ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২১
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব রশিদ হক ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে রাজ্যের শান্তি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য পূর্বের শাসকের নিযুক্ত প্রাদেশিক গভর্নরদের বরখাস্ত করেন। সুলেমান খান নামক গভর্নর ব্যতীত সকল গভর্নর তার নির্দেশের প্রতি সম্মান দেখান। তাছাড়া গভর্নর সুলেমান খান পূর্বের শাসন কর্তার সময়ে যেসব সরকারি সম্পত্তির মালিক হয়েছিলেন নতুন শাসনকর্তা রশিদ হক তা রাজকোষে ফিরিয়ে দিলে উক্ত শাসনকর্তা ও গভর্নর সুলেমান খানের মধ্যে এক সংঘর্ষ শুরু হয়।
- ক)(1)
কত খ্রিষ্টাব্দে উষ্ট্রের যুদ্ধ সংঘটিত হয়?
- খ)(2)
খারেজি কারা? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সংঘর্ষ দ্বারা তোমার পঠিত কোন সংঘর্ষের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে উক্ত যুদ্ধের ফলাফল মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উষ্ট্রের যুদ্ধ ৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সিফফিনের যুদ্ধে (৬৫৭ খ্রি.) হযরত আলী (রা.) ও মুয়াবিয়ার (রা.) মধ্যে মীমাংসার জন্য নিযুক্ত সালিশি বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে হযরত আলী (রা.)-এর দল ত্যাগকারী উগ্রপন্থি দলটিকে 'খারেজি' বলা হয়। 'খারেজি' শব্দের অর্থ 'দলত্যাগী' বা 'বিদ্রোহী'। তারা 'আল্লাহ ছাড়া কোনো ফায়সালাকারী নেই'—এই স্লোগান তুলে হযরত আলী (রা.) এবং মুয়াবিয়া (রা.) উভয়ের বিরুদ্ধেই বিদ্রোহ ঘোষণা করে এবং চরমপন্থি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মতবাদ গ্রহণ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত সংঘর্ষ দ্বারা খলিফা হযরত আলী (রা.) ও সিরিয়ার গভর্নর হযরত মুয়াবিয়া (রা.)-এর মধ্যকার 'সিফফিনের যুদ্ধ' (৬৫৭ খ্রি.)-এর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
চতুর্থ খলিফা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর হযরত আলী (রা.) প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে পূর্ববর্তী খলিফা হযরত উসমান (রা.) কর্তৃক নিযুক্ত প্রাদেশিক গভর্নরদের অপসারণের নির্দেশ দেন। কিন্তু সিরিয়ার গভর্নর মুয়াবিয়া (রা.) খলিফার নির্দেশ অমান্য করে আনুগত্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি হযরত উসমান (রা.)-এর হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি তোলেন এবং বায়তুল মালের সম্পত্তি ও সিরিয়ার ওপর কর্তৃত্ব বজায় রাখেন। এর ফলে হযরত আলী (রা.) ও মুয়াবিয়া (রা.)-এর মধ্যে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে এবং শেষ পর্যন্ত ৬৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ইউফ্রেটিস নদীর তীরে সিফফিনের প্রান্তরে ঐতিহাসিক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
উদ্দীপকের নতুন শাসক রশিদ হকের গভর্নর বরখাস্ত করা এবং সুলেমান খান নামক গভর্নরের নির্দেশ অমান্য করে সম্পত্তি নিয়ে সংঘর্ষে জড়ানোর বিষয়টি খলিফা হযরত আলী (রা.) ও মুয়াবিয়ার মধ্যকার এই দ্বন্দ্ব ও সিফফিনের যুদ্ধের সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে ইঙ্গিতকৃত সিফফিনের যুদ্ধের ফলাফল ছিল মুসলিম উম্মাহর রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও মারাত্মক। নিচে এ যুদ্ধের ফলাফল বিশ্লেষণ করা হলো:
১. খিলাফতের বিভক্তি ও দুর্বলতা: সিফফিনের যুদ্ধে হযরত আলী (রা.)-এর বাহিনীর বিজয় আসন্ন হলেও মুয়াবিয়ার সৈন্যদের বর্শার ডগায় কুরআন শরিফ বেঁধে সালিশির প্রতারণাপূর্ণ আহ্বানের ফলে যুদ্ধ থেমে যায়। পরবর্তীতে দুমাতুল জান্দালের বিতর্কিত সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে হযরত আলী (রা.) রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং মুয়াবিয়া (রা.)-এর ক্ষমতা সুসংহত হয়। ফলে মুসলিম খিলাফত কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
২. খারেজি সম্প্রদায়ের উদ্ভব: সালিশি মেনে নেওয়ার কারণে হযরত আলী (রা.)-এর দল থেকে প্রায় বারো হাজার সৈনিক দলত্যাগ করে খারেজি নামে এক চরমপন্থি দলের জন্ম দেয়। তারা পরবর্তীতে ইসলামের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী সন্ত্রাস ও অরাজকতা সৃষ্টি করে। পরিশেষে একজন খারেজির (ইবনে মুলজিম) আঘাতেই হযরত আলী (রা.) শাহাদাতবরণ করেন।
৩. উমাইয়া রাজতন্ত্রের সূচনা: সিফফিনের যুদ্ধ ও পরবর্তী ঘটনাবলির ফলেই ইসলামের গণতান্ত্রিক ও শূরানির্ভর খিলাফত ব্যবস্থার অবসান ঘটে এবং উমাইয়া রাজবংশ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।
পরিশেষে বলা যায়, সিফফিনের যুদ্ধ মুসলিম জাহানে অনৈক্য, সংঘাত ও গৃহযুদ্ধের এমন এক অধ্যায়ের সূচনা করে, যা মুসলিম উম্মাহর সংহতিকে চিরতরে বিনষ্ট করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও