ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২১
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
স্বাধীনতা লাভের পর মালয়েশিয়ার সরকারপ্রধান রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একটি সংবিধান প্রণয়ন করেন। নাগরিকদের সামাজিক, রাজনৈতিক, দলীয় ও অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষা এবং সকল রাজনৈতিক দল তথা সম্প্রদায়কে একটি স্বাভাবিক পরিবেশে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে রাষ্ট্রের অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি লিখিত সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। ফলে নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সুদ্ধ রাজনৈতিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
- ক)(1)
মদিনার পূর্বনাম কী ছিল?
- খ)(2)
হিজরত ও দেশত্যাগের মধ্যে পার্থক্য কী? বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
সংবিধান প্রণয়নে উদ্দীপকের সরকারপ্রধান মহানবি (স)-এর কোন কর্মকাণ্ডকে অনুসরণ করেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লেখিত সরকার প্রধান। কর্তৃক লিখি লিখিত সংবিধান প্রণয়ন অপেক্ষা মহানবি (স) কর্তৃক গৃহীত কর্মকাণ্ড অধিক তাৎপর্যপূর্ণ- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মদিনার পূর্বনাম ছিল ইয়াসরিব (বা ইয়াসরিব নগরী)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণ দেশত্যাগ বলতে বোঝায় ব্যক্তিগত, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা পারিবারিক কারণে নিজ দেশ ত্যাগ করে অন্য দেশে গমন করা। পক্ষান্তরে, ইসলামের পরিভাষায় 'হিজরত' হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ধর্মের সংরক্ষণ এবং সত্য ও ন্যায়ের আদর্শ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে নিজের জন্মভূমি ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে গমন করা। হিজরতের পেছনে আত্মত্যাগ এবং সুদূরপ্রসারী আদর্শিক ও ধর্মীয় উদ্দেশ্য থাকে, যা সাধারণ দেশত্যাগের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং মর্যাদাপূর্ণ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সংবিধান প্রণয়নে উদ্দীপকের সরকারপ্রধান মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর 'মদিনা সনদ' প্রণয়নের কর্মকাণ্ডকে অনুসরণ করেছেন।
৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় হিজরতের পর মহানবি (স) সেখানে একটি স্থিতিশীল ও সুশৃঙ্খল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। মদিনায় বসবাসরত বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের (মুসলিম, ইহুদি, পৌত্তলিক) মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্য বজায় রাখার লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন গোত্রপ্রধান ও প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে একটি লিখিত চুক্তি সম্পাদন করেন, যা ইতিহাসে 'মদিনা সনদ' নামে পরিচিত। এটি ছিল পৃথিবীর ইতিহাসের প্রথম লিখিত সংবিধান।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মালয়েশিয়ার সরকারপ্রধানও স্বাধীনতা লাভের পর বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধি ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি লিখিত সংবিধান প্রণয়ন করেন, যার লক্ষ্য ছিল সকল সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা ও স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করা। সুতরাং, উদ্দীপকের সরকারপ্রধানের এই পদক্ষেপ মহানবি (স) কর্তৃক ঐতিহাসিক 'মদিনা সনদ' প্রণয়নের আদর্শেরই প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারপ্রধান কর্তৃক লিখিত সংবিধান প্রণয়ন অপেক্ষা মহানবি (স) কর্তৃক গৃহীত মদিনা সনদ প্রণয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনার কর্মকাণ্ড অধিক তাৎপর্যপূর্ণ— উক্তিটি যথার্থ।
মালয়েশিয়ার সরকারপ্রধান একটি আধুনিক যুগে সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় সংবিধান প্রণয়ন করেছেন, যা ছিল মূলত একটি সাধারণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া।
পক্ষান্তরে, মহানবি (স) যে সময়ে মদিনা সনদ প্রণয়ন করেছিলেন (৬২৪ খ্রি.), সে সময় আরবে কোনো লিখিত আইন, কেন্দ্রীয় সরকার বা সুশৃঙ্খল শাসনব্যবস্থা ছিল না। আরবের সমাজ ছিল গোত্রীয় কলহ, রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও অরাজকতায় নিমজ্জিত। এমন এক বৈরী ও অস্থিতিশীল পরিবেশে মহানবি (স) মুসলিম, ইহুদি, খ্রিষ্টান ও পৌত্তলিকদের সমন্বয়ে একটি অবিভাজ্য উম্মাহ বা জাতীয় ঐক্যের ধারণা প্রবর্তন করেন। মদিনা সনদের মাধ্যমে ধর্মীয় স্বাধীনতা, রক্তপাত বন্ধ, অপরাধীর ব্যক্তিগত দায়, বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে মদিনার যৌথ প্রতিরক্ষা এবং মহানবি (স)-কে সর্বোচ্চ বিচারিক ক্ষমতা অর্পণের মতো যুগান্তকারী ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এটি শুধু আরবে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেনি, বরং বিশ্ব ইতিহাসে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও পরমতসহিষ্ণুতার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল।
অতএব, আধুনিক রাষ্ট্রের স্বাভাবিক সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার তুলনায় তৎকালীন বর্বর ও প্রতিকূল যুগে মহানবি (স) কর্তৃক প্রণীত মদিনা সনদের বৈপ্লবিক ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য অনেক বেশি গভীর ও সুদূরপ্রসারী।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও