ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২১

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

আয়াতুল্লাহ আলী খোমিনী ইরানে ইসলামি আদর্শ প্রচার শুরু করলে শাসকগোষ্ঠী তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। তাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন। শুরু হয়। অতঃপর খোমিনী মাতৃভূমি ইরান ত্যাগ করে পার্শ্ববর্তী দেশে গমন করেন। সেখান থেকেই তিনি তার প্রচারকার্য চালাতে থাকেন। অবশেষে ১৯৭৯ সালে তিনি দেশে ফিরে স্বৈরাচারী শাসক রেজা শাহের পতন ঘটিয়ে ইসলামি শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেন এবং তিনি কোনো প্রতিশোধ না নিয়ে সকলকে ক্ষমা করে দেন।

  1. ক)

    কত খ্রিষ্টাব্দে মহানবি (স) মৃত্যুবরণ করেন?

    (1)
  2. খ)

    বায়াতুর রিদওয়ান কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    মহানবি (স)-এর জীবনের কোন ঘটনার সাথে খোমিনীর 'মাতৃভূমি ত্যাগের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত ঘটনার গুরুত্ব নিরূপণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে (১১ হিজরি) মৃত্যুবরণ করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'বায়াতুর রিদওয়ান' হলো ৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে হুদাইবিয়ার প্রান্তরে গাছের নিচে মহানবি (সা.)-এর হাতে সাহাবিদের গৃহীত ঐতিহাসিক শপথ।

    হুদাইবিয়ার সন্ধির প্রাক্কালে সন্ধির আলোচনার জন্য প্রেরিত হযরত উসমান (রা.)-এর শাহাদাতের গুজব ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি সংকটময় হয়ে ওঠে। তখন মহানবি (সা.) হযরত উসমান (রা.)-এর রক্তের বদলা নেওয়ার জন্য সাহাবিদের কাছ থেকে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করার শপথ গ্রহণ করান। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে এই শপথে অংশগ্রহণকারীদের ওপর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বলে একে 'বায়াতুর রিদওয়ান' বা সন্তুষ্টির শপথ বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত খোমিনীর মাতৃভূমি ত্যাগের সাথে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ৬২২ খ্রিষ্টাব্দের 'হিজরত' (মক্কা থেকে মদিনায় গমন)-এর সাদৃশ্য রয়েছে।

    মক্কায় ইসলাম প্রচার শুরু করলে কুরাইশ পৌত্তলিক শাসকগোষ্ঠী নবি করিম (সা.) ও মুসলমানদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন-নিপীড়ন চালায়। এমনকি তারা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে হত্যার ষড়যন্ত্র করে। আল্লাহর নির্দেশে মহানবি (সা.) প্রিয় জন্মভূমি মক্কা ত্যাগ করে ইয়াসরিবে (মদিনা) হিজরত করেন।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, আয়াতুল্লাহ খোমিনী ইরানে ইসলামী আদর্শ প্রচার শুরু করলে সেখানকার অত্যাচারী শাসকগোষ্ঠী তার ওপর জুলুম চালায় এবং তিনি মাতৃভূমি ইরান ত্যাগ করে প্রতিবেশী দেশে চলে যান। উভয়ক্ষেত্রেই সত্য প্রচারের কারণে অত্যাচারিত হয়ে আদর্শের সুরক্ষায় মাতৃভূমি ত্যাগ করার অভিন্ন প্রেক্ষাপট বিদ্যমান, যা মহানবি (সা.)-এর হিজরতের ঘটনার সাথে সরাসরি সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত মহানবি (সা.)-এর হিজরত এবং পরবর্তীকালে মক্কা বিজয়ের ঘটনা ইসলাম ও বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ও অনন্য মাইলফলক।

    হিজরতের মাধ্যমে ইসলামের এক নতুন গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সূচনা হয়। মদিনায় হিজরতের ফলেই মুসলমানদের রাজনৈতিক শক্তি অর্জিত হয় এবং মহানবি (সা.)-এর নেতৃত্বে একটি স্বাধীন কল্যাণমুখী ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এর ফলে মদিনা সনদ প্রণীত হয়, বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ইসলাম বিশ্বমঞ্চে দ্রুত বিস্তার লাভ করে। হিজরতের এই গুরুত্বকে চিরস্মরণীয় করে রাখতেই খলিফা ওমর (রা.) হিজরি সনের প্রবর্তন করেন।

    পরবর্তীতে ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে কোনো রকম রক্তপাত ছাড়াই ঐতিহাসিক 'মক্কা বিজয়' সম্পন্ন হয়। বিজয়ের পর মহানবি (সা.) চরম শত্রু ও নির্যাতনকারীদের প্রতি যে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন, তা মানবজাতির ইতিহাসে ক্ষমার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। উদ্দীপকে খোমিনীর বিজয়ের পর ক্ষমা প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে মহানবি (সা.)-এর এই মহৎ আদর্শেরই প্রতিফলন দেখা যায়। সুতরাং, হিজরত ও মক্কা বিজয়ের ঘটনা কেবল ধর্মীয় পরিমণ্ডলেই নয়, বরং বিশ্ব রাজনৈতিক ও মানবাধিকারের ইতিহাসেও সর্বাধিক গুরুত্বের দাবিদার।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন