‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২১

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

বর্ণবাদী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ মার্টিন লুথার কিং। ১৯৬৩ সালে ওয়াশিংটনে প্রায় আড়াই লক্ষ নিগ্রোদের উপস্থিতে তার বিখ্যাত বক্তৃতা ' I have a dream' তুলে ধরেন। তার সতোর মিনিটের বক্তৃতা নিগ্রোদের অধিকার আদায়ে উদ্বুদ্ধ করেছিল। শুধু তাই নয় আমেরিকার ইতিহাসে এটি ছিল শ্রেষ্ঠ বক্তৃতা।

  1. ক)

    ছয় দফা দাবি কত সালে উত্থাপন করা হয়?

    (1)
  2. খ)

    মৌলিক গণতন্ত্র বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের বক্তৃতা তোমার পাঠ্যপুস্তকের কার বক্তৃতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত বক্তৃতার রাজনৈতিক ফলাফল বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ছয় দফা দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৬৬ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে উত্থাপন করা হয় (প্রথম ৫-৬ ফেব্রুয়ারি উত্থাপিত হয়েছিল)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৫৯ সালে পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল আইয়ুব খান ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার উদ্দেশ্যে যে সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেন, তাকে 'মৌলিক গণতন্ত্র' (Basic Democracy) বলা হয়। এই ব্যবস্থায় পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ৪০,০০০ করে মোট ৮০,০০০ নির্বাচিত স্থানীয় কাউন্সিলের সদস্যকে (মৌলিক গণতন্ত্রী) রাষ্ট্রপতি, জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নির্বাচনের ক্ষমতা দেওয়া হয় এবং সাধারণ জনগণের সরাসরি ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের বক্তৃতাটি আমার পাঠ্যপুস্তকের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের বক্তৃতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    উদ্দীপকে বর্ণবাদী আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং ১৯৬৩ সালে লক্ষাধিক মানুষের সামনে তার ঐতিহাসিক 'I have a dream' ভাষণ দেন, যা অধিকারবঞ্চিত নিগ্রোদের মুক্তির পথ দেখায়।

    একইভাবে, ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লক্ষ লক্ষ বাঙালির উপস্থিতিতে প্রায় ১৯ মিনিটের এক কালজয়ী ভাষণ প্রদান করেন। এই ভাষণে তিনি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বঞ্চনা, নিপীড়ন ও সামরিক নির্যাতনের ইতিহাস তুলে ধরে জাতিকে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন ও স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। উদ্দীপকের ভাষণের মতো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণও ছিল নির্যাতিত ও শোষিত একটি জাতিকে মুক্তির লড়াইয়ে উদ্বুদ্ধ করার অন্যতম অনুপ্রেরণা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের বক্তৃতার রাজনৈতিক ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী এবং অবিস্মরণীয়।

    উক্ত বক্তৃতার রাজনৈতিক ফলাফলগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. মুক্তিযুদ্ধের অলিখিত দিকনির্দেশনা: বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে ঘোষণা করেছিলেন— "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম"। এই ভাষণের মাধ্যমে সমগ্র বাঙালি জাতি প্রত্যক্ষ মুক্তিযুদ্ধের দিকনির্দেশনা ও রণকৌশল লাভ করে।
    ২. অসহযোগ আন্দোলনের পূর্ণতা: ৭ই মার্চের ভাষণের পর পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানি সরকারের কর্তৃত্ব কার্যত অচল হয়ে পড়ে। অফিস-আদালত, ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবই বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে পরিচালিত হতে থাকে এবং বাস্তব শাসনভার বঙ্গবন্ধুর হাতে চলে আসে।
    ৩. প্রতিরোধ সংগ্রামের প্রস্তুতি: ভাষণের নির্দেশ অনুযায়ী বাঙালিরা ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলে এবং যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর মানসিক ও সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করে।
    ৪. স্বাধীনতা ও বিজয়ের পথ উন্মোচন: ২৫শে মার্চ কালোরাতে পাকিস্তানি বাহিনী আক্রমণ চালালে ৭ই মার্চের দিকনির্দেশনার ওপর ভিত্তি করেই সাধারণ মানুষ এবং সশস্ত্র বাহিনীর বাঙালি সদস্যরা সশস্ত্র প্রতিরোধ শুরু করেন, যা ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর চুড়ান্ত বিজয়ের মাধ্যমে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে।

    সুতরাং, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক বক্তৃতা তৎকালীন ভূখণ্ডে রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্য বদলে দেয় এবং তা বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জনের চূড়ান্ত মোহনায় পৌঁছে দেয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন