ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২১
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
অটোমান সুলতান বায়েজিদ আঙ্কারার প্রান্তরে তৈমুর লঙ্গের। বিরুদ্ধে যুদ্ধ মোকাবিলা করেন। যুদ্ধে বায়েজিদের অনেক সৈন্য বিশ্বাসঘাতকতা করে এবং কিছু সৈন্য গনিমতের প্রতি লোলুপ দৃষ্টি দেওয়ায় তৈমুরীয় বাহিনীর কাছে বায়েজিদ পরাজিত হন। তৈমুরীয় বাহিনী বিজয় অর্জন করলেও তারা স্থায়ী কোনো শাসন এশিয়া মাইনরে প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি এবং তা অটোমান তুর্কিদেরকেই চরম শিক্ষাদান করেছে, যা তাদের ভবিষ্যতে সচেতন করে তুলেছিল।
- ক)(1)
বদরের যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়?
- খ)(2)
বিদায় হজ কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোন যুদ্ধের সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে উক্ত যুদ্ধের ফলাফল আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বদরের যুদ্ধ ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দে (২য় হিজরি) সংঘটিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দশম হিজরিতে (৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে) মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) তাঁর জীবনের সর্বশেষ যে হজ পালন করেন, তাকে 'বিদায় হজ' বলা হয়। এই হজের সময় তিনি আরাফাতের ময়দানে জাবালে রাহমাত পাহাড়ে উপস্থিত বিশাল মুসলিম জনতার উদ্দেশ্যে এক ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন, যা 'বিদায় হজের ভাষণ' নামে পরিচিত। এ ভাষণে তিনি ইসলামের মৌলিক অনুশাসন, মানবজাতির সাম্য, নারীর অধিকার ও বর্ণবাদের অবসানের বার্তা ঘোষণা করেন এবং এটি ছিল তাঁর জীবনের শেষ হজ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে ইসলামের ইতিহাসের ৬২৫ খ্রিষ্টাব্দে (৩য় হিজরি) সংঘটিত 'উহুদের যুদ্ধ'-এর সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
উহুদের যুদ্ধে মহানবি (স) জাবালে রুমাত বা পাহাড়ের গিরিপথে আব্দুল্লাহ বিন জুবায়েরের নেতৃত্বে ৫০ জন তীরন্দাজ সৈন্য মোতায়েন করেছিলেন এবং কোনো অবস্থাতেই নির্দেশ ছাড়া স্থান ত্যাগ না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে মুসলিম বাহিনী জয়লাভ করলে শত্রুপক্ষের ফেলে যাওয়া গনিমতের মাল (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) সংগ্রহের লোভে তীরন্দাজদের অধিকাংশ গিরিপথ ছেড়ে চলে যায়। এই সুযোগে কুরাইশ সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদ পেছন দিক থেকে আক্রমণ চালান এবং মুসলিম বাহিনী চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সুলতান বায়েজিদের কতিপয় সৈন্য গনিমতের মালের প্রতি লোলুপ দৃষ্টি দেওয়ায় এবং বিশ্বাসঘাতকতা করায় তৈমুর লঙ্গের বাহিনীর কাছে পরাজিত হয়। উহুদের যুদ্ধেও তীরন্দাজদের একাংশের নির্দেশ অমান্য করে গনিমতের মালের প্রতি আসক্তিই মুসলিমদের নিশ্চিত বিজয়কে সাময়িক বিপর্যয়ে পরিণত করেছিল। তাই উদ্দীপকের ঘটনাটি উহুদের যুদ্ধের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক ঘটনা উহুদের যুদ্ধের ফলাফল ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও শিক্ষণীয়। নিচে এর ফলাফল আলোচনা করা হলো:
১. চরম শিক্ষা ও নেতার আদেশের গুরুত্ব: উহুদের যুদ্ধে তীরন্দাজদের স্থান ত্যাগের কারণে মুসলিম বাহিনীকে বড় ধরনের মাশুল দিতে হয়েছিল। ৭০ জন সাহাবি শাহাদাতবরণ করেন, এমনকি স্বয়ং মহানবি (স) আহত ও তাঁর দাঁত মোবারক শহীদ হন। এই পরাজয় মুসলিমদের শিখিয়েছিল যে সেনাপতির আদেশ অমান্য করা এবং পার্থিব লোভের পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে। উদ্দীপকে যেমন তৈমুরের কাছে পরাজয় অটোমানদের চরম শিক্ষা দিয়েছিল, তেমনি উহুদের পরাজয়ও মুসলমানদের ভবিষ্যতে যেকোনো যুদ্ধে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ব্যাপারে সচেতন করে তুলেছিল।
২. মক্কার কুরাইশদের অসম্পূর্ণ বিজয়: যদিও কুরাইশরা মুসলিমদের ওপর বিপর্যয় ডেকে এনেছিল, তবুও তারা মদিনা দখল করতে পারেনি কিংবা মহানবি (স)-কে নিঃশেষ করতে পারেনি। তাই সামরিক দিক থেকে কুরাইশদের এই বিজয় ছিল ক্ষণস্থায়ী ও অসম্পূর্ণ।
৩. ঈমানের দৃঢ়তা ও আত্মশুদ্ধি: উহুদের যুদ্ধের মাধ্যমে মুনাফিকদের মুখোশ উন্মোচিত হয় এবং প্রকৃত মুমিনদের ঈমানের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। সাময়িক এই পরাজয় মুসলিমদের মনোবল ভাঙতে পারেনি, বরং তারা নিজেদের ভুল সংশোধন করে ভবিষ্যৎ যুদ্ধসমূহে (যেমন খন্দকের যুদ্ধ, মক্কা বিজয়) ঐক্যবদ্ধ ও চূড়ান্ত বিজয়ী হতে সক্ষম হয়েছিল।
সুতরাং, উদ্দীপকের আলোকে বলা যায়, উহুদের যুদ্ধের আপাত বিপর্যয় মুসলিম বাহিনীকে এমন এক চরম শিক্ষা দিয়েছিল, যা তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনা ও প্রতিরক্ষা কৌশলে চিরতরে সচেতন ও অপ্রতিরোধ্য করে তোলে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও