ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২১

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

মহিষখলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরকার থেকে প্রাপ্ত বরাদ্দের বেশিরভাগ অর্থ তার নিজ এলাকার উন্নয়নে ব্যয় করেন। ফলে ইউনিয়নের উন্নয়ন বঞ্চিত অঞ্চলের লোকজন ক্ষুদ্ধ হয়ে সুজাউদ্দিনের নেতৃত্বে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলেন। এ ন্যায্য আন্দোলন বন্ধ করার জন্য চেয়ারম্যান সাহেব সুজাউদ্দিনের - বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করে তাকে গ্রেফতার করান। কিন্তু পরবর্তীতে জনগণের আন্দোলনে বাধ্য হয়ে চেয়ারম্যান তার মামলা প্রত্যাহার করে তাকে মুক্তির ব্যবস্থা করেন।

  1. ক)

    শেখ মুজিবুর রহমানকে কত তারিখে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করা হয়?

    (1)
  2. খ)

    ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত মামলার সাথে পাকিস্তান আমলের কোন মামলার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ আন্দোলনটি ছিল উদ্দীপকের আন্দোলন অপেক্ষা অধিকতর তাৎপর্যপূর্ণ- উক্তিটি মূল্যায়ন। করো

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামরিক বৈষম্য ও শোষণ থেকে মুক্ত করে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন।

    ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তান শাসন-শোষণের শিকারে পরিণত হয়। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের সম্পূর্ণ নিরাপত্তাহীনতা সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে বাঙালিদের অস্তিত্ব রক্ষা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি হিসেবে ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়, যা পরবর্তীতে 'বাঙালির মুক্তির সনদ' বা ম্যাগনাকার্টা হিসেবে বিবেচিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত মামলার সাথে পাকিস্তান আমলের ঐতিহাসিক 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা'র (রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য) সাদৃশ্য রয়েছে।

    ১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলনের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মুক্তির দাবি তীব্র রূপ নিলে আইয়ুব খানের সামরিক সরকার তা দমন করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ১৯৬৮ সালের শুরুতে পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মোট ৩৫ জন সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য' নামে একটি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করে, যা ঐতিহাসিকভাবে 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' নামে পরিচিত। এর উদ্দেশ্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার আন্দোলনকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, চেয়ারম্যানের বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে সুজাউদ্দিনের নেতৃত্বে ন্যায্য আন্দোলন গড়ে উঠলে তা বন্ধ করার উদ্দেশ্যে চেয়ারম্যান সাহেব সুজাউদ্দিনের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রতারণার মামলা দায়ের করে তাকে গ্রেফতার করান। অন্যায়ভাবে আন্দোলন দমনের লক্ষ্যে নেতার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত এই মিথ্যা মামলার ঘটনাটি পাকিস্তান আমলের আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সাথে সরাসরি সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ আন্দোলনটি ছিল উদ্দীপকের আন্দোলন অপেক্ষা অধিকতর তাৎপর্যপূর্ণ"—উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।

    উদ্দীপকে সুজাউদ্দিনের মুক্তির দাবিতে স্থানীয় জনসাধারণের আন্দোলনের চাপে চেয়ারম্যান মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। এই ঘটনার সাথে পাকিস্তান আমলে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকের আন্দোলনটি ছিল কেবল একটি নির্দিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের অর্থনৈতিক বৈষম্য ও স্থানীয় নেতা সুজাউদ্দিনের মুক্তির দাবিতে সীমাবদ্ধ একটি স্থানীয় আন্দোলন। পক্ষান্তরে, ১৯৬৮ সালে আগরতলা মামলার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসি দেওয়ার ষড়যন্ত্র শুরু হলে ১৯৬৯ সালে সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে এসে এক দুর্বার গণ-অভ্যুত্থান গড়ে তোলে। আসাদ, ড. শামসুজ্জোহা, সার্জেন্ট জহুরুল হকের মতো বীর সেনানীদের রক্তের বিনিময়ে পাকিস্তান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

    এই আন্দোলনের তাৎপর্য ছিল সুদূরপ্রসারী। এর মাধ্যমেই স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের দীর্ঘ এক দশকের শাসনের পতন ঘটে এবং ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা গ্রহণ করে সাধারণ নির্বাচন দিতে বাধ্য হন। ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান বাঙালি জাতীয়তাবাদের চূড়ান্ত বিকাশ ঘটায়, যার ধারাবাহিকতায় ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়। সুতরাং, একটি স্থানীয় আন্দোলন অপেক্ষা সমগ্র জাতির মুক্তির পথ প্রশস্তকারী ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানটি ছিল অপরিমেয়ভাবে অধিকতর তাৎপর্যপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন