ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২১
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
ঈদি আমিন চরম স্বৈরাচারী শাসক হিসেবে কুখ্যাত ছিলেন। সামান্য সৈনিক হিসেবে জীবন শুরু করে একদা উগান্ডার ক্ষমতা দখল করেন। দেশে হত্যা, গুম, হুমকি সন্ত্রাস নিত্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। তার অত্যাচারে ভিন্নমত পোষণকারীরা উগাণ্ডা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
- ক)(1)
মুসোলিনি কে ছিলেন?
- খ)(2)
মিত্রশক্তি জোট কী? বুঝিয়ে লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকের শাসকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন শাসকের মিল আছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত শাসকের উত্থানের পশ্চাতের কারণগুলো কী ছিল বলে তুমি মনে কর? বিশ্লেষণ কর ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুসোলিনি ছিলেন ইতালির ফ্যাসিবাদী একনায়ক ও প্রধানমন্ত্রী।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তি বা বিপক্ষ জোটের আগ্রাসন প্রতিহত করার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহৎ রাষ্ট্রসমূহের সামরিক ও রাজনৈতিক জোটকে 'মিত্রশক্তি' (Allied Powers) বলা হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে প্রধান মিত্রশক্তি ছিল ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া (পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র যুক্ত হয়)। একইভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও অক্ষশক্তি (জার্মানি, ইতালি, জাপান)-র বিরুদ্ধে ব্রিটেন, ফ্রান্স, সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে মিত্রশক্তি জোট গঠিত হয় এবং এ জোট যুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের স্বৈরশাসক ঈদি আমিনের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ইতালির ফ্যাসিস্ট শাসক বেনিতো মুসোলিনি কিংবা জার্মানির নাৎসি শাসক এডলফ হিটলারের মিল রয়েছে (বিশেষত জার্মানির চরম স্বৈরাচারী শাসক এডলফ হিটলারের সাথে)।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ঈদি আমিন একজন সাধারণ সৈনিক থেকে ক্ষমতা দখল করে উগান্ডায় চরম স্বৈরতন্ত্র, হত্যা, গুম ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন এবং বিরোধী মতাবলম্বীদের দেশত্যাগে বাধ্য করেন। হিটলারও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের একজন সাধারণ ল্যান্স কর্পোরাল সৈনিক ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি স্বৈরাচারী একনায়ক হয়ে ওঠেন। তিনি 'গেস্টাপো' নামক গুপ্ত পুলিশ বাহিনী ও এসএস বাহিনীর মাধ্যমে বিরোধী দল, বুদ্ধিজীবী এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের নির্মমভাবে হত্যা, গুম ও নির্যাতন করেন। তাঁর বর্বর অত্যাচারের শিকার হয়ে আলবার্ট আইনস্টাইনসহ লক্ষ লক্ষ মানুষ জার্মানি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
অতএব, সাধারণ সৈনিক থেকে উত্থান, বিরোধী মতের ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতন, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস এবং মানুষকে দেশত্যাগে বাধ্য করার স্বৈরাচারী আচরণের দিক থেকে উদ্দীপকের শাসকের সাথে হিটলারের (কিংবা সমধর্মী ফ্যাসিস্ট শাসক মুসোলিনির) গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত স্বৈরাচারী শাসক (হিটলার/মুসোলিনি)-এর ক্ষমতা দখলের পেছনে তৎকালীন সংকটময় রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছিল। এ উত্থানের পশ্চাতের প্রধান কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. অপমানজনক চুক্তি ও জাতীয় হতাশা: প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ভার্সাই চুক্তি ছিল অত্যন্ত অপমানজনক ও অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংসাত্মক। এটি জার্মান জাতির আত্মমর্যাদায় চরম আঘাত হানে, যা হিটলারের উগ্র জাতীয়তাবাদী প্রচারণার ক্ষেত্র তৈরি করে।
২. অর্থনৈতিক সংকট ও মহামন্দা: ১৯২৯ সালের বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মহামন্দার ফলে জার্মানি ও ইতালি মারাত্মক সংকটে পড়ে। কলকারখানা বন্ধ হয়ে যায় এবং কোটি কোটি মানুষ বেকার হয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষের এই ক্ষোভ ও ক্ষুধাকে স্বৈরাচারী দলগুলো পুঁজি করে।
৩. ভাইমার প্রজাতন্ত্রের রাজনৈতিক দুর্বলতা: যুদ্ধোত্তর জার্মানির দুর্বল গণতান্ত্রিক সরকার (ভাইমার রিপাবলিক) আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে ব্যর্থ হয়। ফলে জনগণ একজন কঠোর ও শক্তিশালী নেতার সন্ধান করছিল।
৪. সমাজতন্ত্র ভীতি ও বুর্জোয়াদের সমর্থন: রাশিয়াতে বলশেভিক বিপ্লবের পর ইউরোপজুড়ে সাম্যবাদের বিস্তার ঠেকাতে ধনী পুঁজিপতি, ব্যবসায়ী ও সামরিক অভিজাতরা হিটলার ও নাৎসি পার্টিকে অকাতরে অর্থ ও সমর্থন দিতে শুরু করে।
৫. উগ্র জাতীয়তাবাদ ও আবেগীয় বক্তৃতা: হিটলার তাঁর জাদুকরী ও আবেগঘন বক্তৃতার মাধ্যমে জনগণকে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে আকৃষ্ট করেন।পরিশেষে বলা যায়, জাতীয় অপমান, অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং তৎকালীন রাজনৈতিক শূন্যতাই এই কুখ্যাত একনায়কের উত্থানের পটভূমি তৈরি করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও