ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২১
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
'X' ও 'Y' রাষ্ট্র দুটির সীমান্তবর্তী নদীর মোহনায় নতুন একটি দ্বীপ জেগে উঠলে উভয় দেশই এর মালিকানা দাবি করে। দ্বীপটি মালিকানার দ্বন্দ্বে দেশ দুটির মধ্যে যুদ্ধ বাঁধার উপক্রম হয়। তখন 'X' দেশটি শান্তিসংঘের মাধ্যমে এর সমাধান চাওয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে।
- ক)(1)
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয় কত সালে?
- খ)(2)
উগ্র জাতীয়তাবাদ বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
'X' দেশটি কোন সংস্থার নিকট সমস্যাটি উপস্থাপন করবে? তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
'জাতিসংঘের ঐ সংস্থাটির কাজ হলো আন্তর্জাতিক বিরোধের নিষ্পত্তি করা'- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয় ১৯৪৫ সালে (২ সেপ্টেম্বর)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উগ্র জাতীয়তাবাদ বলতে স্বজাতি বা নিজের রাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করতে গিয়ে অন্যান্য জাতি বা রাষ্ট্রের অস্তিত্ব, স্বাধীনতা ও মর্যাদাকে অস্বীকার বা হেয় করার চরম মানসিকতাকে বোঝায়। এই মনোভাব আন্তর্জাতিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে যুদ্ধ, সংঘাত ও সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের পথ উন্মুক্ত করে, যেমনটি দেখা গিয়েছিল প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে জার্মানিতে নাৎসিবাদ ও ইতালিতে ফ্যাসিবাদের মাধ্যমে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'X' দেশটি সীমান্তবর্তী নতুন দ্বীপের মালিকানা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বিরোধ নিরসনে জাতিসংঘের অন্যতম প্রধান অঙ্গসংগঠন 'আন্তর্জাতিক বিচারালয়' (International Court of Justice বা ICJ)-এর নিকট সমস্যাটি উপস্থাপন করবে।
আন্তর্জাতিক বিচারালয় নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত। ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই আদালত জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যবর্তী বিভিন্ন সীমানা বিরোধ, জলসীমা সংক্রান্ত জটিলতা বা আইনগত মতবিরোধ নিরসনের জন্য একমাত্র স্বীকৃত আন্তর্জাতিক বিচারিক মঞ্চ। কোনো ভূখণ্ড বা দ্বীপের মালিকানা নিয়ে একাধিক সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে বিরোধ বাঁধলে এবং কূটনৈতিকভাবে তা সমাধান না হলে রাষ্ট্রগুলো শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বিচারালয়ে মামলা দায়ের করে রায় প্রত্যাশা করতে পারে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আন্তর্জাতিক বিচারালয় জাতিসংঘের প্রধান বিচার বিভাগীয় অঙ্গ, যার মূল দায়িত্ব হলো সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে উদ্ভূত আইনি ও আঞ্চলিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি করা। নিচে বক্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সীমানা ও ভূখণ্ড বিরোধের নিষ্পত্তি: বিভিন্ন দেশের সীমান্ত রেখা নির্ধারণ, সমুদ্রসীমা বিরোধ এবং দ্বীপের মালিকানা নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের রায় অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছে (যেমন বাংলাদেশ ও মিয়ানমার/ভারতের মধ্যকার জলসীমা বিরোধের ঐতিহাসিক নিষ্পত্তি আন্তর্জাতিক আদালতে হয়েছিল)।
২. সার্বভৌম সমতা রক্ষা: শক্তিশালী ও দুর্বল রাষ্ট্রের বিরোধেও আদালত আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ রায় দিয়ে সংঘাত প্রতিহত করে।
৩. যুদ্ধের ঝুঁকি হ্রাস: রাষ্ট্রগুলো যখন শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক আইনের আশ্রয় নেয়, তখন তা সম্ভাব্য রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এড়াতে সহায়তা করে, যেমনটি উদ্দীপকে 'X' ও 'Y' দেশের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত।
৪. পরামর্শমূলক মতামত প্রদান: বিরোধ নিষ্পত্তি ছাড়াও সাধারণ পরিষদ বা নিরাপত্তা পরিষদের অনুরোধে আদালত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইনগত বিষয়ে সুচিন্তিত মতামত প্রদান করে।
অতএব, আন্তর্জাতিক বিচারালয় রাষ্ট্রীয় বিরোধসমূহের শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত সমাধান দিয়ে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অনবদ্য ভূমিকা পালন করছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও