ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২১
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
রতনপুর গ্রামের চেয়ারম্যান রফিক সাহেব একজন স্বৈরশাসক। তাঁর স্বৈরাচারী কার্যকলাপে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী। ঐ গ্রামের প্রতিবাদী যুবক রায়হান, নানা আন্দোলন সংগ্রামে তার ভূমিকা অপরিসীম। চেয়ারম্যানের শাসন- শোষণের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণের পক্ষে রায়হান বেশ কয়েকটি দাবি সংবলিত একটি দাবিনামা পেশ করেন। এ দাবিনামা রতনপুরবাসীর মধ্যে অভূতপূর্ব জাগরণ সৃষ্টি করে। জনগণও দাবি আদায়ে সোচ্চার হয়।
- ক)(1)
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি ছিল কত জন?
- খ)(2)
অপারেশন সার্চলাইট বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের রায়হানের কার্যক্রম পাঠ্যপুস্তকের কোন ঘটনাকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা কর ।
- ঘ)(4)
পাঠ্যপুস্তকের উক্ত দাবিনামা ছিল বাঙালির জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ম্যাগনাকার্টা।-বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান অভিযুক্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মোট আসামি ছিলেন ৩৫ জন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'অপারেশন সার্চলাইট' বলতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা কর্তৃক নিরস্ত্র ও নিরীহ বাঙালিদের ওপর পরিচালিত বর্বর ও সুপরিকল্পিত সামরিক আক্রমণ বা গণহত্যাকে বোঝায়। বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলনকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে জেনারেল টিক্কা খানের পরিকল্পনায় এই নৃশংস অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের রায়হানের কার্যক্রম পাঠ্যপুস্তকের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ১৯৬৬ সালে ঘোষিত ঐতিহাসিক '৬ দফা কর্মসূচি' পেশের ঘটনাকে ইঙ্গিত করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, স্বৈরশাসক চেয়ারম্যান রফিক সাহেবের শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী যুবক রায়হান সাধারণ মানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে একটি দাবিনামা পেশ করেন, যা জনগণের মধ্যে ব্যাপক জাগরণ সৃষ্টি করে।
একইভাবে, তৎকালীন পাকিস্তানি সামরিক স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের দমন-পীড়ন, রাজনৈতিক বৈষম্য ও অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতিকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে ঐতিহাসিক ৬ দফা পেশ করেন। এই ৬ দফার মাধ্যমেই বাঙালি জাতি তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের সঠিক পথ খুঁজে পায় এবং পাকিস্তানি শোষকদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাই রায়হানের দাবিনামা পেশের ঘটনাটি ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবির প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাঠ্যপুস্তকের উক্ত দাবিনামা অর্থাৎ ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচি প্রকৃতপক্ষে ছিল বাঙালি জাতির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির 'ম্যাগনাকার্টা' বা মহাসনদ।
১২১৫ সালে ইংল্যান্ডের রাজা জন জনগণের মৌলিক অধিকার স্বীকার করে নিয়ে যে 'ম্যাগনাকার্টা' সনদে স্বাক্ষর করেছিলেন, তা ছিল ব্রিটিশ জনগণের মুক্তির মূল ভিত্তি। একইভাবে, ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উত্থাপিত ৬ দফার মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের সার্বিক আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার, বিচার, শাসন, কর আদায় ও অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের সুস্পষ্ট রূপরেখা বিধৃত ছিল।
৬ দফার প্রধান দাবিগুলো ছিল— যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা ও সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রবর্তন, কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা কেবল প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা, পৃথক মুদ্রা ব্যবস্থা অথবা সহজ বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু করা, কর ধার্য ও রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা প্রদেশের হাতে রাখা, বৈদেশিক মুদ্রা ও বৈদেশিক বাণিজ্যে প্রদেশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নিজস্ব আধাসামরিক বাহিনী গঠন।
এই দাবিগুলো ছিল মূলত বাঙালির দীর্ঘদিনের বঞ্চনা থেকে মুক্তির সুনির্দিষ্ট রূপরেখা। ৬ দফাকে কেন্দ্র করেই বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন তীব্রতর হয়, যা পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় নিশ্চিত করে। সুতরাং, ৬ দফাই ছিল বাঙালির জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রকৃত ম্যাগনাকার্টা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও