদ হস্তগত করে তাঁর নিজ রাজ্য গজনীর উন্নয়ন, একটি বিশাল স্থায়ী সেনাবাহিনী পরিচালনা এবং মধ্য এশিয়ায় তাঁর সাম্রাজ্য সম্প্রসারণে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন।

    রাজনৈতিক ও সামরিক উদ্দেশ্য: শুধু সম্পদের লোভেই তিনি ভারতে আসেননি। ভারতের সীমান্তবর্তী হিন্দুশাহী রাজ্যের শাসক জয়পাল ও তাঁর বংশধরেরা গজনীর নিরাপত্তার জন্য স্থায়ী হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ফলে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত নিরাপদ রাখা এবং বৈরী শক্তিগুলোকে দুর্বল করে দেওয়া তাঁর সামরিক নিরাপত্তার অন্যতম কারণ ছিল। এছাড়া মধ্য এশিয়ায় সেলজুক ও অন্যান্য শক্তির বিরুদ্ধে গজনীর সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে সামরিক শক্তির প্রদর্শন ও প্রভাব বজায় রাখা জরুরি ছিল।

    সুতরাং, যদিও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য তাঁর অভিযানগুলোর পেছনে সবচেয়ে দৃশ্যমান ও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক ছিল, তবুও নিরাপত্তার খাতিরে রাজনৈতিক ও সামরিক উদ্দেশ্যকেও খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন