‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২১

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

আমেরিকার ১৩টি রাজ্য ছিল ব্রিটিশ উপনিবেশ। এ রাজ্যগুলোর জন্য আইন করা হতো ব্রিটিশ পার্লামেন্টে, যেখানে আমেরিকার কোন প্রতিনিধি ছিল না। এজন্য আমেরিকানরা অসন্তুষ্ট ছিল। কিন্তু ইংল্যান্ডের সংকটের সময় কোয়ারিন্টাইন অ্যাক্ট বা সৈন্যদের ভরণপোষণ আইন, মোলাসেস অ্যাক্ট বা আখ আমদানিসংক্রান্ত আইন, স্ট্যাম্প অ্যাক্ট ইত্যাদি কিছু নতুন আইন প্রণয়ন করায় অসন্তোষ আন্দোলনে পরিণত হয় এবং পরবর্তীতে স্বাধীনতা আন্দোলনে রূপ নেয়।

  1. ক)

    ১৯৩০-৩২ সময়ে গোলটেবিল বৈঠক কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?

    (1)
  2. খ)

    ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে এদেশবাসীর প্রতিক্রিয়া কী ছিল?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের বৈষম্যের সাথে পাঠ্যপুস্তকের কোন বৈষম্য সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত বৈষম্য কি বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনকে ত্বরান্বিত করেছিল? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৩০-৩২ সময়ে গোলটেবিল বৈঠক ইংল্যান্ডের লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের প্রতি তৎকালীন এদেশবাসী অর্থাৎ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া ছিল চরম অসন্তোষজনক ও হতাশাব্যঞ্জক। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগ উভয় প্রধান দলই এ আইনকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। কংগ্রেস এটিকে 'একটি নতুন দাসত্বের দলিল' হিসেবে অভিহিত করে এবং এতে জনগণের কোনো প্রকৃত স্বায়ত্তশাসন বা সার্বভৌমত্ব ছিল না বলে দাবি করে। মুসলিম লীগও প্রস্তাবিত যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বিরোধিতা করে। সার্বিকভাবে, ক্ষমতার মূল চাবিকাঠি গভর্নর জেনারেল এবং প্রাদেশিক গভর্নরদের হাতে কুক্ষিগত থাকায় এদেশবাসী এ আইনের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত বৈষম্যের সাথে আমাদের পাঠ্যপুস্তকের পাকিস্তান আমলে পূর্ব পাকিস্তান (বাংলাদেশ)-এর প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের সুস্পষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, আমেরিকার ১৩টি ব্রিটিশ উপনিবেশের জন্য আইন তৈরি হতো ব্রিটিশ পার্লামেন্টে, অথচ সেখানে আমেরিকার কোনো প্রতিনিধি ছিল না এবং তাদের ওপর অন্যায়ভাবে বিভিন্ন কর ও আইন চাপিয়ে দেওয়া হতো।

    একইভাবে, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি অধ্যুষিত পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ওপর শাসন ও শোষণ চালাতে থাকে। কেন্দ্রীয় সরকার, সেনাবাহিনী ও প্রশাসনে বাঙালিদের প্রতিনিধিত্ব ছিল একেবারেই নগণ্য। পূর্ব পাকিস্তানের পাট ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানি করে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করা হতো পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে। সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানকে ক্রমাগত বঞ্চিত করা হতো। সুতরাং, উদ্দীপকের আমেরিকার প্রতি ব্রিটিশদের বৈষম্যের চিত্রটি পাকিস্তান আমলে বাঙালিদের প্রতি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যের সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, উক্ত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনকে চূড়ান্তভাবে ত্বরান্বিত করেছিল।

    পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মলগ্ন থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের ওপর ঔপনিবেশিক শাসন কায়েম করে। সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিকে তাদের ন্যায্য রাজনৈতিক ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়। পূর্ব পাকিস্তানের রাজস্ব ও রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক ও বেসামরিক খাতে ব্যয় হতো, অথচ বাঙালিরা উন্নয়ন, চাকরিবাকরি এবং সামরিক বাহিনীতে চরম বৈষম্যের শিকার হতো।

    এই ধারাবাহিক বঞ্চনা ও বৈষম্যের কারণেই বাঙালিরা বুঝতে পেরেছিল যে পাকিস্তানের কাঠামোর মধ্যে তাদের সার্বিক মুক্তি সম্ভব নয়। ফলে ভাষা আন্দোলন (১৯৫২), যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন (১৯৫৪), ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি পেশ (১৯৬৬), গণঅভ্যুত্থান (১৯৬৯) এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের মতো ঐতিহাসিক আন্দোলন ও ঘটনাগুলো ক্রমান্বয়ে সংঘটিত হয়। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী যখন ১৯৭০-এর গণরায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন না করে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গণহত্যা শুরু করে, তখন বাঙালি জাতি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

    অতএব, বলা যায় যে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর এই দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শোষণ-বৈষম্যই বাঙালি জাতীয়তাবাদকে তীব্র করে তুলেছিল এবং শেষ পর্যন্ত ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাকে অবশ্যম্ভাবী ও ত্বরান্বিত করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন