‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২১

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

রহমত তার চাচার সাথে আম বাগানে আম খেতে খেতে চাচাকে জিজ্ঞেস এ আম বাগান কে বানিয়েছে। চাচা উত্তর দিলেন এ আম বাগান আমার দাদা বানিয়েছেন। চাচা রহমতকে আরও বলল- তুমি কি জান এদেশের একটি আম বাগানের সাথে বাঙালির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস জড়িয়ে আছে?

  1. ক)

    লাহোর প্রস্তাব কে উত্থাপন করেন?

    (1)
  2. খ)

    প্রবাসী সরকার বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে পাঠ্যপুস্তকের কোন বিখ্যাত আম বাগানের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বাঙালির যে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা বলা হয়েছে পাঠ্যপুস্তকের আলোকে তার কার্যক্রম বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ. কে. ফজলুল হক (শেরে বাংলা)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ বা জাতীয় সংকটের সময় স্বদেশভূমি শত্রুকবলিত থাকলে দেশের বাইরে অন্য কোনো বন্ধুভাবাপন্ন দেশে সাময়িকভাবে গঠিত ও পরিচালিত সরকারকে প্রবাসী সরকার বলে। যেমন— ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার বা মুজিবনগর সরকার ভারতের কলকাতায় অবস্থান করে প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে পাঠ্যপুস্তকের মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার (বর্তমান মুজিবনগর) ঐতিহাসিক 'আম্রকানন'-এর কথা বলা হয়েছে।

    ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল তৎকালীন মেহেরপুর মহকুমার ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার অর্থাৎ মুজিবনগর সরকারের আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। উদ্দীপকে রহমতের চাচা যে আম বাগানের সাথে বাঙালির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের সম্পর্কের কথা বলেছেন, তা মূলত এই বৈদ্যনাথতলার আমবাগানকেই নির্দেশ করে। এখানে দেশি-বিদেশি অসংখ্য সাংবাদিকের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ ও অনুমোদিত হয় এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও অন্যান্য মন্ত্রীরা শপথ গ্রহণ করেন। তাই উদ্দীপকের আমবাগানটি ঐতিহাসিক মুজিবনগরের আম্রকাননের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বাঙালির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস বলতে ১৯৭১ সালের মুজিবনগর সরকার গঠন এবং মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় এর ভূমিকা ও কার্যক্রমকে বোঝানো হয়েছে।

    মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ একটি নিয়মতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক রূপ লাভ করে। এই সরকারের প্রধান প্রধান কার্যক্রম নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা: মুজিবনগর সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে প্রতিটিতে একজন সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ দেয়। এছাড়া সেনা সদস্যদের নিয়ে নিয়মিত বাহিনী এবং ছাত্র, যুবক ও কৃষকদের নিয়ে গঠিত গণবাহিনী বা মুক্তিবাহিনীর সমন্বয়ে গেরিলা ও সম্মুখযুদ্ধ পরিচালনা করে।
    ২. প্রশাসন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা: সরকার যুদ্ধকালীন প্রশাসন পরিচালনার জন্য ১২টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগ গঠন করে। শরণার্থী পুনর্বাসন এবং অর্থ সংগ্রহের জন্য সুষ্ঠু ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
    ৩. আন্তর্জাতিক সমর্থন ও কূটনীতি: মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বজনমত গঠনে মুজিবনগর সরকার বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বিশেষ দূত নিয়োগ করে বহির্বিশ্বে কূটনৈতিক মিশন পরিচালনা করে এবং পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার চিত্র তুলে ধরে।
    ৪. 'স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র': এই বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমে উদ্দীপনামূলক গান, চরমপত্র ও খবরের দ্বারা মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস ও সাধারণ মানুষের মনোবল বৃদ্ধি করা হয়।

    পরিশেষে বলা যায়, মুজিবনগর সরকারের দক্ষ নেতৃত্ব ও সময়োপযোগী কার্যক্রমের ফলেই ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতি বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন