ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২১
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
১৯৫৬ সালের ১ জানুয়ারি সুদান ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। ভৌগোলিকভাবে সুদান উত্তর ও দক্ষিণ এ দু'ভাগে বিভক্ত। গোটা সুদানের খনিজ তেলের শতকরা ৭৫ ভাগই দক্ষিণ সুদানে অবস্থিত। সুদানের রাজস্বের ৯৮ ভাগ আসে দক্ষিণ সুদানের এই খনিজ তেলের অর্থ থেকে। সুদানের ভূখণ্ডের উত্তর অংশের বেশির ভাগ এলাকা। মরুভূমি। কিন্তু দক্ষিণ সুদান অনেক উর্বর ও প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর।। অথচ এই প্রাকৃতিক ও কৃষিজাত সম্পদ থেকে অর্জিত আয়ের বৃহৎ অংশ উত্তর সুদানের উন্নয়নে ব্যয় হয়। এছাড়াও সামরিক ও প্রশাসনিক বৈষম্যের ফলে দুই অঞ্চলের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বাধে। পরবর্তীতে ২০১১ সালের ৯ জুলাই সুদান ভেঙে 'গণতান্ত্রিক দক্ষিণ সুদান' নামে আরেকটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
- ক)(1)
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
- খ)(2)
মুক্তিযোদ্ধাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত সুদানের বৈষম্যের সাথে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার কোন কোন বৈষম্যের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের দক্ষিণ সুদানের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির তুলনায় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছিল অর্থনৈতিকভাবে আরও বেশি সমৃদ্ধ- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে মোট ১১টি প্রশাসনিক ও সামরিক সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের জীবনের মায়া ত্যাগ করে দেশকে শত্রুমুক্ত করতে সর্বাত্মক আত্মত্যাগ করেছিলেন বলেই তাঁদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বলা হয়। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম নির্যাতন ও গণহত্যার বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণ, ছাত্র, কৃষক ও সৈনিক অস্ত্র হাতে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁদের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও অসীম বীরত্বের বিনিময়ে আমরা একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ লাভ করেছি। জাতির স্বাধীনতা আনয়নে তাঁদের এই অবদান অতুলনীয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত সুদানের বৈষম্যের সাথে পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে বিদ্যমান অর্থনৈতিক, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৈষম্য এবং সামরিক ও প্রশাসনিক বৈষম্যের স্পষ্ট মিল রয়েছে।
১. অর্থনৈতিক ও রাজস্ব বৈষম্য: দক্ষিণ সুদানের খনিজ তেলের অর্থ দিয়ে উত্তর সুদানের উন্নয়ন হতো। একইভাবে পূর্ব পাকিস্তানের পাট ও কৃষিপণ্য রফতানি থেকে সিংহভাগ বৈদেশিক মুদ্রা আয় হতো, কিন্তু সেই আয়ের বড় অংশ পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়ন ও শিল্পায়নে ব্যয় করা হতো।
২. প্রশাসনিক ও সামরিক বৈষম্য: সুদানের মতো পাকিস্তানেও সামরিক ও সরকারি চাকরিতে বাঙালিদের প্রতিনিধিত্ব ছিল নগণ্য। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও সিভিল সার্ভিসের উচ্চপদগুলোতে প্রায় সবটাই ছিল পশ্চিম পাকিস্তানিদের নিয়ন্ত্রণে।অতএব, পূর্ব পাকিস্তানের সম্পদ লুণ্ঠন করে পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়ন এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে বৈষম্য তৈরির দিকটি উদ্দীপকে বর্ণিত সুদানের পরিস্থিতির সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান দক্ষিণ সুদানের চেয়েও সামগ্রিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও মানবসম্পদের দিক দিয়ে অত্যন্ত সমৃদ্ধ ছিল—উক্তিটি যথার্থ।
দক্ষিণ সুদান মূলত একটি একক প্রাকৃতিক সম্পদ (খনিজ তেল)-এর ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছিল বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় পরিপূর্ণ:
১. পাট ও কৃষি সম্পদ: পূর্ব পাকিস্তানের সোনালী আঁশ খ্যাত 'পাট' ছিল গোটা পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান উৎস (শতকরা ৫০-৭০ ভাগ পর্যন্ত)। এছাড়া চা, চামড়া ইত্যাদি অর্থকরী ফসল থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হতো।
২. বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার ও মানবসম্পদ: পূর্ব পাকিস্তানে সুদানের মতো কেবল অনাবাদি এলাকা ছিল না, বরং এখানে ছিল অত্যন্ত উর্বর পলল মাটি এবং কঠোর পরিশ্রমী ও বিশাল জনসংখ্যা, যা শক্তিশালী কৃষি ও শিল্প অর্থনীতির ভিত গড়ে তুলেছিল।
৩. বৈদেশিক সাহায্য ও অভ্যন্তরীণ আয়: আন্তর্জাতিক সাহায্য ও পূর্ব পাকিস্তানের রফতানি আয়ের সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তানের সিন্ধু ও পাঞ্জাবের শিল্প কারখানা, বন্দর ও রাজধানী ইসলামাবাদের চাকচিক্য বৃদ্ধিতে ব্যয় করা হতো।সুতরাং, দক্ষিণ সুদানের অর্থনীতি কেবল তেলের ওপর নির্ভরশীল হলেও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনীতি ছিল কৃষি, অর্থকরী ফসল ও বিপুল মানবসম্পদ দ্বারা সমৃদ্ধ, যা সামগ্রিকভাবে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশের চেয়েও বেশি অর্থবহ ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও