ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২১
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
খসরুশাহ সিনাই রাজ্যের সিংহাসনে আরোহণ করে উত্তরের হেলমান্দ রাজ্যে বেশ কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করে প্রত্যেকবারই ব্যর্থ হন। পরে তিনি রাজ্যজয়ের নেশায় দক্ষিণের হিরাত সাম্রাজ্য আক্রমণ করে প্রথমবার পরাজিত হন। কিন্তু দ্বিতীয়বার অভিযান পরিচালনা করে হিরাত সাম্রাজ্যের সম্রাট বিজয় সিংহকে পরাজিত ও নিহত করে হিব্রাত অধিকার করে সেখানে শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ক)(1)
কোন মুসলিম সেনাপতি সর্বপ্রথম সিন্ধু বিজয় করেন?
- খ)(2)
'শাহনামা' কী? ব্যাখ্যা, করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের খসরুশাহের হেলমান্দ ও হিরাত অভিযানের সাথে প্রাক-সালতানাত যুগের কোন শাসকের অভিযানের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
খসরুশাহের মতো সাদৃশ্যপূর্ণ শাসকও অধিকৃত অঞ্চলে স্থায়ী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন- উক্তিটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুসলিম সেনাপতি মুহম্মদ বিন কাশিম সর্বপ্রথম সিন্ধু বিজয় করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'শাহনামা' হলো মহাকবি ফেরদৌসী রচিত পারস্যের পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক রাজাদের বীরত্বগাথা নিয়ে লিখিত একটি বিশ্ববিখ্যাত মহাকাব্য। সুলতান মাহমুদ গজনভির পৃষ্ঠপোষকতায় কবি ফেরদৌসী প্রায় দীর্ঘ ৩০ বছর পরিশ্রম করে ৬০ হাজার শ্লোকের এই অমর ফারসি মহাকাব্যটি রচনা করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের খসরুশাহের অভিযানের সাথে প্রাক-সালতানাত যুগের শাসক সুলতান মুইজুদ্দীন মুহম্মদ ঘুরির (মুহম্মদ ঘুরি) ভারত অভিযানের সাদৃশ্য রয়েছে।
মুহম্মদ ঘুরি ভারতে সাম্রাজ্য বিস্তারের লক্ষ্যে ১১৭৮ খ্রিস্টাব্দে গুজরাটের চালুক্য রাজা দ্বিতীয় মূলরাজের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে পরাজিত ও ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে ১১৯১ খ্রিস্টাব্দে তরাইনের প্রথম যুদ্ধে তিনি রাজপুত রাজা পৃথ্বীরাজের নিকট পরাজিত হন। কিন্তু তিনি হতোদ্যম না হয়ে পরের বছর অর্থাৎ ১১৯২ খ্রিস্টাব্দে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে পৃথ্বীরাজকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত ও নিহত করে উত্তর ভারতে মুসলিম সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন। উদ্দীপকে খসরুশাহের প্রথম অভিযানে ব্যর্থতা এবং পরবর্তী অভিযানে হিরাত রাজ্যের সম্রাটকে পরাজিত ও নিহত করার ঘটনার সাথে মুহম্মদ ঘুরির তরাইনের যুদ্ধের ঘটনার স্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের খসরুশাহের মতো সাদৃশ্যপূর্ণ শাসক সুলতান মুহম্মদ ঘুরিও ভারতবর্ষে স্থায়ী মুসলিম শাসনের ভিত্তি স্থাপন করতে সক্ষম হন—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ।
সুলতান মুহম্মদ ঘুরির পূর্বে সুলতান মাহমুদ ভারতে একাধিক সফল অভিযান পরিচালনা করলেও তিনি সাম্রাজ্য বিস্তারে আগ্রহী ছিলেন না; তাঁর উদ্দেশ্য ছিল মূলত ধনসম্পদ আহরণ। পক্ষান্তরে, মুহম্মদ ঘুরি তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে (১১৯২ খ্রি.) বিজয়ের মাধ্যমে উত্তর ভারতে মুসলিম আধিপত্য কায়েম করেন। তিনি দিল্লি ও আজমির অধিকার করে তাঁর বিশ্বস্ত সেনাপতি ও প্রতিনিধি কুতুবউদ্দিন আইবকের ওপর বিজিত অঞ্চলের শাসনভার অর্পণ করেন। পরবর্তীতে এই বিজয়ের ধারাবাহিকতায় ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে দিল্লিতে স্থায়ীভাবে 'দিল্লি সালতানাত' প্রতিষ্ঠিত হয়। সুতরাং, খসরুশাহ যেমন দ্বিতীয় অভিযানের পর হিরাত অধিকার করে স্থায়ী শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তেমনি মুহম্মদ ঘুরিও অধিকৃত ভারতে স্থায়ী মুসলিম শাসনের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও