ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, যশোর বোর্ড ২০২২

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

গোমতী নদীর তীরবর্তী রাস্তা আনক উঁচু এবং প্রশস্ত। এর কারণ হলো পূর্বে বর্ষাকালে গোমতী নদীতে পানি বেড়ে গিয়ে আশেপাশের এলাকায় প্লাবণ সৃষ্টি করত। এতে চাষাবাদের সমস্যা হতো এবং ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়ে যেত। অনেক সময় দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করত। তাই সরকার নদীর তীরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে এলাকাবাসীর দুর্দশা লাঘব ও কৃষির উন্নয়নের ব্যবস্থা করেছেন। কুমিল্লা শুধু কৃষির জন্যই নয়, বাণিজ্যের জন্যও বিখ্যাত। কুমিল্লার খাদি দেশে-বিদেশে পরিচিত। কুটির শিল্প, মৃৎ শিল্পাসহ ছোট ছোট অনেক কলকারখানাও এখানে রয়েছে।

  1. ক)

    মিসরীয় লিখন পদ্ধতির নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    প্যাপিরাস কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের গোমতী নদীর সাথে মিসরীয় সভ্যতার কোন নদীর সামঞ্জস্য পাওয়া যায়। ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে উন্তু সভ্যতার অবদান মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মিসরীয় লিখন পদ্ধতির নাম হায়ারোগ্লিফিক (Hieroglyphic) বা চিত্রলিপি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্যাপিরাস হলো প্রাচীন মিসরে লেখার কাগজ হিসেবে ব্যবহৃত এক প্রকার নলখাগড়াজাতীয় জলজ উদ্ভিদ। প্রাচীন মিসরীয়রা নীল নদের তীরে জন্ম নেওয়া প্যাপিরাস গাছের কাণ্ড চ্যাপ্টা করে শুকিয়ে জোড়া লাগিয়ে তা দিয়ে মসৃণ লেখার পাতা তৈরি করত। এই 'প্যাপিরাস' শব্দ থেকেই আধুনিক ইংরেজি 'Paper' (কাগজ) শব্দের উৎপত্তি হয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের গোমতী নদীর সাথে মিসরীয় সভ্যতার 'নীল নদ'-এর গভীর সামঞ্জস্য পাওয়া যায়।

    উদ্দীপকে গোমতী নদীর প্লাবনের কারণে কৃষিকাজের যে সুবিধা-অসুবিধা ও নদীকে কেন্দ্র করে জীবনযাত্রার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তা প্রাচীন মিসরের নীল নদের অনুরূপ। নীল নদের নিয়মিত প্লাবনের ফলে নদীর দুই কূলে উর্বর পলিমাটি জমত, যা কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত সহায়ক ছিল। আবার অতিরিক্ত বন্যায় ফসলের ক্ষতিও হতো। তাই মিসরীয়রা বাঁধ ও খাল কেটে পানি নিয়ন্ত্রণ করত। ঐতিহাসিক হেরোডোটাস এজন্য যথার্থই মিসরকে 'নীল নদের দান' বলেছেন। সুতরাং উদ্দীপকের গোমতী নদীর ভূমিকার সঙ্গে মিসরের নীল নদের সরাসরি সাদৃশ্য রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সভ্যতার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার মানব ইতিহাসে ব্যাপক ও যুগান্তকারী অবদান রয়েছে।

    মিসরীয়রা নীল নদের প্লাবন নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিকাজের প্রয়োজনে বাঁধ নির্মাণ, খাল খনন এবং সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়েছিল। পাশাপাশি জমি পরিমাপের প্রয়োজন থেকে তারা জ্যামিতি ও পাটিগণিতের উদ্ভাবন ও বিকাশ ঘটায়। আকাশের নক্ষত্র ও সূর্যের গতি পর্যবেক্ষণ করে তারা ৩৬৫ দিনে বছর গণনার সৌর পঞ্জিকা উদ্ভাবন করে। তাদের হায়ারোগ্লিফিক লিখন পদ্ধতি এবং প্যাপিরাসের আবিষ্কার জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্থাপত্যে তাদের পিরামিড ও ভাস্কর্য বিস্ময়কর। উদ্দীপকে যেমন বাণিজ্যের পাশাপাশি কুটির শিল্প ও মৃৎশিল্পের কথা বলা হয়েছে, মিসরীয়রাও তেমনই তাঁতশিল্প, মৃৎশিল্প এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অত্যন্ত দক্ষ ছিল। সার্বিকভাবে, কৃষিনির্ভরতা থেকে শুরু করে শিল্প ও প্রযুক্তির বিকাশে মিসরীয় সভ্যতা এক অতুলনীয় ভিত্তি স্থাপন করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন