ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২১
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
শেরশাহ শুধু সাহসী বীর ও সময় কুশলী নেতাই ছিলেন না, শাসক হিসেবেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ। শাসন কাজের সুবিধার জন্য সারা দেশকে ৪৭টি ভাগে ভাগ করেন। এছাড়া জনগণের কল্যাণের জন্য তিনি অর্থনৈতিক, ধর্মীয়, শিক্ষা, যাতায়াত ইত্যাদি প্রতিটি বিষয়ে নজর দেন। মহান এই শাসক নিজ গোলাবারুদে আগুন লেগে মৃত্যুবরণ করেন।
- ক)(1)
কত সালে ভার্সাই সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়?
- খ)(2)
লিজিয়ন অব অনার কী? ব্যাখ্যা কর ।
- গ)(3)
উদ্দীপকের শাসকের সাথে তোমার পঠিত কোন শাসকের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত শাসকের সাথে তোমার পঠিত শাসকের মৃত্যুর বৈসাদৃশ্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯১৯ সালের ২৮ জুন ঐতিহাসিক ভার্সাই সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'লিজিয়ন অব অনার' হলো ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট কর্তৃক ১৮০২ সালে প্রবর্তিত একটি সর্বোচ্চ সামরিক ও বেসামরিক সম্মানসূচক পদক বা উপাধি।
ফরাসি সমাজে মেধা, যোগ্যতা ও রাষ্ট্রীয় সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ নেপোলিয়ন এই পদকের প্রবর্তন করেন। বংশমর্যাদা বা আভিজাত্যের বদলে সামরিক ও বেসামরিক ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখা যেকোনো নাগরিককে উৎসাহিত ও সম্মানিত করতে এ ব্যবস্থা চালু করা হয়, যা ফরাসিদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ ও দেশপ্রেম জোরদার করেছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শাসক শেরশাহের সাথে আমার পঠিত ইতিহাসের ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের প্রশাসনিক সংস্কার ও প্রতিভার মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, শেরশাহ একজন দক্ষ শাসক ও বীর যোদ্ধা ছিলেন, যিনি দেশ পরিচালনার সুবিধার্থে পুরো সাম্রাজ্যকে বিভিন্ন প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করেন এবং অর্থনীতি, শিক্ষা ও জনকল্যাণমুখী সংস্কার সাধন করেন।
অনুরূপভাবে, ইউরোপের ইতিহাসে সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টও ছিলেন একজন অত্যন্ত দূরদর্শী ও দক্ষ শাসক। তিনি ফ্রান্সের শাসনব্যবস্থাকে কেন্দ্রীভূত করেন এবং শাসনকাজের সুবিধার জন্য ফ্রান্সকে বিভিন্ন প্রিফেকচারে ভাগ করেন। এছাড়া তিনি 'কোড নেপোলিয়ন' প্রণয়ন, ব্যাংক অব ফ্রান্স প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্গঠন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করেন। জনকল্যাণ ও শাসনকাজে এই ব্যাপক সংস্কারধর্মী পদক্ষেপের দিক থেকে শেরশাহ ও নেপোলিয়নের মধ্যে গভীর সাদৃশ্য লক্ষণীয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শাসক শেরশাহের মৃত্যুর সাথে পাঠ্যবইয়ের সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের মৃত্যুর ধরনের মধ্যে স্পষ্ট বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত শেরশাহ নিজ গোলাবারুদের বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে আকস্মিক ও যুদ্ধকালীন দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। এটি ছিল একটি ক্ষণিক ও আকস্মিক দুর্ঘটনাজনিত অবসান, যেখানে তিনি নিজের রাজ্যেই সর্বোচ্চ ক্ষমতায় আসীন অবস্থায় মারা যান।
পক্ষান্তরে, ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের মৃত্যু কোনো যুদ্ধক্ষেত্রের বিস্ফোরক দুর্ঘটনায় হয়নি। ১৮১৫ সালে ওয়াটারলুর যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর ইংরেজরা তাঁকে দূরবর্তী নির্জন সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসনে পাঠায়। সেখানে প্রায় ছয় বছর বন্দি ও নিঃসঙ্গ অবস্থায় কঠিন মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণা ভোগের পর ১৮২১ সালের ৫ মে পাকস্থলীর ক্যান্সারে (বা বিষপ্রয়োগজনিত অসুস্থতায়) তাঁর মৃত্যু হয়। ফলে শেরশাহের আকস্মিক সামরিক দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু এবং নেপোলিয়নের নির্বাসিত বন্দিদশায় দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতাজনিত মৃত্যু—উভয়ের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও