ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২১
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
জয়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল মান্নান সরদারের মৃত্যুর পর ইউনিয়নবাসী জনাব শরিফুল ইসলাম সাহেবকে চেয়ারম্যান। নিযুক্ত করেন। শরিফুল সাহেব চেয়ারম্যান হয়ে অনেক সমস্যা ও বাধা- বিপত্তির সম্মুখীন হন। এ সময় কিছু ভন্ড পির ও ইউনিয়নের কর দিতে অস্বীকারকারীগণ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটান। কিন্তু চেয়ারম্যান শরিফুল সাহেব অত্যন্ত সাহস ও দৃঢ়তার সাথে এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন।
- ক)(1)
'খিলাফত' শব্দটির অর্থ কী?
- খ)(2)
মজলিশ-উস-শুরা কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত শরিফুল সাহেবের সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন খলিফার সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে উক্ত খলিফার কৃতিত্ব মূল্যায়ন করো।রচনামূলক।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'খিলাফত' একটি আরবি শব্দ, যার আভিধানিক অর্থ প্রতিনিধিত্ব, উত্তরাধিকার বা স্থলাভিষিক্ততা। ইসলামী পরিভাষায় মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওফাতের পর মুসলিম উম্মাহর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বদানকারী শাসনব্যবস্থাকে 'খিলাফত' বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'মজলিশ-উস-শুরা' হলো খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে খলিফাকে পরামর্শ প্রদানের জন্য গঠিত উপদেষ্টা পরিষদ বা পরামর্শক সভা।
ইসলামী গণতান্ত্রিক নীতিমালার ভিত্তিতে এ পরিষদ গড়ে ওঠেছিল। রাষ্ট্রের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণ, যুদ্ধ পরিচালনা, রাজস্ব ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয়ে খলিফা এ পরিষদের বিজ্ঞ ও শীর্ষস্থানীয় সাহাবিদের সাথে পরামর্শ করতেন। এতে খলিফা স্বেচ্ছাচারী হওয়া থেকে মুক্ত থাকতেন এবং রাষ্ট্রের কার্যাবলি ন্যায়নিষ্ঠভাবে পরিচালিত হতো।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত শরিফুল সাহেবের সাথে ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)-এর গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
মহানবি (সা.)-এর ওফাতের পর হযরত আবু বকর (রা.) মুসলিম জাহানের প্রথম খলিফা নির্বাচিত হন। দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই তিনি অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নানা প্রতিকূলতা ও সংকটের মুখোমুখি হন। এ সময় আরবে মিথ্যা নবুয়তের দাবিদারদের আবির্ভাব ঘটে, একদল লোক ইসলাম ত্যাগ করে ধর্মত্যাগী (রিদ্দা) হয় এবং অনেকে যাকাত দিতে অস্বীকার করে।
উদ্দীপকের শরিফুল সাহেব চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর যেমন কিছু ভণ্ড পির এবং কর দিতে অস্বীকারকারীদের দ্বারা সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা অত্যন্ত সাহস ও দৃঢ়তার সাথে মোকাবিলা করেন, তেমনি হযরত আবু বকর (রা.) দৃঢ় মনোবল, বিচক্ষণতা ও আপসহীন পদক্ষেপের মাধ্যমে ভণ্ড নবিদের দমন এবং যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়ে ইসলামের অস্তিত্ব রক্ষা করেছিলেন। তাই উভয়ের মধ্যে সুস্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)-এর ঐতিহাসিক কৃতিত্ব অনস্বীকার্য এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
মহানবি (সা.)-এর ওফাতের পর মুসলিম জাহানে যে চরম বিশৃঙ্খলা, ভণ্ড নবিদের উত্থান এবং যাকাত অস্বীকারের মতো রাষ্ট্রদ্রোহী প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছিল, হযরত আবু বকর (রা.) তা কঠোর হস্তে দমন করেন। উদ্দীপকে যেমন শরিফুল সাহেব অন্যায় ও বিশৃঙ্খলা দূর করে সুশাসন নিশ্চিত করেন, তেমনি খলিফা আবু বকর (রা.) রিদ্দার যুদ্ধ পরিচালনা করে তুলায়হা, মুসায়লামা, সাজাহ প্রমুখ মিথ্যা নবুয়তের দাবিদারদের দমন করেন। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দেন যে, মহানবি (সা.)-এর যুগে প্রদত্ত যাকাতের একটি রশি দিতেও যারা অস্বীকার করবে, তাদের বিরুদ্ধে তিনি যুদ্ধ করবেন।
তার বিচক্ষণ ও আপসহীন নেতৃত্বের ফলে ইসলামি খেলাফত অভ্যন্তরীণ ভাঙন থেকে রক্ষা পায় এবং আরবে পুনরায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। এ কারণেই ঐতিহাসিকগণ তাকে 'ইসলামের ত্রাণকর্তা' (Saviour of Islam) বলে অভিহিত করেছেন। তাছাড়া তিনি আল-কুরআন সংকলন এবং রোমান ও পারস্য সাম্রাজ্যের আগ্রাসন প্রতিরোধে প্রাথমিক অভিযান প্রেরণের মাধ্যমে ইসলামকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করার ভিত্তি রচনা করেন। অতএব, ইসলামি ইতিহাসের সংকটময় মুহূর্তে আবু বকর (রা.)-এর দৃঢ় ভূমিকা ও কৃতিত্ব ছিল অনন্য ও অতুলনীয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও