‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২১

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

আফ্রিকা মহাদেশের একটি দেশের জাতিগোষ্ঠীর নাম জুলু জাতি। এ জাতি তাদের ভাষা ও সংস্কৃতির জন্য ঔপনিবেশিক শাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যায়। দীর্ঘ এ সংগ্রামে অনেকের হতাহতের ঘটনা ঘটে। অবশেষে ঔপনিবেশিক শাসকবর্গ তাদের ভাষাসংস্কৃতির দাবিটিকে মেনে নিতে বাধ্য হয়। শুধু তাই নয়, তাদের এ অধিকার ও আন্দোলন আন্তর্জাতিক সংস্থার স্বীকৃতিও লাভ করে।

  1. ক)

    স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    পূর্ব বাংলার নাম কখন কীভাবে করা হয়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ঘটনাটি তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? পাঠ্যপুস্তকের আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    পাঠ্যপুস্তকের ঘটনাটি কীভাবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে? বর্ণনা কর ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৫৫ সালের ২৫ আগস্ট করাচিতে পাকিস্তান গণপরিষদে এক বিল পাসের মাধ্যমে এবং ১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে প্রদেশটির আনুষ্ঠানিক নাম পরিবর্তন করে 'পূর্ব পাকিস্তান' করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন যে, এ অঞ্চলের নাম হবে কেবল 'বাংলাদেশ'।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ঘটনাটি আমার পাঠ্যবইয়ের ১৯৫২ সালের রক্তক্ষয়ী 'ভাষা আন্দোলন'-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পরপরই পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্র শুরু করে। এর প্রতিবাদে বাঙালি সমাজ তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সমাবর্তনে খাজা নাজিমুদ্দীন এবং জিন্নাহর 'উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা' ঘোষণার বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

    আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ নেয় ১৯৫২ সালে। ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা মিছিল বের করলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে বরকত, রফিক, সালাম, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সমগ্র পূর্ব বাংলায় তীব্র গণবিক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অবশেষে তীব্র আন্দোলনের মুখে ১৯৫৪ সালে পাকিস্তান গণপরিষদ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয় এবং ১৯৫৬ সালের সংবিধানে তা অন্তর্ভুক্ত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পাঠ্যপুস্তকের ভাষা আন্দোলনের ঘটনাটি মূলত ইউনেস্কো (UNESCO) কর্তৃক ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে স্বীকৃতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মর্যাদা লাভ করে।

    বাঙালির এই মহান আত্মত্যাগকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে কানাডাপ্রবাসী কিছু উদ্যোগী বাঙালি (বিশেষ করে রফিকুল ইসলাম এবং আবদুস সালাম) গঠন করেন 'মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ লাভার্স অব দ্য ওয়ার্ল্ড' নামের একটি সংগঠন। তারা ১৯৯৮ সালে জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কফি আনানকে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব পাঠান। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব ইউনেস্কোর কাছে পেশ করা হয়।

    ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ৩০তম সাধারণ অধিবেশনে ১৮৮টি দেশের সমর্থনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্বের সকল দেশে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় মাতৃভাষাগুলোর সংরক্ষণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে উদযাপিত হয়ে আসছে। এভাবে রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলন বিশ্বমঞ্চে অনন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন