‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২১

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

'X' রাষ্ট্রে বিভিন্ন ধর্ম ও গোত্রের মানুষের বসবাস। একদা ঐ রাষ্ট্রে শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ হলে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোত্রকে দায়ী করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অনগ্রসর গোত্রের কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তি অবস্থার ভয়াবহতা বুঝতে পেরে তাদের মধ্যে ঐক্যের ডাক দেন ও সরকারের সাথে সহযোগিতার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তাদের কার্যসিন্ধির জন্য বহুবিধ সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। এ সংগঠনসমূহই পরবর্তীতে উক্ত ধর্মীয় গোত্রের মাঝে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও সচেতনতা বুদ্ধিতে সহায়তা করে।

  1. ক)

    ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের একজন শহিদের নাম লেখ।

    (1)
  2. খ)

    ইলবার্ট বিল বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়ের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    ভারতীয় উপমহাদেশের কুসংস্কারাচ্ছন্ন মুসলমানদের চেতনা বিকাশে তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান ও কার্যক্রমের অবদান সর্বাধিক বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের একজন শহিদ হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান (শহিদ আসাদ)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৮৮৩ সালে লর্ড রিপনের আইন পরিষদের সদস্য স্যার সি. পি. ইলবার্ট ভারতীয় বিচারকদের শ্বেতাঙ্গ বা ইউরোপীয় অপরাধীদের বিচার করার ক্ষমতা দিয়ে একটি আইনের খসড়া তৈরি করেন, যা 'ইলবার্ট বিল' নামে পরিচিত। এই বিলটির বিরুদ্ধে বর্ণবাদী ইংরেজ ও ইউরোপীয়রা তীব্র আন্দোলন গড়ে তুললে পরবর্তীতে বিলটি সংশোধন করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত স্যার সৈয়দ আহমদ খান এবং তাঁর প্রবর্তিত 'আলীগড় আন্দোলন'-এর গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী এই বিদ্রোহের জন্য মূলত মুসলমানদের দায়ী মনে করে তাদের ওপর তীব্র নিপীড়ন শুরু করে। ফলে মুসলমানরা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত দিক থেকে চরম দুর্দশা ও অনগ্রসরতার শিকার হয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, একটি রাষ্ট্রে বিদ্রোহের পর একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়কে দায়ী করা হয় এবং তাদের উদ্ধারকল্পে প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিরা সরকারের সাথে সহযোগিতার ডাক দেন ও সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে আধুনিক শিক্ষার প্রসার ঘটান। ইতিহাস পাঠে দেখা যায়, স্যার সৈয়দ আহমদ খান ব্রিটিশদের বৈরিতা কাটিয়ে মুসলমানদের আধুনিক ইংরেজি শিক্ষা ও বিজ্ঞান চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে আলিগড় আন্দোলন শুরু করেন এবং ১৮৭৫ সালে 'মোহামেডান অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল কলেজ' প্রতিষ্ঠা করেন, যার সাথে উদ্দীপকের বিবরণ পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভারতীয় উপমহাদেশের কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও পশ্চাৎপদ মুসলমানদের আধুনিক চেতনা বিকাশে স্যার সৈয়দ আহমদ খানের প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান এবং আলীগড় আন্দোলনের অবদান ছিল অপরিসীম।

    ১৮৫৭-পরবর্তী সময়ে ভারতীয় মুসলমানরা পাশ্চাত্য শিক্ষা ও ইংরেজি ভাষার প্রতি অনীহা প্রকাশের ফলে এক স্থবির ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজে পরিণত হয়। এই শোচনীয় অবস্থা অনুধাবন করে স্যার সৈয়দ আহমদ খান বিশ্বাস করেছিলেন যে আধুনিক শিক্ষা ব্যতীত মুসলমানদের মুক্তি অসম্ভব। তিনি ১৮৬৪ সালে 'সায়েন্টিফিক সোসাইটি' প্রতিষ্ঠা করে পাশ্চাত্য জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রধান বইসমূহ উর্দুতে অনুবাদের ব্যবস্থা করেন। ১৮৭৫ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'মোহামেডান অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল কলেজ' (যা পরবর্তীতে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়)।

    এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও তাঁর পরিচালিত আলীগড় আন্দোলন মুসলমানদের সংকীর্ণ ও গোঁড়া মনোভাব দূর করে তাদের মধ্যে আধুনিক ও মুক্তচিন্তার বিকাশ ঘটায়। তাঁর উদ্যোগের ফলেই মুসলমানদের মধ্যে একটি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্ম হয়, যারা পরবর্তীতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সচেতনতা লাভ করে তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। অতএব, মুসলমানদের বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণ ও পশ্চাৎপদতা নিরসনে তাঁর অবদান ছিল সর্বাধিক ও যুগান্তকারী।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন